তাভেলা হত্যাকাণ্ডে ন্যূনতম কোন জঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই – আছাদুজ্জামান মিয়া

0

রাজধানী ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনাকারীকে শনাক্তের দাবি করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘আমরা মূল ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনাকে শনাক্ত করতে পেরেছি। আপনারা সময় হলে জানতে পারবেন। আমরা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। এখন এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। এজন্য আরও কিছু দিন সময় লাগবে। তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ন্যূনতম কোন জঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত  হত্যাকাণ্ড।’ গতকাল আশুরা ও দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এই তথ্য জানিয়েছেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের যথেষ্ট প্রণিধানযোগ্য ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে এটিকে প্রমাণ করার জন্য, অপরাধের অপরাধীকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রমাণ করার জন্য এখনও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে আমাদের বাকি রয়েছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সময়সীমা দিতে পারবো না। তবে আমরা আশা করি এই তাভেলা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য শুধু উন্মোচিত হবে না, এর পেছনে কারা মাস্টার মাইন্ড আছে এবং কারা ও কাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে, আমরা দেশবাসীর কাছে এটা তুলে ধরবো।

94796_f5

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সময়সীমা দিয়ে কোন তদন্ত সমাপ্ত করা যায় না। কোন তদন্তে সাত দিন লাগতে পারে, কোন তদন্তে সাত ঘণ্টা, কোন তদন্তে সাত মিনিট আবার কোন তদন্তে সাত বছরও লাগতে পারে। এটাতে আমাদের সময় দিতে হবে। আমাদের প্রতিভাবান কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তিনি বলেন, এটি একটি তদন্তাধীন মামলা, সাবজুডিস বিষয়, এটি নিয়ে বেশি মন্তব্য করা যাবে না। তাহলে এর তদন্ত ব্যাহত হবে। শুধু এটুকু বলতে চাই, তদন্তকারী অফিসাররা কাজ করে যাচ্ছেন, আমাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে। তবে সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণকে বিশ্লেষণ করা এবং ‘অল এভিডেন্সকে’ এক করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে একটু সময় লাগবে।’ এই মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘এটা আদৌ সত্য নয়। বাংলাদেশ পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমরা তথ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভর করে কাজ করি। সমস্ত আইন অনুযায়ী কাজ করি। সুতারাং কাউকে হয়রানি করার প্রশ্নই ওঠে না। যা করবো প্রমাণের ভিত্তিতে করবো, তথ্যের ভিত্তিতে করবো। আমাদের ওপর আস্থা রাখেন। আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। শুধু সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বাকি যে কাজগুলো আছে সেই কাজগুলো চলছে। সময়মতো আপনারা জানতে পারবেন। বিদেশী নাগরিক হত্যার পর বিভিন্ন দেশের রেড অ্যালার্ট ও সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অ্যালার্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো বিভিন্ন দেশের ‘রুটিন ওয়ার্ক’। তারা রুটিন ওয়ার্কের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালে তাদের নাগরিকদের টাইম টু টাইম সতর্ক করে থাকে। তারপরও এগুলো মাথায় রেখে কাজ করা হচ্ছে।

গত ২৮শে সেপ্টেম্বর গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ইতালিয়ান নাগরিক তাভেলা সিজারকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইতালির এই নাগরিক আইসিসিও কো-অপারেশন নামে নেদারল্যান্ডভিত্তিক একটি এনজিওতে কাজ করতেন। এই ঘটনার ছয় দিনের মাথায় উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর রংপুরে একই কায়দায় খুন করা হয় জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে। এরপর বাংলাদেশে নাগরিকদের চলাফেরায় যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারির মধ্যে এসব হত্যাকাণ্ডের পর জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী একটি ওয়েবসাইট দাবি করে, মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এই খুনের দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সেই দাবি নাকচ করে বলা হয়, বাংলাদেশে আইএসের সাংগঠনিক তৎপরতা নেই।

আশুরা ও দুর্গাপূজায় কড়া নিরাপত্তা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব এবং আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে বিদেশী নাগরিক, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। আগামী শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। সেদিন মুসলমানরা যেন জুম্মার নামাজ আদায় করতে পারে আবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও নিজেদের উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক থাকবে। তিনি বলেন, পূজা কমিটির লোকজনকে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঢাক-ঢোল ও শোভাযাত্রা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওয়াইজঘাট ও উত্তরার বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশনে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। এসময় কেউ যাতে নাশকতা তৈরি করতে না পারে এজন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কমিশনার বলেন, দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কোন হুমকি নেই। তবে পুলিশ কোন কিছুকেই খাটো করে দেখছে না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রাজধানীতে ২২২টি পূজামণ্ডপ তৈরি হয়েছে। এবার পূজায় ৬ হাজারের বেশি পুলিশ মণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া অন্যান্য বাহিনী ও বিজিবি থাকবে। আর আশুরার কর্মসূচিতে আড়াই হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।