জিয়া পরিবার কে নিয়ে সরকার অপপ্রচারে লিপ্ত – নজরুল ইসলাম খান

0

জিসাফো নিউজ ডেস্কঃ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান লন্ডনে বসে বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্র করেছেন- সরকার প্রধানসহ মন্ত্রীদের এ ধরনের অভিযোগকে অপপ্রচার বলে প্রত্যাখান করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান । তিনি বলেন, লন্ডনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। আজকের যুগে আমরা জানার আগেই সরকার জানে যে তার কবে চোখের অপারেশন হয়েছে, আরেকটা কবে হলো। কখন পায়ের জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছিলো- সবই সরকার জানে। এসব জানার পরও তারা (সরকার) বাজে কথা বলছে, অপপ্রচার করছে। এর উদ্দেশ্য একটাই- যেকোনো প্রকারে বিএনপিকে হেয় করা।

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া নাজিমউদ্দিন জেহাদের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে দৈনিক বাংলা মোড়ে জেহাদ স্কোয়ারে বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুস্পমাল্য অর্পন করে জেহাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী, তার ছেলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সবাই বলেছেন, লন্ডনে বসে বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশী খুনের ষড়যন্ত্র করছেন বা করেছেন। আবার শনিবার পত্রিকায় দেখলাম, নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, লন্ডনে বসে নাকি তারা (খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান) আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মারার ষড়যন্ত্র করছেন। আবার আওয়ামী লীগের কাজী জাফরুল্লাহ বলেছেন, আইএস বাইরে থেকে দরকার নেই। বিএনপি ও জামায়াতই হলো আইএস।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মধ্য যুগে একটা বাংলা কবিতা ছিলো। বানরে সঙ্গীত গায়, শিলা ভাসে জলে, দেখিয়াও না হয় প্রত্যয়। বানরকে গান গাইতে দেখলে কিংবা পাথর যদি পানিতে ভাসতে থাকলে বিশ্বাস হবে। এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। আমাদের দেশের ক্ষমতাসীনরা অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গোপনে দেশ ত্যাগ করেননি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সারাদেশ জানে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন। ঈদের সময় তিনি পুত্র-পুত্রবধু-নাতনিসহ তার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেছেন। এখন চিকিৎসার জন্য তিনি সেখানে আছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিদেশ থেকে ফিরে এসে কোনো খবর না নিয়েই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশী হত্যার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা রিপোর্ট করেছে, এর সঙ্গে জামায়াত জড়িত থাকতে পারে। এখন বলা যায় না, প্রধানমন্ত্রী তার মতামত বদলাতেও পারেন। তারপরও হয়ত বিএনপির কথা বলতেই থাকবেন।

সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধড়পাকড় ও মিথ্যা মামলা নিয়ে হয়রানির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখন এমন কোনো ইউনিয়ন নেই যেখানে বিএনপি নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হননি। এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে কোনো না কোনো মানুষ বিরোধী দল করার কারণে মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে পলাতক জীবন যাপন করছেন না। এটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ হতে পারে না। আমরা স্বৈরাচারের কথা বলি। তখনও আজকের মতো মানুষের এরকম অনিশ্চিত জীবন ছিলো না।

দুই বিদেশী হত্যা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, আজ কেউ নিরাপদ নন। মায়ের পেটের শিশুরাও নয়। যে বিদেশীরা আমাদের দেশে মেহমান, যাদের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন, যারা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আমাদের দেশে আসেন, তাদেরও নিরাপত্তা আমরা বিধান করতে পারছি না। এটা জাতি হিসেবে লজ্জার। এটা দেশ হিসেবে আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ।

তিনি বলেন, কথায় কথায় জঙ্গিবাদ, কথায় কথায় প্রতিপক্ষকে জঙ্গি বা জঙ্গির সমর্থক বা উস্কানিদাতা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা, এটা করতে করতে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে প্রশ্নবোধক করে রাখা হয়েছে। ফলে দেশের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক দাবি আদায় করতে চাই। কিন্তু দেশের স্বার্থ নষ্ট করে নয়। এজন্য আমরা বলতে চাই, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হোক।

সংগঠনের সহসভাপতি নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় যুব দলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নব্বইয়ে ছাত্র নেতা ও ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জাগপার সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ, ডিএল এর সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চামেলী মাহমুদ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার।