দুপুরের মধ্যেই ভোট শেষ বরিশালে!

0

বরিশাল : বরিশালের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আজ মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় ভোটগ্রহণ। অনেক স্থানে ব্যালট না থাকায় ফিরে গেছেন ভোটার। কোথাও আবার ভোটারের ‘কষ্ট হবে’ ভেবে এজেন্টরাই সিল মেরে দিয়েছেন ব্যালট পেপারে। এমন নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে সরেজমিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে।

বরিশাল নগরীর উপকন্ঠ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়ন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় এই ইউনিয়নের ১৪ নম্বর বিল্ববাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন আনসার সদস্য এবং পুলিশ দাড়িয়ে আছেন। কেন্দ্রের মাঠ একেবারে ফাঁকা। নেই ভোটারদের লাইন। সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলা থেকে নৌকা প্রতীকের কয়েকজন কর্মীকে তড়িঘড়ি করে নেমে যেতে দেখা গেল। তারা নৌকা প্রতীকে সিল মারছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায় একজন বৃদ্ধ ভোটার অপেক্ষা করছেন, কিন্তু ব্যালট নেই। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. শওগাতুল আলম জানান, ওই কেন্দ্রের মোট ভোটার ১ হাজার ৩০জন। দুপুর ২টার মধ্যে ৮০ ভাগ ভোট কাস্ট (জমা) হয়েছে। তাহলে বৃদ্ধ ওই ভোটার ব্যালট পাচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

দুপুর আড়াইটায় উজিরপুর উপজেলার বরাকোটা ইউনিয়নের বরাকোটা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে গিয়েও দেখা মেলেনি কোন ভোটারের। ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মো. রুবেল জানান, বরাকোটা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে দুপুর আড়াইটার মধ্যে মোট ভোটের ৮০ ভাগ কাস্ট (জমা) হয়েছে।

ভোট শেষ হওয়ার এক ঘন্টা আগে বিকেল ৩টায় সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের তিলক কলাডেমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, কোন অপেক্ষমান ভোটার নেই। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ২শ’ ৪৪জন। বিকেল ৩টার মধ্যে কাস্ট (জমা) হয়েছে ৯০৫ ভোট। অর্থাৎ ৭৫ ভাগ। ভোটারশূণ্য কেন্দ্রে এত ভোট কিভাবে কাস্ট হলো জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এই চিত্র শুধুমাত্র বিল্ববাড়ি, বরাকোটা ডিগ্রী কলেজ কিংবা তিলক কলাডেমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের নয়। সকালের দিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা ফাঁকা হতে থাকে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই আর জালভোটের মহোৎসবের কারনে সকাল ১১টার পর থেকেই কেন্দ্রেগুলো ফাঁকা হতে থাকে। এই সুযোগে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, দায়িত্বরত পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মিলে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সিল মারতে থাকে। তাই দুপুরের মধ্যেই ব্যালট বাক্স ভরে যায়।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি রাস্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর এম. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। নির্বাচনের আগের রাতেই ফলাফল রেডি হয়ে ছিল। এটা ভোটবিহীন নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোটার প্রয়োজন হয় না। ভোট দিতে গেলেও মার খেতে হয়। এটা নিয়ে দুঃখ-বেদনার কিছু নেই। এটা গনতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। দেশকে পুরোপুরি গনতন্ত্রহীনতার মধ্যে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।