তাদের চোখে কোটি মানুষের প্রাণের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

0

জিসাফো ডেস্কঃকারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে কিছু লেখা হলে তা বিশ্বের যে কোনো মহান রাজনীতিবীদ বা রাষ্ট্র নায়কের সমতুল্য কিংবা কাউকে কাউকে তিনি ছাড়িয়ে যাবেন বলে মনে করেন বিএনপির নেতারা।

রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার ৩৪ বছর উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনিপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

‘দেশনেত্রীর রাজনীতি, সংগ্রাম ও সফলতার ৩৪ বছর’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্স সেন্টার’।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই উপমহাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য যে নাম এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে যার নাম উচ্চারিত হচ্ছে তিনি হচ্ছেন আমাদের মহান নন্দিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন হিসেবে, প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে গতকাল ৩৪ বছর অতিক্রম করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েই তার অধীনস্ত সেনাবাহিনীকে নিয়ে চট্টগ্রাম ত্যাগ করতে হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ করার সময়ে এই নেত্রীকে দুই শিশু সন্তান নিয়ে বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তার জীবন পার করতে হয়েছে। তাকে সমস্ত নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। আমরা তো এই কথা অনেকেই বলি না, অনেকে আমরা মনেও করতে চাই না মুক্তিযুদ্ধে তার যে অবদান তা কোনোভাবেই খাটো নয়। তিনি নির্যাতিত এবং বন্দি ছিলেন।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন নেতার নাম নয়, শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন বা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নয়, তিনি একটা প্রতিষ্ঠান এবং কিংবদন্তি। এই দেশের মানুষের কথা নিয়ে যে ইতিহাস লেখা তাতে সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বহু রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রনায়কদের ইতিহাস পড়েছি। কিন্তু তিনি এমন একজন মানুষ যিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। রাজনৈতিক পরিবারেও তার জন্ম হয়নি। একজন সৈনিকের সঙ্গে জীবন শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি আমাদের স্বাধীনতার ঘোষকের শাহাদাৎ বরণের পরে যখন দেশের প্রয়োজন পড়লো তখন একজন গৃহবধু থেকে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি আজ পর্যন্ত নিরন্তর ছুটে চলেছেন। সামনে তার একটাই লক্ষ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তিনি চারণ কবির মতো গণতন্ত্রের গান গেয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজও তিনি কারা নির্যাতন ভোগ করে আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন এই সংগ্রামে জয়লাভ করতে হবে। অতি অল্পকথায় দেশনেত্রী এই ৩৪ বছরে রাজনৈতিক ইতিহাস গঠন করেছেন। যে কথাটি ইতোমধ্যে আলোচিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার এখনও মনে আছে যে তার সরকারের শেষ সময়ে সম্ভবত ২০০৫ সালে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন কাভার স্টোরি করেছিল বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। সেখানে ছবি ছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা অ্যারোপ্লেনের জানালা দিয়ে বাংলাদেশকে দেখছেন। তখন এ দেশকে বলা হয়েছিল উদীয়মান ব্যাঘ্র। এ কথা কেন যেন আমরা বলতে চাই না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের আমান সাহেব, বাবুলও বলেছে, দেশে নারী শিক্ষার জন্য সত্যিকারভাবে যদি এককভাবে কাউকে কৃতিত্ব দিতে হয় সেটা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিতে হবে।’

নিজের বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি সব শেষে ন্যাশনালিস্ট রিসার্স সেন্টারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তারা অত্যন্ত ভাল একটি কাজ করেছে। আমরা কিন্তু কেউ লক্ষ্যও করিনি, খেয়ালও করিনি।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে প্রথম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে নেমে আসেন। তার নেতৃত্বে সচিবালয় ঘেরাও হয়। টিয়ার শেল তার পায়ে লাগে, হাতে লাগে, টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় তিনি রাজপথে লুটিয়ে পড়েন। সেদিনও তিনি পিছপা হন নি।’

অনুষ্ঠানে বিএনিপর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, ‘গতকাল বাবুল তালুকদার এসে জানালো যে তারা একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী করবে, একটি শিরোনাম ঠিক করে দিতে। আমি প্রথমে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছিলাম না। কিন্তু যখন এর তাৎপর্য বুঝতে পারলাম তখন অত্যন্ত উৎসাহিত হলাম।’

তিনি বলেন, ‘যার আলোকচিত্র প্রদর্শনী করা হবে তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সব কিছু মিলিয়ে যা রচিত হবে তা বিশ্বের যে কোনো মহান রাজনীতিক বা রাষ্ট্রনায়কদের সমতুল্য হবে কিংবা কাউকে ছাড়িয়ে যাবে।’

আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিত্র সাংবাদিক বাবুল তালুকদার। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রাজা, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।