দিল্লীর চাপ স্বত্ত্বেও ভারতীয় অস্ত্র কিনতে আপত্তি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর

0

শেখ হাসিনার ভারত সফর বার বার বাতিল হওয়ার এবং সর্বশেষ আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে তা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার রহস্য নিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে লিখেছেন সুবির ভৌমিক। দিল্লির কর্তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ট বলে পরিচিত সুবিরের নিবন্ধটির শিরোনাম- “Keener On Arms From China, Bangladesh Dithers On Defence Pact With India” .

অর্থাৎ, “চীন থেকে অস্ত্র কিনতে আগ্রহী, তাই ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের দ্বিধা”।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাথে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আগ্রহী। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভারতের প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, দিল্লী চায় চীন থেকে না কিনে ভারত থেকে অস্ত্র কিনুক বাংলাদেশ। কিন্তু সেনাবাহিনীর কথা হচ্ছে, ভারত নিজেই বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করে। এর অর্থ তারা নিজেরাই নিজেদের অস্ত্রকে মান সম্পন্ন মনে করে না। এমতাবস্থায় ভারত থেকে অস্ত্র আনতে রাজি নন বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তারা।

তারা বলছেন, নেপাল এবং মিয়ানমার এর আগে ভারত থেকে অস্ত্র কেনে সমস্যায় পড়েছিল। কিন্তু দিল্লী নাছোড়বান্দা। তারা বাংলাদেশকে চীন থেকে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে দেবে না। এমনকি গত দু মাস আগে চীন থেকে কেনা সাবমেরিনের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন দিল্লীর কর্তারা। তাদের কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের সাবমেরিন লাগবে কেন?

এ অবস্থায় শেখ হাসিনা পড়েছেন বড় চাপে। এক দিকে তিনি সেনাবাহিনীর বিষয়াদিতে সেনা কর্তৃপক্ষের মতামতকেই গুরুত্ব দিতে চান। তাদেরকে বিগড়িয়ে কিছু করতে চান না। অন্য দিকে দিল্লীকেও বিগড়াতে পারবেন না তিনি। দক্ষিণ পাড়া আর উত্তর পাড়াকে সন্তুষ্ট রাখা তার জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে উঠছে। আবার আছে চীনেরও চাপ। গত বছর ২৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে বেইজিংয়ের সাথে। এদিকে দৃষ্টি দিয়ে বেইজিংকেও সন্তুষ্ট রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা সমাধান হিসেবে আপাতত চাচ্ছেন ভারতের সাথে ২৫ বছর মেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এখনই না হয়ে পরে হউক। এখন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে সেনাবাহিনী ও দিল্লী উভয়কেই সন্তুষ্ট রাখতে চান তিনি। প্রথম দিকে এতে দিল্লী রাজি না হলেও এখন কিছুটা নমনীয় হয়েছে। এর বিনিময়ে শেখ হাসিনা শিগগিরই মূল চুক্তি করার আশ্বাস দিয়েছেন।