দুঃশাসন চালিয়ে ভাববেন না বোধহয় কেউ প্রতিবাদ করবে না,তাহলে সুখস্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আপনারা অত্যাচার করে, নিপীড়ন করে একটা অন্ধকারের নিস্তব্ধতা তৈরি করে ভেবেছেন যে, আর বোধহয় কেউ প্রতিবাদ করবে না, আর কেউ আওয়াজ তুলবেনা। আপনারা দুঃশাসন চালিয়ে যাবেন- এটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে সুখস্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। একদিন সেই সুখস্বপ্ন ভেঙে যাবে। খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর দেয়া বক্তব্যকে ‘মুসায়েবীপনা’ বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার দুপুরে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এসব বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে চন্দন রহমানের লেখা ‘খোঁচা’ ছড়ার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ৯৫ পৃষ্ঠার গ্রন্থের প্রকাশক লাবনী প্রকাশনী। লাবনী প্রকাশনীর প্রকাশক কার্টুনিস্ট ইকবাল হোসেন সানুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুল আউয়াল খান, বাহারউদ্দিন বাহার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, গ্রন্থের লেখক ছড়াকার চন্দন রহমান বক্তব্য রাখেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে তিন লাফ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আরো বাড়িয়ে বলছেন যে, খালেদা জিয়ার শাস্তি হবেই। আরে আপনি যে এ কথা বলছেন, আপনি কী মনে করছেন- এদেশের মানুষ আপনার হিংসাশ্রয়ী কথা, আপনার মন্ত্রীত্ব ঠিক রাখার কথা, প্রধানমন্ত্রীকে খুশি রাখার কথা, মোসায়েবীপনার কথা ভুলে যাবে?

জনশ্রুতি আছে, বিভিন্ন জায়গায় কথা আছে, কাজী আরেফ আহমেদ (জাসদ নেতা) হত্যাকান্ডের সাথে আপনি জড়িত, এটা মানুষ ভুলে যায়নি। এটিকে স্মরণ রেখে কথা বলবেন তথ্যমন্ত্রী সাহেব। আপনি অনেকবার আজেবাজে কথা বলেছেন শুধুমাত্র মন্ত্রিত্ব বজায় রাখার জন্য, প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। এই খুশি করে যারা চলে তারা কিন্তু ঠিকতে পারে না, ঠিকে না।

আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘আদালতকে প্রভাবিত করছেন’ মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আদালতের কী রায় দিলো না দিলো সেটা আদালতের বিষয়। সেটা বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। কিন্তু রায়ের একটি আগাম আভাষ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী দিচ্ছেন জার্মানির মিউনিখ থেকে। সুতরাং বলা যায়, তিনি করায়ত্ব করছেন, তিনি আদালতকে প্রভাবিত করছেন এবং তার কথাই আদালত কাজ করবে- এটাই সুস্পষ্ট। কিন্তু এই ১৬ কোটির দেশের এটি সম্ভব নয়। আপনারা (সরকার) অত্যাচার করে, নিপীড়ন করে একটা অন্ধকারের নিস্তব্ধতা তৈরি করে আপনারা ভেবেছেন যে, আর বোধহয় কেউ প্রতিবাদ করবে না, আর কেউ আওয়াজ তুলবে না। আপনারা দুঃশাসন চালিয়ে যাবেন- এটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে সুখস্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। একদিন হুর হুর করে সেই সুখস্বপ্ন ভেঙে যাবে।