টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলি-নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়ালো ৪

0

তরিকুল ইসলাম তিতাস, টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়া আরও একজন গতকাল রোববার মারা গেছেন। তাঁর নাম রুবেল ইসলাম। গত শুক্রবারের ওই ঘটনায় এ নিয়ে গুলিবিদ্ধ মোট চারজনের মৃত্যু হলো।
এদিকে ওই ঘটনায় অজ্ঞাত সাত-আট শ মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করায় গ্রেপ্তারের ভয়ে আছে এলাকাবাসী।

পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান মনে করেন, কালিহাতীর ঘটনায় ইন্ধন ছিল। গতকাল দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রুবেল। তাঁর বাবার নাম ফারুকুল ইসলাম। বাড়ি কালিহাতী পৌর এলাকার দক্ষিণ বেতডোবা। রুবেল কালিহাতী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। এর আগে গুলিবিদ্ধ ফারুক হোসেন, শামীম হোসেন, শ্যামলচন্দ্র দাস মারা যান গত শুক্রবার।
শুক্রবার বিকেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে শনিবার রাতে ঘাটাইল ও কালিহাতী থানায় দুটি মামলা করে। দুই মামলায় অজ্ঞাত সাত-আট শ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা না হলেও কালিহাতী ও ঘাটাইলের যে গ্রামগুলো থেকে লোকজন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাচ্ছে না।

কালিহাতীর সালেঙ্কা গ্রামের শহিদুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের মামলার খবরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলা নিষ্পত্তি করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’ একই গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করায় গ্রামের লোকজন আতঙ্কে আছে। টহল পুলিশ দেখেও মানুষ ভয় পাচ্ছে।’

ঘটনা তদন্তে গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল রোববার সকালে কালিহাতী ও ঘাটাইলের হামিদপুরে যান। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এর আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এই কমিটির প্রধান পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আলমগীর আলম।

মানববন্ধন: কালিহাতীতে মা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে গতকাল রোববার টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মানবাধিকার নাট্য পরিষদ। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী গতকাল নিহত ফারুক, শামীম ও শ্যামলের বাড়িতে যান। তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান। এ সময় সমবেত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এভাবে মানুষ হত্যা করে এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’ তিনি কালিহাতীতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন।
কালিহাতীতে মা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসী গত শুক্রবার কালিহাতী সদরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ গুলি চালায়। এতে ওই দিনই মারা যান গুলিবিদ্ধ তিনজন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেলেন আরেকজন।

নিন্দা ও ক্ষোভ: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে মোট চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। গতকাল পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা ও উদ্বেগ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেন, এক তরুণ ও তার মাকে নির্যাতনের প্রতিবাদে এলাকাবাসী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছিল। কিন্তু তাদের ওপর পুলিশের এমন আচরণ কোনোমতেই গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এ ছাড়া গুলির ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ ও তার মায়ের নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।