‘দেশের দুই দুঃসময়ের কাণ্ডারি ছিলেন জিয়া’-বিশেষ সাক্ষাতকারে মির্জা ফখরুল

0

জিসাফো ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে রোববার। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও থেকে ওঠে আসা এই নেতা। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকা কলেজের অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার মৃত্যুর অনেক পরে ১৯৮৮ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। দুই মেয়াদে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০১১ সালের মার্চে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করলে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় ৮৪টি মামলার আসামী হয়ে ৮ বার তিনি কারাবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এমন একটা সময়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পান, যখন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিএনপি সবচেয়ে দুঃসময় পাড়ি দিচ্ছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জিয়া ও তার রাজনৈতিক আদর্শ’ সম্পর্কে জানতে রাজধানীর উত্তরার ৭ নং রোডের ২৩ নং বাসা কুসুমিতিতে পূর্বপশ্চিম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখোমুখি হওয়া হয়। তিনি বলেছেন, জিয়ার কর্মমুখর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে; পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মামলা, জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ, মোসাদ ইস্যু ও দলের সাংগঠনিক বিষয়েও তিনি অনেক কথা বলেন।

প্রশ্ন: জিয়ার আদর্শের দল বিএনপি। জিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৭ বছর পর তার গড়া দলে কোন অনুপ্রেরণায় যোগ দিয়েছিলেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার আদর্শ-ই বিএনপিতে যোগ দিতে আমাকে অনুপ্রাণিত করে। কারণ জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে দুই দুঃসময়ের কাণ্ডারি ছিলেন। প্রথমটা মুক্তিযুদ্ধের সময়। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে এ দেশের মানুষে ভোটে বিজয়ী দলটিকে পাকিস্তানের শাসকরা রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষমতা না দেওয়াতে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা-বঞ্চনার কারণে বাংলাদেশের মানুষেরা ছিল ক্ষুব্ধ। তারা যে কোনো মূল্যে পাকিস্তানের দমন নীতি থেকে মুক্তি পেতে চাইছিল। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পাকিস্তানি সেনারা যখন বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়লে দিশেহারা সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখাতে এগিয়ে আসেন তিনি। এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার ঘোষণা, স্বশস্ত্র যুদ্ধের ডাকএবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধের আহবান জিয়ার মুখ থেকেই শুনেছিল। তার আহবানের পরই জাতি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। এ ইস্যুটা ছিল জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জাতির জন্য। তখন তার নামটা গোটা জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। মেজর জিয়া, মেজর জিয়া।

দ্বিতীয়বার তিনি কাণ্ডারি হন দেশের আরেক দুঃসময়ে। ১৯৭৫ সালে যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে দেশে আরেকটি নৈরাজ্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল গভীর হতাশা। ওই বছর ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে অাবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। অত্যান্ত শক্ত হাতে সেই সময়কার রাজনৈতিক সংকট আর সেনাবাহিনীর বিপর্যস্ত-বেহাল অবস্থা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এজন্য তাকে সামরিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তণ করেছিলেন। জিয়ার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম ছিল, কিন্তু তার ছিল গভীর প্রজ্ঞা আর দেশপ্রেম। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মমুখর জীবন ও দেশপ্রেমের প্রতি সবসময়ই আমার ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ। তার গড়ে তোলা দল বিএনপিতে যুক্ত হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।

প্রশ্ন: আজকের প্রজন্ম জিয়াউর রহমানকে দেখেনি, কিন্ত জিয়ার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে জানে। তিনি মানুষের কাছে কেন এত জনপ্রিয় ছিলেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: পথহারানো মানুষকে কোনো ব্যক্তি যদি তার পথ দেখিয়ে দেন, সেই ব্যক্তি অবশ্যই পথের দিশা পাওয়া মানুষটির প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠবেন। জাতীয় জীবনের দুটি চরম সংকটকালে কিংকর্তব্যবিমূঢ জাতিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার কঠিন দায়িত্ব পালন করেন। জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষকে যদি ঐক্যবদ্ধ করা যায় তাহলে জাতি অনেক দূর সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। বিভক্তি নয়, ঐক্য- এটাই ছিল তার রাজনৈতিক দর্শন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে নিজস্বতা নিয়ে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্যই তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি বিদেশী রাষ্ট্রগুলো সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী ছিলেন, কারো প্রভুত্ব মেনে নেননি। জিয়ার দেশপ্রেম আর সততাও মানুষকে মুগ্ধ করেছিল। এসব কারণেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি ওইসময় অতান্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন, এবং এখনো এদেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে। শত চেষ্টা করলেও জিয়ার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া যাবে না।

প্রশ্ন: জিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দেশের অগ্রগতিতে তার ভূমিকা সম্পর্কে বলুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: দেশ স্বাধীন হওয়ার গণমানুষের সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়। যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তা হতাশায় রূপান্তরিত হতে থাকে। পচাঁত্তর সালের আগে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো কেড়ে নেওয়া হয়। প্রবর্তন করা হয় এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা। ওই সময় নিজেদের আওয়ামী লীগসহ দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে বিলুপ্ত করে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। যেটা ছিল এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার পরিপন্থি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম থাকলেও প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি দেশের মানুষের আকঙ্খা উপলব্ধি করেন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এলেন। মানুষ আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করে। একই সাথে দেশে অর্থনৈতিক সংকট বিরাজ করছিল; দুর্ভিক্ষ হয়েছে, বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে এবং ব্যক্তি মালিকানায় কিছুই হচ্ছিল না। সেটাকে তিনি দূর করে মুক্ত বাজার চালু করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সত্যিকার অর্থে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল করে দিলেন। দুর্ভিক্ষ হয়েছিল ৭৪ সালে, তিনি আসার ফলে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ কেটে গেল। বিনোয়োগ শুরু হল, খালকাটা কর্মসূচি পালন করে কৃষিতে তিনি বিপ্লব ঘটিয়ে ছিলেন।

দেশকে স্বনির্ভর করার পথে এগিয়ে দেন জিয়া। পররাষ্ট্র নীতিতে তিনি ছিলেন আধিপত্যবাদ বিরোধী। বিদেশী দেশগুলো সঙ্গে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন। দেশের জন্য তিনি রাতদিন পরিশ্রম করেছেন।এত বেশি কাজ করতে পারতেন তিনি, যে সকাল থেকে শুরু করে রাত ২-৩টা পর্যন্ত কাজ করতেন। মানুষের মাঝে চলে গিয়েছিলেন জিয়া। জনগণের সাথে তার গভীর সর্ম্পক তৈরি হয়েছিল। এ কারণেই জিয়াউর রহমান মানুষের কাছে এত প্রিয়। জিয়া যদি দেশের সংকটে এগিয়ে না আসতন তাহলে বাংলাদেশ একটা ফেইল স্টেটে পরিনত হত। বিশ্লেষকেরা তা স্বীকার করে বলেছেন, জিয়াউর রহমানের প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশ অনেক বাঁধা অনেক চক্রান্ত ওভারকাম করতে সক্ষম হয়েছিল।

প্রশ্ন: জিয়াউর রহমানকে কেন হত্যা করা হয়েছিল?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বাংলাদেশের মত দেশগুলো যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যায়; সমৃদ্ধি অর্জন করে তাহলে কিছু কিছু দেশ, বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠি অসন্তুষ্ট হয়, তাদের স্বার্থপূরণে ব্যাঘাত ঘটে। আমি মনে করি জিযাউর রহমান যখন দেশকে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, দেশবিরোধী শক্তি তাতে শঙ্কিত হয়ে ওঠে। দেশের শত্রুরাই তাকে হত্যা করেছে।

প্রশ্ন: জিয়া হত্যার বিচার হলো না কেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: জিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীদেরই ষড়যন্ত্র করে মেরে ফেলা হয়েছে। একটি মামলা আছে যা আজও শেষ হয়নি। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা মামলার নথিপত্র নষ্ট করে ফেলেছে বলে শুনেছি। একাধিকবার তদন্তে উদ্যোগ নেয়া হলেও নথিপত্রের হদিস না মেলাতে মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। অনেকেই সন্দেহ করেন, জিয়া হত্যার পর যারা সেই সময়ে দায়িত্বে ছিলেন তারাই সব ডকুমেন্টস নস্ট করে ফেলেছেন, এর কারণ হলো তাদেরও ফেঁসে যাওয়ার ভয় ছিল, তারাও এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

প্রশ্ন: এবার সাম্প্রতিক প্রসঙ্গে আসা যাক, একদিকে আসলাম চৌধুরীর মাধ্যমে ইসরাইলের সাথে বিএনপিকে জড়িয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের একটি ইস্যু তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে ইসরাইলের সাফাদির বৈঠকের খবরও প্রকাশ হয়েছে- এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির কোন সর্ম্পক নেই। বিএনপি নীতিগতভাবেই প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতায়, সার্বভৌমত্বে অধিকারে বিশ্বাস করে। ইসরায়েল প্যালেস্টাইনের উপর যে আক্রমন , আগ্রাসন চালায় তার বিরোধীতা সব সময়ে করে আসছে। এ ব্যাপারে আমাদের রাজনৈতিক বক্তব্য খুব পরিস্কার। আসলাম সাহেব নিজেই বক্তব্য দিয়েছেন তিনি নিজের ব্যবসাতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সঙ্গে সাফদির পরিচয় হয়েছে। সাফাদি নিজেও সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হঠাৎ করেই আসলাম চৌধুরীর সাথে দেখা হয়েছে। বিবিসিও সেটা পরিস্কার করেছে। এমনকি সাফাদি যাদের আমন্ত্রনে গিয়েছিল ভারতের রোলিং পার্টি তারাও বলেছে এখানে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।

সরকারের সমস্যটা হচ্ছে বিএনপিকে তারা সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মনে করে। তারা জানে বিএনপি যদি মাঠে থাকে , বেগম খালেদা জিয়া যদি মাঠে থাকেন তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনে কোনদিনই আসা সম্ভব হবে না। সুতরাং এ ধরনের মিথ্যা কথা বলে, প্রচারণা করে তারা বিএনপিকে ম্লান করতে চায়, হেয় করতে চায়। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের কাছে ছোট করতে চায়। কিন্তু প্রকৃত সত্যটা বেরিয়ে আসছে। এখন সাফাদি উল্টো বলছেন, , সজীব ওযাজেদ জয়ের সঙ্গে তার কথা হযেছে । সাফাদির সঙ্গে জয় কথা বলাটা যদি ইসরায়েলকে পক্ষে নিয়ে ষড়যন্ত্র না হয় চক্রান্ত না হয়, তাহলে আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে হঠাৎ করে দেখা হওযায় ষড়যন্ত্র হবে কোথা থেকে। বন্ধুদেশ ভারত তার মাতৃভূমিতে ওপেন সেমিনার হচ্ছে, সেখানে আবার আগ্রার মেয়র উপস্থিত আছেন। সেই জায়গায় এ আসলাম সাহেব চক্রান্ত করার সুযোগ পায় কিভাবে। আসলে ইচ্ছা করেই আওয়ামী লীগ সব সময়ে পানি ঘোলা করে মাছ শিকারে অবস্থা। এবং সেটা করেই তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

প্রশ্ন: জঙ্গিবাদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: আমরা পরিস্কার করে বলেছি, বিএনপি উগ্রপন্থা বা জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করি না। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমাদের জন্ম হয়েছে সেভাবে। আমরা কাজ করেছি। যতবার আমরা ক্ষমতায় এসিেছ নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই এসেছি। কারো সঙ্গে আঁতাত করে নয়, চক্রান্ত করে নয়। বরং চক্রান্ত করে আমাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৯৮২ সালে বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাত্তার সাহেবকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সামরিক অভুদ্যান করে এরশাদ তাকে সরিয়ে দিয়েছে। একই ভাবে ১/১১ তে নিয়ম মাফিক, সংবিধান অনুযায়ী যে সরকার ছিণ অন্তবর্তকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকেও সরিয়ে দিয়ে একটা ২ বছরের জন্য অস্থায়ী সরকার নিয়ে আসা হয়েছিল।

এগুলো কিন্তু বিএনপি কখনও করে নাই। কেউ প্রমান করতে পারবে না বিএনপি কোন চক্রান্তের সাথে জড়িত হয়ে ক্ষমতায় আসছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়ে। এটিই ছিল বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি এখনও জনগণই বিএনপির শক্তি। সুতরাং বিএনপি কোন জঙ্গি বা সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোন চক্রান্ত্রের প্রশ্নই আসে না। আর বিএনপি এগুলো বিশ্বাসও করে না। সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে এগুলো প্রচার করে কারণ তাদের রাজনীতি নীতি বলে কিছু নেই। তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিএনপিকে যত বেশি দোষ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। এই হচ্ছে বড় সমস্যা। সরকার মিথ্যা বলছে ফলে যারা জঙ্গি, সন্ত্রাসের সাথে জড়িত তাদেরকে সনাক্ত করতে পারছে না। বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে উদোর পিন্ডি বূধের ঘারে চাপিয়ে দিতে চায়।

আসলে দেশে গণতন্ত্র না থাকায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বাড়ছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ যত সংকোচিত করা হবে ততো দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ত্রাসের ক্ষেত্রটা আরো বিরাট হবে। রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের স্বার্থে এবং বর্তমান সরকারের স্বার্থে গণতন্ত্রে ক্ষেত্রটা আরো সম্প্রসারিত করা দরকার। সংকোচিত করা নয়।