দিনশেষে নির্বাচনী সহিংসতায়: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯

0

জিসাফো ডেস্কঃ পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘর্ষে বিকেল পর্যন্ত প্রার্থী ও একজন পুলিশ সদস্যসহ ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে তিনজন জামালপুরে, চট্টগ্রামে মেম্বার প্রার্থীসহ দুইজন, কুমিল্লায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দুই সমর্থক নিহত হয়েছেন। অপরদিনে নড়াইল জেলাধিন একটি ইউপিতে নির্বাচনী কর্তব্য পালনকালে সংঘাতে এক ফারুক নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বক্স ছিনতাইসহ সংঘাতে আহতের সংখ্যা কয়েকশত ছাড়িয়েছে।

শনিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এতে ৩ হাজারেরও চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রায় ৩০ হাজার প্রার্থীর মধ্যে থেকে নিজেদের পছন্দসই জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন ভোটাররা।

পঞ্চম দফায় ছয়জনসহ এ নিয়ে ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১০ জনে। গত বৃহস্পতিবার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এক সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে গত চার ধাপে সারাদেশে নির্বাচনী সংঘাতে প্রাণ গেছে অন্তত ১০১ জনের। ওই হিসাবে শনিবারের এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে ৬ জনের মৃত্যু নিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা উন্নীত হলো ১১০ জনে।

ভোটগ্রহণের আগে থেকেই কারচুপি ও সহিংসতা শুরু হয়।
এর ফলে অন্তত ৫৩ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্তত ৪০ চেয়ারম্যান প্রার্থী কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন।

জামালপুরে নিহত চার
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দুই আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খোটারচর ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- শেখপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মাজেদ, একই গ্রামের সাত্তারের ছেলের নুরুল ইসলাম (২০), পুতুবের চর গ্রামের আমজাদ হাজির ছেলে নবম শ্রেণির নবীরুল ইসলাম ও একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে জিয়া (২৫)।
সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচ পুলিশ ও এক আনসার সদস্য রয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ ৫ জন হলেন- আফতাব, মাহমুদুর, খুদু মিয়া, সখিজল শফিক, জাকিউল। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জামালপুর হাসাপতালে ভর্তি হয়েছেন।

নোয়াখালীতে নিহত দুই
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গুলিতে এক কিশোর এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালানোর সময় এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।
উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নে বাংলাবাজার কেবি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. শাকিল (১৬)।

শাকিল জিরতলী ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মো. মিলনের ছেলে।
তার দাদা মো. হারুন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রের বাইরে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘গুলি ছুড়লে’ শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।শাকিলকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের গুলিতে শাকিলের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সেখানে কোনো গুলি ছোড়েনি, তাই পুলিশের গুলিতে শাকিলের মারা যাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এদিকে রাজগঞ্জ ইউনিয়নের দারুল উমল ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনে র‌্যাবের ধাওয়া খেয়ে সবার সঙ্গে পালানোর সময় দেয়ালে মাথায় আঘাত পান সৈয়দ আহম্মদ নামে (৬০) এক ব্যক্তি।তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান বেগমগঞ্জ থানার ওসি সাজিদুর রহমান সাজেদ।

চট্টগ্রামে নিহত দুই
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় মো.ইয়াছিন নামে এক মেম্বার প্রার্থীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো অনেকে। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কর্ণফুলী থানার বড়উঠান ইউনিয়নে মো.ইয়াছিন নামে এক মেম্বার প্রার্থী ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরো দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।শনিবার দুপুর ১টার দিকে বড়উঠান ইউনিয়নের শাহ মীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
নিহত ইয়াছিন বড়উঠান ইউনিয়নের ৬ নম্বর শাহ মীরপুর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া শরীফ (৩২) ও আলম (২০) নামে দুজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও তিনি জানান।
সংঘর্ষের জেরে আহত মোহাম্মদ হোসেন (৫০) নামে আরো একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এই নিয়ে ওই সংঘাতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুইজনে।

এদিকে, পটিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এক কেন্দ্রে সংঘর্ষের সময় ‘হৃদরোগে’ বাবুল শীল (৬৫) নামে এক ভোটারের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।আশিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদ আলী ফকির মাজার সংলগ্ন মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সংঘর্ষের সময় মারা যান বাবুল। মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাবুল সেলুনে কাজ করতেন।
পটিয়া থানার ওসি রেফায়েত উল্লাহ বলেন, ভোট দিতে আসা ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে জানান ওসি।
তবে বাবুল শীলের ছেলে জিতেন শীল বলেন, সদস্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ও নুরুল করিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আমার বাবাকে মারধর করে মেরে ফেলা হয়।জন্য শফিকুল ইসলামের পক্ষের লোকজনদের দায়ী করেন জিতেন।

কুমিল্লায় গুলিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহত
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং পঞ্চম ধাপে ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামালউদ্দিনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ওই ইউনিয়নের নাগেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন প্রাথমিকভাবে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।