দেশে অবিলম্বে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন বিকল্প নাই : বেগম খালেদা জিয়া

0

 জুল আফরোজ মজুমদার, লন্ডন : লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে, ৫ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন নৈতিক ভিত্তি নেই। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশে একটি নির্বাচন জরুরি। শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র  নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

লন্ডন পৌঁছার তিন দিনের মাথায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাক্ষাৎ দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় কিংস্টোনের বাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক  ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ   বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রায় দেড়ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশ একটি কঠিন সময় পার করছে। দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন নেই। বিচারবিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। দেশে কোনো সুবিচার আশা করা যায় না। প্রতিবাদ করলে  জেল জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিএনপি এবং ২০ দলীয়  জোটের নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন, গুম অব্যাহত রয়েছে। বেগম খালেদা  জিয়া খুন, গুমসহ বর্তমান সরকারের সকল অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। দেশে গুম দিবস পালন করতে সরকার বাধা দিয়েছে উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, সরকার বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে কিন্তু তাদের দলের মধ্যেই অনেক জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে।

বৃটিশ ভিসা সেন্টার ভারতে স্থানান্তরে বাংলাদেশীদের ভিসা পেতে নানা সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে বেগম জিয়া ভিসা সেন্টার পুনরায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে জোর তৎপরতা চালাতে নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে নেতৃবৃন্দ যুক্তরাজ্যে বিএনপির কার্যক্রম ও তৎপরতা  বেগম জিয়াকে অবহিত করলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার এম এ সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এম লুৎফুর রহমান, আক্তার হোসেন, মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরী মামুন, আনোয়ার হোসেন খোকন, শেখ শামসুদ্দীন শামীম, প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন।