দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রত্নগর্ভা মায়ের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0

২০০৮ সালে ১৮ জানুয়ারী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া , তার দুই সন্তান তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কারাগারে বন্ধী । হঠাৎ একটি খবর তাঁদের মুষড়ে দেয় । হৃদরোগে আক্রান্ত তৈয়বা মজুমদার (৮৭) শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে মারা যান “ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” । শুক্রবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে মায়ের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান ও উপ-মহাপরিদর্শক মেজর সামসুল হায়দার ছিদ্দিকী সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে গিয়ে তাকে খবরটি জানান। পরে সামসুল হায়দার ছিদ্দিকী কেন্দ্রীয় কারাগারে তারেক রহমান ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আরাফাত রহমানের সঙ্গে দেখা করে তাদের নানীর মৃত্যু সংবাদ জানান। খবর শুনেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সবাই ।

রত্না গর্ভা তৈয়বা মজুমদার আর দুই ছেলে হচ্ছেন সাঈদ এস্কাদার ও শামীম এস্কান্দার এবং তিন মেয়ে মরহুমা খুরশিদ জাহান হক (চকলেট আপা ) , সেলিমা রহমান (বিউটি) এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া । তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমানের এর প্রিয় নানীজান ।

১৯ তারিখ শনিবার হেলিকপ্টারটি বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে নামে। একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কফিনটি সাড়ে ৪টায় শহীদ মইনুল রোডের বাসায় নিয়ে আসা হয়।

তৈয়বা মজুমদারের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়া, তারেক ও আরাফাতকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার নাতি ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে মইনুল রোডে নিয়ে আসা হয়। বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটে তিনি বাসায় পৌঁছে।একটি হুইল চেয়ারে করে কালো গেঞ্জি ও অফ হোয়াইট প্যান্ট পরিহিত আরাফাত বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। নানীর মরদেহের পাশে নিয়ে যাওয়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।জনাব আরাফাত ৫টা ৪৮ মিনিটে মইনুল রোড ত্যাগ করেন। করেন। নানীকে শেষবারের মতো দেখার জন্য তারেককে পরদিন দুপুর ১২টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। শাহবাগ থানায় নিয়ে ৪ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বিকাল ৪টায় ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসায় নানীর মৃতদেহের কাছে তাকে নেয়া হয়। নিজের ভগ্ন শরীর নিয়ে প্রিয় নানীকে দেখে সেদিন তারেক রহমান অনেক কাঁদলেন। কাঁদালেন উপস্থিত সবাইকে। বিকাল ৫টা ৫২ মিনিটে। সাদা পাজামা ও পাঞ্জাবি পরিহিত তারেক বাসায় এক ঘণ্টা থাকেন। এরপর সন্ধ্যা ৭ টা ২৫ মিনিটে তারেককে কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মইনুল সড়কে নানী তৈয়বা মজুমদারের জানাজায় অংশও নেন তিনি। সেনানিবাসে ওই জানাজায় কয়েকশ লোক অংশ নেয়। জানাজা পরিচালনা করেন মাওলানা জয়নাল আবেদিন। ফতারের ১৩৮ দিন পর ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মইনুল রোডের বাসায় গিয়ে মায়ের মৃতদেহ দেখেন। দেশ নেত্রীর কান্নায় সেই দিন উপস্থিত সকলেই অশ্রু সজল হয়ে উঠেন । সেই দিন সরকার পরিবারের সকল সদস্য কে এক সাথে শোক পালন করতে দেয় নাই এমনকি সরকার তাদের কাউকেই পরস্পরের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। ২০ জানুয়ারী স্থানীয় শেখ ফরিদপুর গোরস্থানে স্বামী ইস্কেন্দার মজুমদার ও কন্যা সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হক চকলেট এর সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

তৈয়বা মজুমদার ১৯২০ সালে ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিলিগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মরহুমা তৈয়বা মজুমদার দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক পরিবারের কর্ণধার হয়েও তিনি সাধারন মানুষের মত জীবন যাপন করতেন। আরাম আয়েস ছেড়ে তিনি সবসময় নিপীড়িত অবহেলিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি সরাসরি কোন রাজনৈতিক দল করতেন না। তিনি জীবনের চল্লিশটি বছর মানুষের সেবায় কাজ করে গেছেন। ২০০৩ সালে দিনাজপুর উপশহর এলাকায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে ইউনিটের ৬২ ডেসিমেল জমির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম ব্লাডব্যাংক যা বর্তমানে তৈয়বা মজুমদার রেডক্রিসেন্ট ব্লাডব্যাংক নামে প্রসিদ্ধ লাভ করে। এখানে স্বল্প খরচে দুস্থদের জন্য রক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়। এতে উপকৃত হয় দুস্থ ও স্বল্প আয়ের মানুষরা।

অন্যদিকে ১৯৮৭ সালে ব্যক্তিগত মাত্র ৪ হাজার টাকার মূলধন নিয়ে দিনাজপুর শহরের বালুবাড়িতে পল্লীশ্রী নামে আরও একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। যেখানে নারী অধিকার, অবহেলিত নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ ভাগ্য উন্নয়নে কর্যক্রম রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আর উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। আমবাড়ি ও কমলপুরে রয়েছে তাদের নিজেস্ব ভবন। এছাড়াও মুখ ও বধির ইনস্টিটিউটের পরিচালনার দায়িত্ব তিনি পান। তাঁর প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানে ৫ তলা ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। মুখ ও বধির ছাত্রদের পুঁথিগত শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা হয়। তাঁর প্রচেষ্টায় রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও মহিলা বহুমূখী শিক্ষাকেন্দ্রের কাজের গতি ফিরে আসে।

দিনাজপুরের বিশিষ্ট্য সমাজসেবী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাতা তৈয়বা মজুমদারের ১০ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মহান আল্লাহ্ তালার কাছে আর্জি মরহুমার ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন।

আমিন।

 

লিখা

লাঞ্ছিতা বাংলাদেশ

জাহিদ হাসান