দিল্লিতে আনা হয়েছে ভারতের আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ছোটা রাজনকে

0

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে গ্রেফতার হওয়া ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ছোটা রাজনকে দিল্লিতে আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবি আইয়ের সদর দফতরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার ভোর ৫টা ২০ নাগাদ তাকে বালি থেকে দিল্লিতে আনা হয়। বিশেষ কমান্ডো প্রহরায় তাকে সকাল ৬টার সময় সিবি আইয়ের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে সিবি আই, আইবি এবং ‘র’ কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

ছোটা রাজনের আসল নাম রাজেন্দ্র নিকালজে। ৫৫ বছর বয়সী কুখাত এই অপরাধীর বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক পাচারসহ অন্তত ৭৫টি অভিযোগ রয়েছে। ১৯৮৮ সালে তিনি ভারত ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যান। গত ২৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া থেকে মোহন কুমার ছদ্মনামে জাল পাসপোর্ট নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন ছোটা রাজন। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ থাকায় বালি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপরেই ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তৎপরতায় তাকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়।

মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার খানিকটা আচমকাভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ছোটা রাজন সংক্রান্ত সমস্ত মামলা সিবি আইয়ের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব কে পি বক্সী জানান, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সিবি আইয়ের দক্ষতা থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর তদন্তভার সিবি আইয়ের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।’

সূত্রে প্রকাশ, ছোটা রাজনের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা মুম্বাই পুলিশের হাত থেকে সরিয়ে সিবি আইয়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

মুম্বাই পুলিশের একাংশ তার শত্রু  দাউদ ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ছোটা রাজন। মুম্বাইয়ের জেলখানায় রাখা হলে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ছোটা রাজন।   

এদিকে, মুম্বাইতে ছোটা রাজনের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা সিবি আইয়ের হাতে তুলে দেয়ায় পুলিশের একাংশের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি এই পদক্ষেপে তাদের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, আসলে সরকারের এই পদক্ষেপে সমগ্র বাহিনীকে নিরুৎসাহিত করেছে যারা শহরে বার বার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাজকর্মকে দমন করেছে। বিশ্বে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড পুলিশের পরেই মুম্বাই পুলিশের সিটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের স্থান রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।