ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল কারচুপি

0

ঢাকা: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনেও অঘটন ঘটাতে  পারদর্শী অতীতের মত গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনেও তা প্রমাণ করলো। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের নিশ্চিত বিজয় জেনেই ষড়যন্ত্র ও নানান কৌশল আঁটে তারা। টার্গেট করে বিএনপিসহ বিরোধী দলের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়ার এবং ভোট ডাকাতি ও জালিয়াতির। এমনই মন্তব্য করেছেন নিবিড়ভাবে পরিবেশ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।

পর্যবেক্ষকদের মন্তব্যের সঙ্গে হুবহুল মিল পওয়া যায় বিভিন্ন সূত্রের দেয়া তথ্যের।সূত্রগুলোর মতে জনগণের মধ্যে উদ্যোম দেখে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনের আগেই উপলব্ধি করেছিল যে বিএনপি দেড়শতাধিক আসনে বিজয় লাভ করছে। তাই ২৯ডিসেম্বর রাতের মধ্যেই পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় বিএনপি অধ্যূষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলো। রাতেই মারা হয় নিজ দলের প্রার্থীর প্রতীকে সীল। দলীয় প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে  বাক্সে ঢুকানো হয় সীল মারা ব্যালট। এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারেনি অঘটনঘটান পটিয়সীরা। এসব অনিয়মের চিত্র প্রত্যক্ষ করেছে গোটা জাতি এবং বিশ্ববাসী। যেমন নির্বাচনে দিন সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়া আগেই  সকাল সাতটার মধ্যে ব্যালট পেপার যায় আওয়ামী কর্মীদের হাতে হাতে। শেষমেশ  ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে ধরা পড়ে তা জব্দ করা হয়। এঘটনা ঘটে কুমিল্লার বরুড়া ও মাদারিপুরের  কালকিনিসহ বহু জায়গায়। পুকুরের মধ্য থেকেও উদ্ধার করা হয় ব্যালট পেপার। এছাড়া  অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের টান পড়ে। এর কারণ আগে ভাগেই ব্যালট নিয়ে সীল মারায় ঘাটতি পরে এসব ব্যালটের।

এদিকে অনেক কেন্দ্রে প্রশাসনের সহযোগীতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি ও বিরোধী দলের এজেন্টদের পর্যন্ত ঢুকতে দেয়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের ক্যাডাররা একযোগে বিরোধী দলের এজেন্টদের কাজ করতে দেয়নি। অনেক কেন্দ্র থেকে বিএনপিসহ বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের এজেন্টদের  বের করে দিয়ে তারা নৌকা প্রতীকে সীল মেরেছে এবং বাক্সে ব্যালট ঢুকিয়েছে। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে এসব অপকর্মের চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছিল না।

নানা অনিয়মের উদাহরণ যেমন, যশোর জেলায় একটি কেন্দ্রে বিকেল তিনটা আগেই ভোট গণনা শেষ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কেবল দলীয় নেতাকর্মীরাই নয়, মুন্সিগঞ্জের ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে সীল মারতে দেখা গেছে। পত্রপত্রিকায় এসেছে অনেক পুলিশ ব্যালটে সীল মেরে বাক্সে ব্যালট ঢুকাচ্ছে। অনেক কেন্দ্রের সামনে কেবল অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ভূয়া ভোটার হিসেবে ভোট প্রদানের জন্য দাড়াতে দেখা গেছে। সাংবাদিকরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে সঠিক জবাব দিতে পারেনি। এমনকি বাপের নাম জানতে চাইলে মূখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছে তারা।টিভির মাধ্যমে এসব দৃশ্য অবলোকন করেছে দেশও বিদেশের মানুষ।

এদিকে নির্বাচনের প্রচারাভিযানের শুরু থেকেই সরকারি দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে  আসছিল। সরকারি দলের নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাতে দেয়নি। নির্বাচনী মিছিলে হামলা,প্রার্থীদের হুমকি,ভয়ভীতি প্রদর্শন,মামলা এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়েই বিরোধী দলকে চালাতে হয়েছে নির্বাচনী প্রচারাভিযান। এছাড়া থানা পর্যায়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনী তৎপরতা বন্ধ রাখতে ওসিকে নিদের্শ দেয়া হয়েছে  উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। বিরোধী দলের প্রার্থীসহ তাদের কর্মী -সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। নির্বাচনের দিনও চট্টগ্রামে বিএনপির এক নেতাকে জীবন দিতে হয়েছে এবং বিভিন্নস্থানে আহত হয়েছে শতাধিত নেতাকর্মী

নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই বিরোধী দলের নেতারা নির্বাচনের এসব অনিয়ম নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছিলেন কিন্তু কার্যত কোন লাভ হয়নি।মন্ত্রী -প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হলেও কোন ফল হয়নি। লোক দেখানো হুঙ্কার ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি ইসি।

নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে গণমাধ্যম টিভি,রেডিও,অনলাইন এবং পত্রপত্রিকাকে। কড়াকড়ি আরোপ ছিল পর্যবেক্ষকদের ওপরও। এই নিয়ন্ত্রণ ও কড়াকড়ি আরোপের মূল লক্ষ্য ছিল সঠিক সংবাদটি যেন প্রচার না হয়। তাই পর্যবেক্ষকদের মতে সরকারের এহেন আচরণকেই বলা যায়  ডিজিটাল যুগের ডিজিটার কারচুপি।