জাবিতে নেকাব পড়ে আসায় ৪ ছাত্রীকে ক্লাস থেকে বের করে দিলেন শিক্ষিকা

0

জাবি: নেকাব পরায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চার ছাত্রীকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষিকা। ওই চার ছাত্রীর বক্তব্য, ছোটবেলা থেকে পারিবারিকভাবে তারা নেবাকসহ ‘পর্দা’ করে আসছেন এবং শিক্ষিকার বক্তব্য, নেকাবের কারণে ওই শিক্ষার্থীদের অভিব্যক্তি বুঝতে তার সমস্যা হয়।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চার ছাত্রী নেকাব পরে ক্লাসে এলে ওই বিভাগের প্রভাষক সামিয়া ফারহানা সুমা তাদের নেকাব পরার অপরাধে ক্লাস থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে তাদের ক্লাসে নেকাব পরে আসতে নিষেধ করেন। এরপর গত মঙ্গলবার তারা আবারো নেকাব পরে ওই শিক্ষিকার ক্লাস করতে আসেন। এতে শিক্ষিকা ক্লাসে তাদের নির্লজ্জ, বেয়াদব, বেহায়া বলে সম্বোধন করেন এবং বলেন, তোমাদের জন্য ক্লাসের শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। নিষেধ করা সত্ত্বেও কেন তোমরা এই পোশাকে আবার এসেছো। ওই চার শিক্ষার্থীকে তিনি গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর একটি অভিযোগপত্র পাঠানোর জন্য তা বিভাগীয় সভাপতির  কাছে দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আমরা মুসলিম পরিবারের মেয়ে। ছোট বেলা থেকে পারিবারিকভাবে আমরা নেবাকসহ পর্দা করে আসছি। নেকাব পরার জন্য আমরা এখনো পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হইনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত আমরা স্বাধীনভাবে নেকাব পড়ে পর্দা রক্ষা করে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো- সামিয়া ফারহানা ম্যাম (ম্যাডাম) আমাদের দুই দিন নেকাব খুলতে বাধ্য করেন। তার চাপে আমরা দুই দিন নেকাব খুলে ক্লাস করতে বাধ্য হয়েছি। এ ঘটনায় আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

এ বিষয়ে শিক্ষিকা সামিয়া ফারহান সুমা বলেন, তাদের এক্সপ্রেসন বুঝতে সমস্যা হওয়ার কারণে আমি তাদের বলেছি ক্লাসের ভিতরে নেকাব খুলে রাখতে। কিন্তু তারা সব সময় আমার কথা ডিনাই করে আসছে।

শিক্ষার্থীদের গালিগালাজের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী ফারহান সুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, তিনি সব সময় বিভাগের বিভিন্ন ব্যচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

এ বিষয়ে বিভাগে সভাপতি অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয় সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।