জাবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, আহত অর্ধ-শতাধিক

0

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ-মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এসে শেষ হয়। পরে সেখানেই সকাল সাড়ে ১০টায় অবস্থান নেন হাজারো শিক্ষার্থী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। এসময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। মহাসড়ক অবরোধের কারণে রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ বার বার অবরোধ তুলে নিতে আহ্বান জানালে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন। পরে দুপুর ১২টা ৩৮মিনিটে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। অবরোধকারীদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও জলকামান ছুড়ে তারা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে পাল্টা জবাব দেন। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা ২টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী কয়েক দফার সংঘর্ষে অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

বেলা ২টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অবস্থান নেন। আর পুলিশ প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। পরে বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সহিংস কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও চায়, কোটা সংস্কার হোক। সেই জায়গা থেকে আমরা তোমাদের আন্দোলনে সংহতি জানাই। তবে আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের সুযোগ রয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকার নাইন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।’

ঢাকা জেলার অপরাধ দমন ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে শিক্ষার্থীদের আমরা অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু তারা যখন গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিই।’ শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক আইন ও বিচার বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী খান মুনতাসির আরমান বলেন, ‘আমরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করছি। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
উৎস-বাংলাট্রিবিউন