তিনি চলে গেলেন আমাদের কাঁদিয়ে : নির্যাতিত গণতন্ত্র

0

শেষ বার দেখা হয়েছিল কাজি ম্যানশনে, উনার রাজনইতিক জীবনের ইতিবৃত্ত নিয়ে লেখা বইটি আমাদের দেখিয়েছিলেন।বলেছিলেন প্রকাশের পর সফট কপি আমাদের দিবেন।অনেক কিছু বলেছিলেন উনার অভিজ্ঞতা থেকে।আবার ও যাবার কথা ছিল। হ্যা আমি বলছি কিংবদন্তী তুল্য রাজনিতীবীদ “কাজী জাফর আহমেদ” এর কথা। আজ ২৭-০৮-২০১৫ সকাল ৭:০০ টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হস্পিটাল এ আমাদের কে, এই জাতি কে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বন্যাঢ্য রাজনইতিক জিবনের জোয়ার ভাটার দো টানায় শেষ করলেন সব হিসাব নিকাশ।
“সংক্ষিপ্ত পরিচয়ে
কাজী জাফর আহমেদ”
=============== ===
১৯৩৯ সালের ১ জুলাইকুমিল্লার বিখ্যাতচিওড়া কাজী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেনকাজী জাফর আহমদ। মেধাবী ছাত্র হিসেবেকাজী জাফর আহমদখুলনা জেলা স্কুলথেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায়উর্ত্তীণ হন। পরবর্তীকালে রাজশাহী সরকাররি কলেজ থেকেইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর তিনি ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. অনার্স ও এম.এ.(ইতিহাস) পাশ করেন। তিনি আন্তর্জাতিকসম্পর্ক বিষয়ে এম.এ. এবং এল.এল.বি. কোর্সসম্পন্ন করা স্বত্ত্বেও কারাগারেচলে যাওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতেপারেননি।

কাজী জাফর আহমদ ১৯৫৯-১৯৬১ সালে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ইতিহাস সমিতিরসাধারণ সম্পাদক এবং১৯৬০ সালে তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়সংস্কৃতি সংসদেরসাধারণ সম্পাদকছিলেন। বিভিন্নসময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ১৯৬২-১৯৬৩ সালে অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (এপসু) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন ও শরীফ শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে কাজী জাফর আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র জীবন শেষে
কাজী জাফর আহমদ শ্রমিক রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলা
শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন।
১৯৭২-১৯৭৪ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ
খান ভাসানী তখন ছিলেন ন্যাপের চেয়ারম্যান। এরপর ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনাইটেড পিপলস্ পার্টির  (ইউপিপি) প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে চেয়ারম্যান হিসেবে সক্রিয় ভাবে পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্ব ও জাতীয় রাজনীতিতে
কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন।

 

Faizal Khan
তিনি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের শিক্ষামন্ত্রী হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন
থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৯০ সালে তিনি জাতীয় পার্টির সরকারে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বন্দর-জাহাজ ও নৌ- পরিবহন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির
রাজনৈতিক উপদেষ্টা, ১৯৮৯-১৯৯০ সালে বাংলাদেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬-১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের উপনেতা ও ১৯৮৯-১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা ছিলেন। ১৯৮৬-১৯৯৬ পর্যন্ত পরপর তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ
কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ দিন
যাবত কাজী জাফর আহমদ অসুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭ টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ
নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয়  মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের প্রথম জানাযার নামাজ অনুষ্টিত হবে। কাজী জাফরের এপিএস কামরুজ্জামান রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাজী জাফর আহমদের লাশ তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দাফন করা হবে। তবে দাফনের সময় এখনো ঠিক হয়নি বলেও জানান তিনি।

আমরা শোকাহত
এডমিন প্যানেল
জিয়া সাইবার ফোর্স

লেখাটির ফেসবুক লিংক :  https://www.facebook.com/groups/werevolt/permalink/1631817843765220/

 

বি : দ্র: এই লেখাটি ফেসবুক গ্রুপ জিয়া সাইবার ফোস থেকে লেখক নির্যাতিত গণতন্ত্র  অনুমতি স্বাপেক্ষে কপিকৃত । এই পোষ্টের সকল প্রকার দায়দায়িত্ব একমাত্র লেখকের।