জামায়াত শিবিরের মিথ্যাচার এবং তাদের বর্তমান অবস্থান বিএনপি জোটের জন্য লজ্জাজনক এবং ভয়াবহ ভবিষ্যতের পূর্বাভাস

0

“নাসিক নির্বাচনে বি এন পি এর ভূমি ধস পরাজয়ে ছাত্রশিবির নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সেক্রেটারি’র বিশ্লেষণী মতামত”

তাং-২৩.১২.২০১৬।

আমার মনে হয় বি এন পির রাজনীতি করার কোন প্রয়োজন নেই। শুধু জামায়াতে ইসলামীর পা ধরে পড়ে থাকা দরকার এবং জামায়াতকে বলা দরকার যে, “আমরা ভোট চাইতে পারবনা, জনগনের নিকট যাইতে পারবনা, ময়দানে ভূমিকা রাখতে পারবনা, মানুষের হৃদয়ের কথা গুলো শুনবোনা, বুঝবোনা, আপনারাই সব করার ব্যবস্থা করেন,তাহলে জামায়াত সেভাবে চিন্তা করবে।”আর ময়দানে মার খাবে জামায়াত মৌলিক কোন কাজে তাদেরকে রাখবেনা, ডাকবেনা ফলাফল ব্যতিক্রম হলে তখন যত দোষ নন্দঘোষ। আসল কথা হল নাসিক নির্বাচনের ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। জামায়াত কখনো দ্বিমুখী আচরন করেনা, জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখা প্রয়োজন তা রেখেছেন এবং ভোটও দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিগত দশ বছরের চেয়ে বলা যায় কোন রকম দাংগা হাংগামা ছাড়াই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে এবং বিএনপি সারাদিন তাদের বিবৃতির মাধ্যমে বলেছেন।

আমার জানামতে যা বিগত নির্বাচনের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে।এখন নির্বাচন পরবর্তী যা বলা হচ্ছে তা হল বাংলাদেশের নির্বাচনী সাংস্কৃতি। বিএনপির কটাক্ষ করে থাকলেও আওয়ামী প্রার্থী আইভির প্রশংসা করে ছাত্রশিবির নারায়ণগঞ্জ মহানগরী সেক্রেটারি বলেন,- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র হিসেব পুনরায় নির্বাচিত হওয়া এটা ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভির পাওনা যা এই জনপদের মানুষ তাকে উপহার হিসেবে দিয়েছন।

  • নারায়ণগঞ্জে শামীম উসমানের বিপরীতে আইভির বিকল্প নেই এটা নারায়ণগঞ্জের মানুষ মনে করেন।
  • আইভি যে উন্নয়ন করেছেন যেটা কেউ সরাসরি চোখে না দেখলে বিশ্বাস নাও হতে পারে,দেখার জন্য বন্দর আর সিদ্ধিরগঞ্জ দেখে যান।
  • নির্বাচনের দিন বিএনপির অনেক ভোটার বিগত নির্বচনের দৃশ্য মনে ভয় কাজ করায় কেন্দ্রে যাননি
  • যারা কেন্দ্রে গেছেন অনেকে আইভিকে ভোট দিয়েছেন।
  • জনাব এডভোকেট সাখাওয়াত সাহেব নতুন মানুষ জনগনের মন জয় করার মত কিছুই করতে পারেনি আবার বলতেও পারেননি।

অনেকে মনে করেছেন যদি সাখাওয়াত নির্বাচিত হয় কাজ করতে পারবেনা, কিছুদিন যাওয়ার পর বিভিন্ন সিটির মেয়রদের মত হবে ফলে ওসমানীয় খিলাফত বহাল তবিয়তে থাকবে।

____________________________________________________________________

 উপরোক্ত উপস্থাপিত বক্তব্যে ‘নাঃগঞ্জ মহানগরী শিবির নেতা’ অকপটে বিএনপির কটাক্ষ এবং আওয়ামী প্রার্থীর প্রশংসা করে এবং এই শিবির নেতা অভিযোগ করেছে,- ‘নাসিক নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ে বিএনপি জামায়াত কে দোষারোপ করেছে এবং জামায়াতের সাথে বিএনপির এত বৈরী আচরন কেন?’ একজন মহানগর সেক্রেটারী পদস্থ শিবির নেতা হিসেবে এরুপ মিথ্যা অভিযোগ রাজনৈতিক অজ্ঞতা এবং মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়।

কেননা,- নাসিক নির্বাচন পরাজয়ের কারন দর্শিয়ে বিএনপি কোন নেতা এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি। তাই শিবির নেতার এইরূপ অভিযোগ আওয়ামী চেতনা দায়ক এন্টিবায়োটিক এর প্রভাবিত ফল ছাড়া কিছুই নয়। বিএনপি জামায়াত নিয়ে কোন বৈরী আচরন তো করেইনি বরং এই শিবির নেতা নিজেই বিএনপির প্রতি বৈরী আচরন প্রকাশ করলো তার উপস্থাপিত বক্তব্যের মাধ্যমে।

নাঃগঞ্জ মহানগর শিবির তার বক্তব্যে আরো বলেন,- ‘ময়দানে মার খাবে জামায়াত, মৌলিক কোন কাজে জায়য়াত কে রাখবেনা, ডাকবেনা ফলাফল ব্যতিক্রম হলে তখন যত দোষ নন্দঘোষ। আসল কথা হল নাসিক নির্বাচনের ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। জামায়াত কখনো দ্বিমুখী আচরন করেনা, জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখা প্রয়োজন তা রেখেছেন এবং ভোটও দিয়েছেন’।

বাংলায় একটা প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে,- ‘ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনা’ জামায়াত এর বর্তমান অবস্থান এবং আচরন এই প্রচলিত প্রবাদের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপনে শতভাগ সফল।

কেননা,জামায়াত দাবি করছে যে মৌলিক কোন কাজে তাদের রাখা হয় না, তবুও জোট হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখার তা জামাত রেখেছে এবং ভোট ও দিয়েছে। জামায়াত কে মৌলিক কাজে রাখা হয়না এটা নাসিক নির্বাচন প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ন মিথ্যাচারিতা। বরং জামায়াতই জোটের সাথে মৌলিক কার্যকলাপে অংশগ্রহনে অপরাগতা প্রকাশ করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

উল্লেখ্য যে, গত ২৯ নভেম্বর জোটের শরিকদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে সাধ্যমতো কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে জোটের মহাসচিবদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি জামায়াত। এমনকি বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে ২০ দলের পক্ষ থেকে গঠিত টিমে কোনো নাম দেয়নি দলটি।

জামাতের অপরাগতায় জোটের পক্ষ থেকে তিনটি টিম করলেও তাতে জামায়াতকে রাখা সম্ভব হয়নি। জামাত জোট হিসেবে যতটুকু ভূমিকা পালন করার করছে এবং ভোট ও দিয়েছে, নাঃগঞ্জ মহানগর শিবির নেতার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়,- প্রতিবার জামায়াত অফিশিয়ালি জোটের সাথে প্রচার প্রচারনার কথা ব্যক্ত করে থাকলেও নাসিক নির্বাচনে জামায়াত কোন ভূমিকা রাখার মনোভাব প্রকাশ করেনি, তাছাড়া নাসিক নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৯৬হাজার। অথচ নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতের আমির মঈন উদ্দিন আহমেদের দাবী নাসিকে জামায়াতের ভোটার সংখ্যা ৮১হাজার। তাহলে জামায়াতের ভোট এতো ভোট গেল কোথায়। জামায়াত ভোট দিলেতো সাখাওয়াত হোসেন অন্তত দেড়লাখ ভোট অর্জন করত, হিসাব সমীকরন তো তাই বলে। তাছাড়া জামায়াত যদি জোটের প্রতি সত্যি ই শ্রদ্ধারত দায়িত্বশীল মনোভাব রাখতো তাহলে নাঃগঞ্জ শিবির নেতার উল্লেখিত বক্তব্যে আওয়ামী প্রার্থীর বিশাল প্রশংসা কিসের পরিচায়ক হতে পারে, এটা অবশ্যই লক্ষ্যনীয়।

নাঃগঞ্জ ছাত্রশিবির মহানগর নেতা দাবি করেছে,- ‘বিএনপির রাজনীতা করার কোন প্রয়োজন নেই বরং বিএনপির উচিৎ জামায়াতের পা ধরে থাকা’ একজন মহানগর পদস্থ শিবির নেতার এরূপ বক্তব্য বিএনপি কে উদ্দেশ্যপ্রবন কটাক্ষ করা ছাড়া কিছুই নয়। শিবির নেতার এই আচরন দলটির নিজস্ব ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক অবস্থান কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যথেষ্ট বলেই আমি করছি। ৭১ বছরে যাদের বিরোধী দল হওয়ার সুযোগ হয়নাই এই বিএনপি তাদের কে সরকারের অংশ করছে দুইবার। ৮৬, ৯৬ সর্বশেষ ২০১৬ পর্যবেক্ষন করলে স্পষ্ট বোঝা যায় পায়ে ধরা রাজনীতি সে তো জামায়াতের আদর্শ।

 

প্রকাশে

তথ্য ও গবেষণা বিভাগ

জিয়া সাইবার ফোর্স