দেশের মানুষ সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকটের নিরসন চায় : মির্জা ফখরুল

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ সংলাপের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকটের নিরসন চায়। রাষ্ট্রপতি যখন বলেছেন, সংলাপ করা উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। রাষ্ট্রপতি যদি আন্তরিকভাবে কথাটি বলে থাকেন, তাহলে তিনি সত্যি কথা বলেছেন। আজ বুধবার বিকেলে বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা আলোচনা চাই, সংলাপ চাই। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হোক, এটাই আমরা চাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আগেই প্রধানমন্ত্রী সেটা নাকচ করে দিয়েছেন। আমি জানি না, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আজকে সরকারের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়েছে কি না। সে কথা আমরা বলতে পারি না। শুধু এটুকু বলতে চাই যে রাষ্ট্রপতি কথাটি যদি সত্যিকার আন্তরিকভাবে বলে থাকেন, তিনি সত্যি কথা বলেছেন। দেশের মানুষ সংলাপের মধ্যে দিয়ে এই রাজনৈতিক সংকটের নিরসন চায়। ’

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে উদ্যোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেটাকে অন্তঃসারশূন্য বলে নাকচ করে দিলেন। তারপর রাষ্ট্রপতি যখন আমাদের ডাকলেন, আমরা একটু অবাকই হয়েছি যে সরকারি দল আলোচনা করতে চায় না, প্রেসিডেন্ট সাহেব ডাকলেন কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি না, সে ডাকার মধ্যে কোনো ছলচাতুরী আছে কি না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আন্তরিকতার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সাহেব ডেকেছেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি একটি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি গঠন করবেন। যার মধ্যে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আগের মতোই আবার মেরুদণ্ডবিহীন সরকারের বশংবদ একটি নির্বাচন কমিশন হবে, যা কোনো দিন এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ’

ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাস করে না। আপনারা সন্ত্রাস তৈরি করে বিএনপির ওপর দোষারোপ করেন। আমরা ভুলে যাইনি, ১৯৯৬ সালে কেয়ারটেকারের আন্দোলনের সময় বাসে গানপাউডার ঢেলে ১১ জন মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন। ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলেন। সচিবালয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য মানুষের কাপড় খুলে নিয়ে বেইজ্জতি করেছিলেন। আমরা সে কথা ভুলে যাইনি। ’

এ ছাড়াও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু ব্যক্তি হিসেবে নয়, আমার কাছে তিনি রাষ্ট্রের ভাগ্য পরিবর্তনের একজন নায়ক হিসেবে পরিচিত। সব মানুষকে চলে যেতে হয়, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ তাঁদের কাজের মধ্যে দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকেন তাঁদের কালজয়ী দর্শন, কাজ, চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমান সে ধরনেরই একজন নায়ক। তিনি একটি জাতির জন্মের জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, সেই জাতিকে তার নিজস্ব পরিচিতি দেওয়ার জন্য একটি দর্শন দিয়েছিলেন এবং সেই জাতিকে গঠন করার জন্য তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। ’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও সেলিমা রহমান, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।