জাহাঙ্গীরের আইনি লড়াইয়ের ঘোষণায় সায় নেই আ. লীগের

0

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত নিয়ে মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আইনী লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সঙ্গে থাকছে না আওয়ামী লীগ। এটা দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীনরা। এ কারণে তার ব্যক্তিগত আইনি লড়াইয়ে বাধাও দেওয়া হবে না।

জানা গেছে, ইস্যুটি যেহেতু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও আদালতের, ফলে জাহাঙ্গীরকে দলীয়ভাবে কোনও সহায়তার ব্যাপারে অনীহা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দিকেই এখন তাদের দৃষ্টি। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, ব্যক্তিগতভাবে জাহাঙ্গীর আলম কোনও পদক্ষেপ নিলে তাতে বাধা দেওয়া হবে না কেন্দ্র থেকে। এ কারণেই জাহাঙ্গীর আলম আপিল করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা জানান, দলীয়ভাবে আইনি লড়াইয়ে যাবে না আওয়ামী লীগ। তবে গাজীপুরের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আইনি লড়াইয়ে যেতে চাইলে কেন্দ্র থেকে কোনও আপত্তি জানানো হবে না।

জানা গেছে, স্থগিতাদেশের মতো ঘটনা ঘটতে পারে— আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা এটা ধারণাও করতে পারেননি। ফলে তাদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্তব্য করেন, তাদের কাছে এ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। কীভাবে এটা হয়েছে, তাও জানা নেই। তবে তাদের বক্তব্য, এটুকু তারা বোঝেন যে দলীয় অবস্থান হলো এক্ষেত্রে আইন ও নিয়ম অনুযায়ী যা করণীয়, তা-ই করা হবে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভঅপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাজীপুরের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে দলীয় কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সে আদালতে যাচ্ছেন, এমন কোনও তথ্য আমার জানা নেই।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘গাজীপুর নির্বাচন স্থগিতাদেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ আইনি লড়াইয়ে যাবে না। সেখানকার মেয়র প্রার্থী আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিষয়টি মীমাংসা করবে।’ তিনি বলেন, ‘এই মামলার বাদী আওয়ামী লীগের একজন নেতা। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি আমাকে জানান, ওই এলাকার মানুষ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হতে চায় না। ফলে এলাকার মানুষের কথাও চিন্তা করতে হবে।’

জাহাঙ্গীরের আপিলের ঘোষণা সম্পর্কে ফারুক খান বলেন, ‘নিশ্চয়ই ওই প্রার্থী কোনও গ্রাউন্ড আছে বলে মনে করেন।’
জানা গেছে, দলটির পুরো মনোযোগ থাকবে এখন খুলনার সিটি নির্বাচনের দিকে। সেখানে কীভাবে বিজয়ী হতে পারে সেই নিয়ে ব্যস্ত থাকবে আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে কিছুটা স্বস্তিও রয়েছে। কারণ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছে সরকারের ও দলের শীর্ষ পর্যায়ে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন ঝুঁকি না নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গাজীপুরের নির্বাচনে পরাজয় জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। ফলে নির্বাচন স্থগিতাদেশে কিছুটা স্বস্তির কথা জানা গেছে।

সূত্রমতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দিলেও মাঠের প্রার্থী হিসেবে তার কিছু দুর্বলতার কথা শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোটের মাঠে গাজীপুরের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জাহাঙ্গীরকে সেভাবে গ্রহণ করেননি। ব্যবসায়ী মহলও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে, এমন তথ্য পেয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ফলে নৌকার বিজয় কষ্টসাধ্য হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ঝুঁকি নিতে চায় না আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়।

জানা গেছে, সেখানে প্রার্থী বাছাইয়ে দুর্বলতা রয়েছে, নির্বাচনি মাঠও আওয়ামী লীগের পক্ষে নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের ভেতরে অনৈক্য রয়েছে। এসব নানা কারণে ভোটের মাঠের প্রার্থীর অবস্থা খুব ভালো না থাকায় নির্বাচন স্থগিতাদেশে স্বস্তি কাজ করেছে আওয়ামী লীগেও। জানা গেছে, গত রবিবার জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করতে এলে শেখ হাসিনা তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘দলীয়ভঅবে এখানে পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। ফলে ব্যক্তিগতভাবে এই জটলা তুমি সমাধান করতে পারলে, করে এসো।’ এর ফলে জাহাঙ্গীর আলম ব্যক্তিগতভাবে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন