ডিঙি নৌকায় পাড়ি দেয় তীর হারা সাগর সিরীয় শরণার্থীরা

0

গভীর রাত। তুরস্কের বোদ্রাম সৈকতের কাছে একটি রাবারের ডিঙি নৌকায় চড়েছে একদল শরণার্থী। চোখে তাদের ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন। একই সঙ্গে শঙ্কা ও সতর্কতা নিয়ে তারা তাকাচ্ছে দূরদিগন্তের পানে। সেখানে টহল দিচ্ছে তুর্কি উপকূলরক্ষী বাহিনীর দুটি জাহাজ। তাদের নজর এড়িয়ে গ্রিসের উপকূলে পৌঁছানো যাবে তো?
সাগর পেরোতে শরণার্থীরা যেসব সস্তা ডিঙিতে চড়ছে, সেগুলো খুব নাজুক আর ধীরগতির। এতে সাগর পাড়ি দেওয়া রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ। এসব নৌকার যাত্রীরা প্রস্তুত হয়ে শেষ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে। চারটার পর ভোরের ঠিক আগে সমুদ্র সবচেয়ে শান্ত হয়। তখন তারা রওনা হয়। নৌকার ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শরণার্থীদেরই একজন—সাগরে নৌচালনার অভিজ্ঞতাই তার নেই।
বেশি বোঝা বা অন্য যান্ত্রিক গোলযোগে অনেক সময় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে অচল হয়ে যায় নৌকাগুলো। ভাসতে থাকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। ফুটো বা কাত হয়ে কোনো নৌকা তলিয়ে যেতে শুরু করলে শরণার্থীরা একমাত্র সম্বল ব্যাগটি সাগরে ছুড়ে ফেলে বাঁচার চেষ্টা করে। অবশ্য সে ব্যাগেও যে খুব বেশি কিছু থাকে, তা নয়। মূলত মুঠোফোনের চার্জার, কয়েকটি জামাকাপড় আর কিছু ওষুধ। উপকূলরক্ষীদের হাতে পাকড়াও হলে প্রশ্ন করা হয়, শরণার্থীরা সিরীয় কি না। সে রকম হলে তাদের ঠিকানা হয় শরণার্থীশিবির। অন্য কোনো দেশের লোক হলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেয় তুর্কি কর্তৃপক্ষ।
ইজিয়ান সাগরের তুর্কি সৈকতেই ভেসে উঠেছিল সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির লাশ। সেই ছবি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থীর বসবাস, এ সংখ্যা ২২ লাখ। শরণার্থীদের অনেকেই তুরস্কের ওপর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করে। ইজিয়ান উপকূল থেকে রওনা হয়ে তিন লাখের বেশি সিরীয় শরণার্থী গ্রিসে গেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ হিসাব দিয়েছে।
গ্রিসের কোস দ্বীপ থেকে তুরস্কের বোদ্রাম সৈকতের দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার। ওই পথে শরণার্থীদের বিপজ্জনক যাত্রা বন্ধ করার জন্য তুর্কি উপকূলরক্ষীরা নিয়মিত টহল দেয়। তারা এ পর্যন্ত অন্তত ৫৩ হাজার মানুষকে সাগর থেকে উদ্ধার করেছে। তুর্কি সমুদ্রসীমায় মৃত্যু হয়েছে ২৭৪ জন শরণার্থীর। সূত্র: এএফপি।