তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অপরিণামদর্শী

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে অপরিণামদর্শী বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা  ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত, অত্যন্ত কুরুচিকর, উস্কানিমূলক, ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অপরিণামদর্শী এবং ভয়ংকর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশে পরিপূর্ণ। পুলিশের সামপ্রতিক অভিযান ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ জমেছে তা আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আক্রমণ করেছেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, জঙ্গি দমনের নামে সামপ্রতিক সময়ে গণগ্রেপ্তার ও সংঘটিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গতকাল দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

মির্জা আলমগীর অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিনের গণগ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের যে ক্ষোভ জন্মেছে, সেটিকে আড়াল করতে তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আক্রোশের কারণ হচ্ছে, শেখ হাসিনা হাজারো কুৎসা ও প্রচারণা চালানোর পরও তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মজবুত আসন করে নিয়েছেন, যা অন্য কেউ পারেনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর এ রকম ভাষা প্রয়োগ স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের একটি নতুন দৃষ্টান্ত। তারেক রহমানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েও সরকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে পাগলের প্রলাপ বকে যাচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নাম উল্লেখ করেননি, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাহেব লন্ডনে বসে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীকে নাকি হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও শেখ রেহানাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

মির্জা আলমগীর বলেন, হত্যার জন্য হুমকি-ধামকি এটা বাংলাদেশের শাসক দলের বৈশিষ্ট্য। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে এটি কোনক্রমেই সম্ভব না। এটি বর্তমানে কেবলমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। লন্ডনে বসবাসকারী কোন ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে হত্যার হুমকি দেয়, সেই ব্যক্তি কি আইনের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে?

তিনি বলেন, ব্রিটেনের সরকারি দল কি বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের প্রভু হয়ে বসে আছে? সেখানে কি সরকারি শাসনযন্ত্রকে বাংলাদেশের মতো অপব্যবহার করা হয়? সে দেশে তো আইনের শাসন চলে, আওয়ামী শাসন চলে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জঙ্গি দমনের নামে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যে হিংস্র পাশবিকতা ও দমননীতি চালানো হয়েছে এবং ক্রসফায়ারে হত্যায় যে রহস্য দানা বেঁধেছে সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার জন্যই এ অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। তার বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে বিচ্ছেদ, বিনাশ ও ব্যবধানের মাত্রা বাড়িয়ে তুলবে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা বরাবরই করে এসেছি, এখনো করছি। আমরা এই ধরনের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। অবিলম্বে এটা বন্ধ করা উচিত। মাদারীপুরে শিক্ষক হত্যাপ্রচেষ্টায় গ্রেপ্তার ফাহিমের ক্রসফায়ারে মৃত্যুর ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইন বহির্ভূত ঘটনা। কোনভাবেই রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাকে এভাবে হত্যা করা জাতি মেনে নিতে পারে না। একটা জিনিস পরিষ্কার। তাদের বিচারের আওতায় আনলে প্রকৃত তথ্য জনগণ জানতে পারতো, তাই এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এর সঙ্গে (জঙ্গিদের) সরকার জড়িত। বিএনপির মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করা এবং গুপ্তহত্যার সঙ্গে কারা জড়িত এটা উদঘাটন না করে শুধু বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর রাজনৈতিক নীলনকশার অংশ হিসেবে ক্রসফায়ার দেয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে যেভাবেই হোক বিরোধী দলকে ঘায়েল ও দমন করা। এ সময় রাজশাহী ও গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ময়মনসিংহ কারাগারে নেয়ার পথে জঙ্গিদের পালানোর সময় ক্রসফায়ারের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

মির্জা আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ক্রসফায়ারের হুমকির কথা শুনেছে, প্রধানমন্ত্রীর তর্জন-গর্জন শুনতে শুনতে এ দেশের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়ার পর পুলিশ হত্যার লাইসেন্স পেয়ে যায়। পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্রসফায়ারের হুমকিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে। যার শিকার হয়ে ব্যাংকার, ছাত্রসহ সাধারণ মানুষও ভয়াবহ পুলিশি নির্যাতনে পিষ্ট হচ্ছে। যেমন ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীর কথা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। সুতরাং মিথ্যার উৎপাদন ও অব্যাহত চর্চা একমাত্র আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর গৃহেই সম্ভব। মির্জা আলমগীর বলেন, গত এক সপ্তাহে ১৩ হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে এর মধ্যে মাত্র ১৭৯ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে যে তারা জঙ্গি। তাহলে অন্যদের কার জন্য গ্রেপ্তার করছেন, কেন করছেন? যার মাধ্যমে গোটা দেশকে একটা আতঙ্কের রাজ্যে পরিণত করেছে। দেশেকে বিভাজন ও অন্ধকারের রাজনীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হলো, এটা দেশে ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের কথা বলার অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিন। জনগণের সরকার, জনগণের সংসদ গঠনের উদ্যোগ নিন, এটাই সময়ের দাবি। এ সময় তিনি যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ ও সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি উপস্থিত ছিলেন।