দিনভর উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

0

রক্তস্নাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অগ্নিগর্ভ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এক মাদ্‌রাসাছাত্রের নিহতের ঘটনায় গতকাল সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বত্র। ভাঙচুর চালানো হয় রেলওয়ে স্টেশন, দোকানপাট, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় রেললাইনে। নয় ঘণ্টা বন্ধ থাকে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ। শহরে সারা দিনে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ ও ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় শহরের জেলা পরিষদের মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ২ মাদ্‌রাসা ছাত্রের বাদানুবাদ হয়। ওই দোকানি মাদ্‌রাসা ছাত্রকে চড় মারেন। এর জের ধরে মাদ্‌রাসার কয়েকশ’ ছাত্র ওই দোকানে হামলা চালায়। এরপরই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাদ্‌রাসা ছাত্রদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগ দেয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহরের কান্দিপাড়ায় জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্‌রাাসার সামনে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ শতাধিক রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। আহত মাদ্‌রাসার ছাত্র হাফেজ মাসুদুর রহমান (২০) রাত ৩ টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এরপরই গতকাল পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সকাল ৭টা থেকে মাদ্‌রাসার শ’ শ’ ছাত্র-শিক্ষক শহরের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা প্রধান সড়কের বিভিন্নস্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও স্থাপনায় মাদ্‌রাসা ছাত্র ও জনতা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। কোর্ট রোড এলাকায় নতুন চালু হওয়া ব্যাংক এশিয়ার শাখা ভাঙচুর করা হয়। শহরের বিভিন্নস্থানে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে টাঙানো বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়। সকাল ১০টার দিকে রেলপথে অবরোধ সৃষ্টি করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় রেলপথের বিভিন্ন স্থানে। এ সময় রেলস্টেশনের প্রতিটি কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করে তারা। ভেঙে ফেলা হয় কন্ট্রোল প্যানেল। ফলে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে সাহিত্য একাডেমি, তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, শিশু নাট্যম, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পাঠাগার ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গনে। আগুন দেয়া হয় হালদারপাড়াস্থ আওয়ামী লীগের অফিসে। আগুনে এ দু’টি অফিসের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিকালে জেলা সদর হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় পুলিশের রিক্যুজিশন করা একটি গাড়ি। এক র‌্যাব সদস্যকেও মারধর করা হয়।

দিনভর এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ছিল অসহায়। সকালে ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করার পর তা বাড়িয়ে ৬ প্লাটুন করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব। কিন্তু উত্তেজনা কমানো যায়নি কোনভাবেই। বিকাল থেকে যৌথ বাহিনী টহল দিতে শুরু করে। 

নিহত হাফেজ মাসুদুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্‌রাসার ছাত্র। তার সহপাঠীদের অভিযোগ গত রাতে পুলিশ তালা ভেঙে মাদ্‌রাসায় প্রবেশ করে ছাত্রদের উপর হামলা করে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও তাদের সঙ্গে ছিল। তারা দাবি করেন সোমবার সন্ধ্যা রাতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে বেশ কয়েকজন মাদ্‌রাসা ছাত্র আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত হাফেজ মাসুদুর রহমানকে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ স্বীকার করেছে এক মাদ্‌রাসা ছাত্র নিহত হয়েছে। সদর মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, মাসুদ কি কারণে মারা গেছে তা তারা জানেন না। এদিকে সকাল ১০টায় জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্‌রাসায় এক জরুরি বৈঠকে বসে জেলার শীর্ষস্থানীয় আলেমরা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা আজ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেন।

হেফজখানায় অভিযান: সোমবার রাত ১১টার দিকে পুলিশ অভিযান চালায় বড় মাদরাসার নূরানী ও হেফজ বিভাগে। তখনই অনেক ছাত্র নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। তারা দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই অভিযানে অংশ নেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুল হক বলেন- পুলিশ বারবার বলার পর আমরা মাদরাসার ভেতরে চলে যাই। মাদরাসার সব গেট তালাবদ্ধ করে দিই। এরপর তারা তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ছাত্রদের ধরে ধরে নির্যাতন করে। এতে মাদরাসার ৫০/৬০ জন ছাত্র আহত হয় বলে তিনি জানান। সুলতান মাহমুদ নামের এক ছাত্র বলেন, মাসুদ জীবন বাঁচাতে ৩ তলায় গিয়ে উঠেছিল। সেখান থেকে তাকে নামিয়ে এনে নির্যাতন করে পুলিশ। গতকাল মাদরাসায় গিয়ে কথা হয় সামছুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি জানান, তার দুটি গুলি লেগেছে। হকিস্টিক দিয়ে পেটানো হয়েছে তাকে। মাহফুজুল ইসলামের বয়স ১৪/১৫ হবে। হেফজ বিভাগের ছাত্র। মাহফুজ জানায়- সাদা পোশাকের পুলিশ প্রথমে তাকে লাথি মারে। এরপর মাথায় আঘাত করে। তার পাছায় গুলি করে। মাহফুজ বলেন, তখন তারা বলতে থাকে ‘এই বয়সে এসব করস। বল আর করবি কিনা’। এরপর আমার পিঠের মধ্যে লাথি মারে। আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের পোলাপান রড নিয়ে ছাত্রদের যারা আসে তাদেরকেই মারধর করতে থাকে। 

যেভাবে মারা গেল মাসুদ: হেফজ বিভাগের সামনের মাঠে ছিল মাসুদসহ কয়েকজন ছাত্র। রাত ১১টায় পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে মাসুদ দৌড়ে গিয়ে নির্মাণাধীন হেফজ বিভাগের ৩য় তলায় ওঠে। পুলিশও তাকে ধাওয়া করে সেখানে যায়। মাদরাসার ছাত্ররা অভিযোগ করেন, মাসুদকে পুলিশ বুট দিয়ে আঘাত করে। এরপর গুলি করে লাথি মেরে তিন তলা থেকে ফেলে দেয়। রাত পৌনে ২টায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্র জানিয়েছে নিহত মাসুদের বুকে ও কোমরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাসুদের গ্রামের বাড়ি নবীনগরের সেমন্তঘর গ্রামে। তবে তারা শহরের ভাদুঘরে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করতো। তার পিতার নাম ইলিয়াছ মিয়া। সে মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। 

আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠক: এই পরিস্থিতিতে বিকালে হালদার পাড়াস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক জরুরি সভা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের পরিচালনায় এ সভায় ঘটনার জন্য বিএনপি, জামায়াত-জঙ্গিদের দায়ী করা হয়। সভায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের নিন্দা জানানো হয় এবং নিহত মাসুদুর রহমানের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। সভায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকার সরকারি বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মাদরাসা ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, জেলা পরিষদের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাদরাসা ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। সভায় হামলা-ভাঙচুরের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তার কথা উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।

হরতাল প্রত্যাহার: সদর মডেল থানার ২ পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি তাপস রঞ্জন ঘোষ ও ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস প্রত্যাহার হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা দেশে হরতাল প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাত ৮টায় তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মাদরাসায় হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন আমাদের প্রথম দাবি ছিল এই ২ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার। সেটি পূরণ হওয়ায় আমরা হরতাল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি আমরা জানিয়েছে। 

ডিআইজির ক্ষতিপূরণ প্রদান ও চাকরির আশ্বাস: পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার শিক্ষকসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় আলেমদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি নিহত মাদরাসা ছাত্রের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দেন এবং নিহতের পরিবারে পুলিশে চাকরি করার মতো উপযুক্ত কেউ থাকলে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন। এর আগে সদর মডেল থানার ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সভায় আলেমদের পক্ষ থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মাহমুদুল হক ভূইয়া ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের মঙ্গলবার রাত ১২টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। অ্যাডিশনাল ডিআইজি তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। এরপরই হরতাল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। 

১০ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু: সকাল ১০টায় স্টেশনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের পর পূর্বাঞ্চল রেলপথে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রেলপথে বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এর ১০ ঘণ্টা পর রাত ৮টায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন অচল হয়ে পড়ায় বিকল্প উপায়ে ট্রেন চলাচল চালু করা হয়। 

বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের প্রতিবাদ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ইসলামী দল ও সংগঠন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন তারা। খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ ঘটনা প্রমাণ করেছে, সরকার ও প্রশাসনের কিছু লোক মসজিদ-মাদরাসা ও আলেম-ওলামাদের শত্রু মনে করে। তাই তারা মসজিদ-মাদরাসা বন্ধ করতে পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের অদূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল। ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) হাফেজ মাসউদ আহমদ নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের গত টার্মেও বি-বাড়িয়ায় ৬ হাফেজকে শহীদ হতে হয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় মাদরাসা ছাত্রকে শহীদ করা হলো। তিনি বলেন, জামিয়া ইউনুছিয়ার মাদরাসা ছাত্র শহীদ কেন- প্রশাসনকেই তার জবাব দিতে হবে এবং সরকারকে সব দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে। মাদরাসা বন্ধ করে ছাত্রদের শহীদ করে ইসলামের গণজাগরণ ঠেকানো যাবে না। সর্বত্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের আগুন জ্বলে উঠলে সরকারের আখের রক্ষা হবে না। 

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর বি-বাড়িয়ায় মসজিদ-মাদরাসা বন্ধের প্রতিবাদী ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ এবং আওয়ামী সন্ত্রসীদের হামলা, রাজধানীর বাড্ডায় নিমতলী মন্দিরে পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়ানোর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানির প্রতিবাদে রাজধানীর হাউজ বিল্ডিং চত্বর থেকে এইচ এম কাওসার আহমাদের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সমাবেশে ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নূরুল ইসলাম আল-আমীন বলেন, সরকার আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। বাংলার মানুষ ধর্মভীরু, আর যদি এই ধর্মীয় অনুশাসনের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করা হয় তাহলে ইমানদার জনতা বসে থাকবে না। 

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল মোমিন ও মহাসচিব নূর হোছাইন কাসেমী বি-বাড়িয়ার দুঃখজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বি-বাড়িয়ার নাসিরনগরের দুটি মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া এবং ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইউনুছিয়ায় পুলিশ ও সরকার দলীয় ক্যাডারদের হামলা অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং একই সূত্রে গাঁথা। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের ইসলামবিরোধী ভূমিকা দেশের জনগণের কাছে অজানা নয়। এক মাদরাসা ছাত্রকে শহীদ করা এবং অসংখ্য লোককে আহত করার নিন্দা জানাবার ভাষা আমাদের জানা নেই। অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দান ও আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।