জোর করে সন্ত্রাস করে, পুলিশ দিয়ে, র‌্যাব দিয়ে কত দিন আপনারা দেশ চালাবেন?

0

শনিবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় দেশের মানুষ সরকারের পরিবর্তন চায় বলে দাবি করেন তিনি।

মওদুদ বলেন, “সরকারকে বলব- একটা ভোট দিয়ে দেখেন, মানুষ পরিবর্তন চায় কিনা। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনারা বুঝতে পারবেন, আপনাদের জনপ্রিয়তা কোথায় নেমে গেছে। জোর করে সন্ত্রাস করে, পুলিশ দিয়ে, র‌্যাব দিয়ে কত দিন আপনারা দেশ চালাবেন?

“একটা সময় আসবে… দেশের মানুষ ও প্রশাসন যখন দেখবে যে গণজোয়ার উঠে গেছে এই সরকারকে পরিবর্তন করার জন্য, তখন দেখবেন যে প্রশাসন আপনাদের পক্ষে আছে, যারা পুলিশ অফিসাররা আছেন, তারাই আবার জনগণের কাতারে এসে জনগণের সঙ্গে হাত মেলাবে, আপনাদের সঙ্গে থাকবে না। এটা আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি। আইয়ুব খানের আমল থেকে শুরু করে আমরা সর্বত্র দেখেছি।”

দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে দেশের দুই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে মন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা মওদুদ এবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফেরানোর কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে বাধার সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। শত বাধা আমাদেরকে বন্ধ করতে পারবে না, আমাদেরকে রোধ করতে পারবে না। আমাদের যাত্রাপথে কোনো রকমের বাধা… যতরকমের বাধা দেন না কেন- এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়।

“বেগম খালেদা জিয়া যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তার সঙ্গে থাকব। যেখানে খুশি সেখানে আমরা যাব এবং শত বাধা থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের মানুষের কাছে যাব, জনমত সৃষ্টি করব।”

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এ আলোচনা সভা হয়।

এতে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনের চিন্তা করে থাকলে সরকার ভুল করছে বলে মন্তব্য করেন মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, “সহায়ক সরকার হচ্ছে এমন একটি সরকার… আমরা নির্বাচনে সময়ে দেখতে চাই যে, সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না। অর্থাৎ এটা একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। যে সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকতে হবে এবং নির্বাচনের ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে।”

মওদুদ বলেন, “আজকে তারা (সরকার) যদি মনে করেন এখন যে অবস্থায় আছেন তারা, ছয়মাস পরে একই অবস্থায় থাকবেন- তাহলে তারা ভুল করছেন। তাদের তখন সমঝোতায় আসতে হবে।

“আর সমঝোতায় যদি না আসেন দেশের মানুষ রাস্তায় নামবে, গণবিস্ফোরণ হবে। সেই বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতীতে যেমন সরকারের পরিবর্তন হয়েছে, বর্তমান সরকারেরও ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন হবে ইনশাল্লাহ।”

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি আমীর হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম সোহাগের পরিচালনায় আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়ার আলী নেওয়াজ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) এর প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ফোরকান-ই আলম বক্তব্য রাখেন।