দেশনেত্রীর জামিন শুনানী এবং অতঃপর-

0

দীর্ঘ একটি সময় পর আজ,৮ মে ২০১৮ তারিখে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মুলক মামলায় সরকারের হীন নকশা অনুযায়ী নিম্ন আদালতের একটি স্তম্ভিত করা রায়ে কারাবন্দী মাদার অফ ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির ধার্যকৃত দিন। এ দিনটি নিয়ে অনেক কথা, অনেক জল্পনা কল্পনার ছড়াছড়ি প্রায় প্রতিটি মানুষের মনে।

প্রশ্ন ঘুরে ফিরে একটাই, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কারাবন্দী নেত্রীকে কি জামিন দিবে এই সরকারের আজ্ঞাবহ আদালত? ধরুন সব সংশয় কাটিয়ে,জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সবকিছু বিবেচনা করে আদালত জামিন মঞ্জুর করল, তারপর? কি মনে হয়, বিশাল মিছিল,জনস্রোত ঘিরে নেত্রীকে নিয়ে নেত্রীর নির্দেশিত কোন স্থানে যাবেন?

যদি কেউ আইন আদালত সম্পর্কে নূন্যতম ধারনা রাখেন তবে এরকম একটা অবস্থা কল্পনাও করবেন না।করবেন না কারন আরো দুটি মামলায় দেশনেত্রী কে কারাবন্দী রাখবে শোন এরেস্ট দেখিয়ে।সুতরাং সেগুলোতে যদি জামিন না হয় তবে আগামীকাল কল্পিত জামিন এর মেয়াদ হয়ত কারাবন্দী অবস্থায় ই উর্ত্তীর্ন হয়ে যাবে।

যেটা আসলে মূখ্য বিষয়- দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশংকিত সকলের মতই কারা কর্তৃপক্ষ ও কোন এক অজানা কারনে শংকিত হয়ে কদিন আগেই দেশনেত্রী কে বেসরকারি ইউনাইটেড অথবা এপোলো হসপিটাল এ ভর্তি করে চিকিৎসা দেবার জন্য একটি চিঠি দেয় বলে সকল গনমাধ্যমেই এসেছে। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে এ সংক্রান্ত নুন্যতম ব্যাবস্থা গ্রহন না করে সরকার জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক দের চিকিসায় সন্দেহ প্রকাশ করার মত নীচ মনোভাব দেখালো। এখন গুরুত্বপূর্ণ কোনটা, কাল নেত্রীর জামিন মঞ্জুর হয়েও পেন্ডিং মামলায় আবারো কারাবন্দী হওয়া? নাকি মামলায় জামিন না দিলেও দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া? প্রথমত জামিন যদি আদালত দেয়ই তবে আদালত এই মামলায় হাসপাতালে নেবার জন্য কোন ডাইরেক্টিভ দিতে পারবেনা,কারন জামিন তো মঞ্জুর করেছেই, আবার পেন্ডিং মামলা যেহেতু কাল শুনানী হচ্ছে না এবং এই বেঞ্চেও হচ্ছেনা তাই সে মামলাগুলো সংক্রান্ত কোন কথাই এই আদালত বলবে না এবং বলতে পারেও না। তাই জামিন মঞ্জুরের পর যদি বাকি দুটি মামলায় আটক থাকেন দেশনেত্রী তাহলে আসলে এই জামিনের নুন্যতম কোন ভ্যালু আছে বলে আমার অন্তত মনে হয়না।

তবে, আদালত যদি আজ এই মামলায় জামিন নাও মঞ্জুর করেন,কিন্তু নির্দেশনা দেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা স্বাপেক্ষে কারাগারে প্রেরন না করে সরাসরি মনোনীত হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হোক আমি মনে করি তাতেও অন্তত নেত্রী চিকিৎসা তো পাবেন। তবে এরকম আদেশ আনতে গেলেও বিজ্ঞ আইনজীবী দের প্রস্তুতি থাকতে হবে এক্সট্রিম লেভেলের।জানিনা সেটা উনাদের আছে কিনা। নেত্রী গত পরশুদিন ৫ আইনজীবী দের সাথে সাক্ষাতে বলেছেন -” আদালত কে বলবেন আমি গুরুতর অসুস্থ” এ কথাটি ১৬ কোটি বাংলাদেশী ও বিশ্ববাসী বিশ্বাস করলেও এই আদালত, এই সরকার এটা নিয়ে হাস্যরসের মত বিকৃত মানসিকতা রাখে বলেই এতদিন প্রমান পেয়েছি।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা যেহেতু বলেছে তাহলে তো সে কথা মিথ্যা, এরকম স্টেটমেন্ট দেবার জন্য অনেক আওয়ামী নেতাই হয়ত গলা ঝেড়ে চলেছে। তবে বিজ্ঞ আইনজীবীগন কি কারা কর্তৃপক্ষের পাঠানো – নেত্রীর চিকিৎসার জন্য করা সুপারিশ পত্রটির কোন কপি সংগ্রহে রেখেছেন?

আপনাদের বড় বড় আইনের বইয়ে এমন কোন ধারা কি পেয়েছেন যা দিয়ে ৭৪ বছর বয়স্ক একজন স্বামী সন্তান হারা নির্যাতিত মানুষ কে একটি মৌলিক অধিকার যার নাম “চিকিৎসা” সেই অধিকার টি নিশ্চিত করা যায়?

সময় ই বলে দেবে ভবিতব্য…………..

লেখা

ফাইজাল এস খান