দেশে কোন বিচার নেই আইন নেই বাড়ছে ধর্ষণ-নির্যাতন,খুন,হত্যা,আত্মহত্যা

0

জিসাফো ডেস্কঃযে দেশে  ধর্ষণের বিচার নেই।সরকারের জবাবদিহিতা নেই। জনগণের ভোটাধিকার নেই। সাধারণ মানুষের ঘাম ঝড়ানো অর্জিত হাজার-হাজার কোটি টাকা ক্ষমতাশালী চক্রের বিদেশে পাচার। বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষক। ধর্ষকরাই যে দেশের হর্তকর্তা। সে দেশে বিচার না পেয়ে আত্মহত্যাই যেন স্বাভাবিক ঘটনা। রাস্তায় বেড় হলে নিজের মানিব্যাগটা নিয়ে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা নেই। শুধু তাই নয় নিজের ঘরে শান্তি মত ঘুমানোর কোন অবকাশ নেই। চারদিকে অবৈধ দাপটশালী-সন্ত্রীদের জয়জয়কার। অন্যদিকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের অনিশ্চয়তা-হাহাকার বেড়েই চলছে। উন্নয়নের জোয়ারের নামে সর্বত্রই চলছে ক্ষমতাসীনদের হরিলুট। ঠেকাবে কে? সর্ষের মধ্যেই যে ভুত! দেশে প্রতিটি মানুষ আজ কোন না কোনভাবে ধর্ষিত! কেউ শারিরীক কেউ মানসিক কেউ অর্থিক। নিয়ন্ত্রণহীন পুরো সমাজ-রাষ্ট্র। যে যেভাবে পাচ্ছে লুটেপুটে খেয়ে সমস্ত অর্থ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে।দেশে কোন বিচার নেই আইন নেই

দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়তই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন বয়সী নারীরা। কিন্তু এর বেশির ভাগেরই বিচার হচ্ছে না বলে ধর্ষণ বেড়েই চলছে।গত ৫ বছরে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন শিশু এবং ৩ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন : আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে বিচার প্রার্থীরা আইনের আশ্রয় নেয়ার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মানবাধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন একের পর এক ঘটছে ধর্ষণ-নির্যাতন,খুন,হত্যা,আত্মহত্যার ঘটনা।.

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১২ সালে ৮৬ জন, ২০১৩ সালে ১৭৯ জন, ২০১৪ সালে ১৯৯ জন, ২০১৫ সালে ৫২১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ চিত্র থেকেই স্পষ্ট- প্রতিবছরই শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৬৮৬টি শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ইভ টিজিং, যৌন হয়রানীসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ২০১৫ সালে সারা দেশে ৭২৭টি শিশু যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। তবে তাদের জরিপ অনুসারে ২০১৫ সাল থেকেই শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪তে সর্বমোট ২২৪টি শিশু যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। নারীর প্রতি মাত্রা ছাড়া নির্মমতায় হতবাক বিবেকবান মানুষ। ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ৪ বছরের শিশু থেকে কিশোরীরা। শুধু তাই নয় ধর্ষণের পর পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনেই দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে এ ধরণের নির্মম নিষ্ঠুরতা। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু ও নারী অপহরণ,ধর্ষণ  এবং খুনের ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে,গত ৫ বছরে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন শিশু এবং ৩ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন । ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এছাড়া আইনি সীমাবদ্ধতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, লোকলজ্জা এবং পুলিশ ও সমাজের প্রভাবশালীদের অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে বিচার প্রার্থীরা আইনের আশ্রয় নেয়ার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
পুলিশ সদর দপ্তরসূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলার সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৮৭টি। এসব মামলার ৬০ শতাংশেই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া ছাড়াও বাকিগুলো তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এছাড়া  ২০১৫ সালে দেশে নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২১ হাজার ২২০টি। এসব মামলার ৮০ শতাংশ চার্জসিট দেয়া হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে রাজধানীতে নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৯৫টি। জিডি হয়েছে ১ হাজার ৪৮৬টি। ২০১৬ সালে ৭২৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬ বছরের কম বয়সী শিশু ৬২ জন, ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৭৮ জন এবং ১৩ থেকে আঠারো বছর বয়সীর সংখ্যা ২৫১ জন। অর্থাৎ ধর্ষণের শিকার হওয়া প্রায় সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। আসক-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যাদের ২০ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ রকম বিভিন্ন সংস্থার হিসাবেও  যে ধর্ষণের মতো নির্মম ঘটনার শিকার হওয়াদের অধিকাংশই শিশু।২০১৫ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৯৮০টি। এ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে ৭০০ টি।গত এক মাসে দেশে ধর্ষিত হয়েছে ২৪৫ নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৮৭টি শিশু। গণধর্ষণের শিকার হন ৩৫ নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৭ জনকে। পারিবারিক কলহে আপনজনের হাতে খুন হন ১২৬ নারী। যৌতুকের বলি ২৩ নারী, নির্যাতন করা হয় ৮৫ জনকে। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন ৫ জন। খুন হয় কোমলমতি ১৫টি শিশু।