ডেভিডরা ইতিহাস দেখেনা, পড়েনা, তারা জন্ম দেয় ইতিহাসের!

0

না’গঞ্জের রাজনীতির ইতিহাসে এক কালজয়ী, মৃত্যুঞ্জয়ী নেতার নাম মমিনুল্লাহ ডেভিড। ডেভিডরা ইতিহাস দেখেনা, পড়েনা, তারা জন্ম দেয় ইতিহাসের।

তাদের ইতিহাস হচ্ছে শহীদ জিয়ার দলের জন্য জীবন দানের ইতিহাস, তাদের ইতিহাস হচ্ছে দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে সংগ্রামের ইতিহাস।

তাদের ইতিহাস আওয়ামী টোকাই, দালালদের শায়েস্তা করার ইতিহাস। সময়ের প্রয়োজনে দল এদের ব্যবহার করে টিস্যু পেপারের মত।

যুগে যুগে, সময়ের প্রয়োজনে, শামীম ওসমানের মতো টোকাইদের শায়েস্তা করতেই জন্ম হয়ে সময়ের অসম্ভব সাহসী সন্তান ডেভিডের।

ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির জনক ছিলো ডেভিড নামের এক অকুতোভয় যোদ্ধা। কথা বলতেন অস্ত্রের ভাষায়, পছন্দ করতেন অত্যন্ত আধুনিক সব অস্ত্র।

নারায়ণগঞ্জের মানুষ যখন ওসমান পরিবারের অত্যাচারে যাপন করছেন দুর্বিষহ জীবন, যখন শামীম ওসমানের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীর ভয়ে রাস্তায় শহীদ জিয়ার নামের শ্লোগান হতো না, ঠিক তখনি একটা নাম না জানা কম বয়সী ছেলে একাই নেমে পরে রাস্তায়, গলায় রক্ত উঠিয়ে শহীদ জিয়ার নামে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে জিকির ধ্বনি তোলে, সেই ছেলেটিই আমাদের ডেভিড ভাই।

এই সেই ডেভিড যাকে নিয়ে নিঃসন্দেহে গর্ব করা যায়। এই ডেভিড ভাইকে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জের মাটিতে শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা মাথা উচু করে ঘুরে বেড়াতো।

এই ডেভিডকে দিয়েই একসময়ে নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমানকে প্রতিহত করেছে বি.এন.পি। বিশেষ করে অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষের বেশিরভাগ সময়ে বি.এন.পির নেতৃত্বে ছিলেন ডেভিড ভাই। ডেভিড মানেই দাবানল, ডেভিড মানেই বি.এন.পির বিজয়। ডেভিড ভাইয়ের হাতের নিশানা খুব ভালো ছিলো, অস্ত্র চালানোয় ছিলেন ভীষণ পারদর্শী।

পারিবারিক নাম মমিনুল্লাহ লিটন। বাবা মায়ের আদরের সন্তান। ভালোবাসতেন ক্রিকেট খেলতে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন ভালো ক্রিকেটার হওয়ার। ছেলের স্বপ্নকে প্রতিষ্ঠিত করতেই ভর্তি করানো হয় নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য ক্রিকেট প্রশিক্ষক দুলু আফেন্দির ক্রিকেট একাডেমীতে।

শুরু হয় ক্রিকেটার হওয়ার অগ্রযাত্রা। খুব ভালো ব্যাট করতেন। সবসময় ফলো করতেন ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় বিখ্যাত ক্রিকেটার ডেভিড বুনকে। আর সেভাবেই ব্যাট করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান মমিনুল্লাহ লিটন ভাই। অনেকটা সফলও হন। ডেভিড বুনের মতো ব্যাটিং স্টাইলের কারণেই মমিনুল্লাহ ভাইকে সবাই ডেভিড নামে ডাকতে শুরু করেন। আর এভাবে মমিনুল্লাহ হয়ে গেছেন ডেভিড।

ডেভিড নামের কালজয়ী নেতারা বারবার জন্মায় না। যেখানে শামীম ওসমানের মতো সন্ত্রাসী ডেভিডকে হত্যা করতে পারেনি, সেখানে নিজের দলের নির্দেশে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো ডেভিড ভাইকে। কিছু মানুষের মৃত্যু আসলেই অনেক বেদনার। ডেভিড ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে সারাদেশে খোদ বি.এন.পি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠে। শোকের ছায়া নেমে আসে নারায়ণগঞ্জের মাটিতে। আপনারা কেউ পারবেন অনন্যা নামের এই মেয়েটির ( ডেভিত ভাইয়ের মেয়ে) অসহ্য বেদনা লাঘব করতে ? পারবেন আর একটা ডেভিডের জন্ম দিতে ?