“তোরে কুত্তার মতো করে মারা হবে”-প্রচ্ছদ শিল্পী চারু পিন্টুকে কুপিয়ে মারার হুমকি

0

জিসাফো ডেস্কঃ অভিজিৎ, টুটুল ও দীপনের পর এবার কুপিয়ে মারার হুমকি দিয়েছে দুই বাংলার প্রচ্ছদ শিল্পী চারু পিন্টুকে (প্রকৃত নাম আবদুল্লাহ আল কাফি)।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ফ্যান পেজে তাকে হত্যার এ হুমকি দেয়া হয়। এ নিয়ে রাজধানীর আদাবর থানায় বুধবার সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি।

চারু পিন্টুকে হুমকিদাতা বলেছে, ‘তোরে কুত্তার মতো করে মারা হবে। ওরে মুক্তমনা… তোকে কুপিয়ে মারবো… এবার তোর পালা।’ হুমকির পরে ওই আইডি নিষ্ক্রিয় করে দেয় হুমকিদাতা।

চারু পিন্টু জানান, তিনি বিষয়টি আইনশৃংখলা বাহিনীকে জানিয়েছেন। কি কারণে এ হুমকি দেয়া হয়েছে তা জানা নেই। উগ্রপন্থিরা এখন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে টার্গেটে করছে। সেই তালিকায় হয়তো আমাকেও ফেলেছে। কিছুটা অনিরাপদবোধ করছেন বলেও জানান এ প্রচ্ছদ শিল্পী।

তিনি মনে করেন, উগ্রপন্থিরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার পেতে তাকে হত্যার টার্গেট করেছে।

চারু পিন্টু আদাবরে থাকেন। জিডিতে তিনি লিখেছেন, ৩ জুন রাত ১০টা ৩৬ মিনিটে ফেসবুক ফ্যান পেজে অপরিচিত এক আইডি থেকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি তিনি মঙ্গলবার রাতে টের পান। তার ধারণা, কোনো উগ্রপন্থি বা এ হুমকি দিয়েছে। চারু পিন্টু আরও লিখেন, তিনি কোনো ব্লগে লেখালেখি করেন না। বিশ্বাস করেন না নাস্তিকতাও। ধর্মবিদ্বেষী কোনো বিষয়ের সঙ্গেও যুক্ত নন। তবে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী। এ কারণে তাকে মৌলবাদীরা টার্গেট করতে পারে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, চারু পিন্টুর অভিযোগের বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইটি সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের যা করণীয় তাই করা হবে। তাকে হুমকি দেয়ার কারণ অনুসন্ধান চলছে।

পরে চারু পিন্টু ফেসবুকে দেয়া পোস্টে লিখেন, ‘এবার নাকি আমার পালা। মেসেজ দিয়ে আইডি বন্ধ করে রাখছে। কে দিল বুঝতে পারলাম না। আমি ক্যামনে মুক্তমনা হইলাম? আমি তো জীবনেও ব্লগে লিখি নাই। আর ধর্ম নিয়েও কখনও উল্টাপাল্টা বাজে চিন্তাও করি না।’

এরপরই হুমকিদাতার উদ্দেশ্যে চারু লিখেন, ‘আমি হরিদাস পাল না যে কোপাতে আসবি। আমি রেডি আছি, পারলে কোপা আর কোপাতে আসার আগে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসিস। তোর জন্য আমিও রেডি আছি। আমরা কলাগাছের মতো না, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে প্যান্ট পরার আগে থেকেই তোদের সঙ্গে লড়াই করে আসছি। আন্ডার গ্রাউন্ড না হয়ে সামনে আয়। চাপাতি তোর আছে আর আমাদের কি শক্তি নেই? এখন লড়াই আর কারও উপরে ভরসা করে নেই। ভাবিস না তোরা কোপাবি আর আমরা ঘরে বসে রবীন্দ্র সংগীত গাইতে থাকব? বি কেয়ারফুল।