জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হউক, এ সরকার তা চায় না:আ স ম হান্নান শাহ

0

জিসাফো ডেস্কঃ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাকে ক্ষমতাসীনরা বিপাকে পড়েছে,জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হউক, এ সরকার তা চায় না বলেও মন্তব্য করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হান্নান শাহ। ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও নাগরিক প্রত্যাশা’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘ভয়েজ অব ডেমোক্রেসি (ভিওডি)।

আলোচনায় হান্নান শাহ বলেন, ‘সরকার যদি নিজেরা জঙ্গিবাদের উত্থান রোধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ঐক্যবদ্ধ জাতি হয়তো আওয়ামী লীগের বিকল্প নেতৃত্ব অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই জঙ্গিবাদ নির্মূল করবে। সেক্ষেত্রে তাদের (জঙ্গিদের) সহযোগী হিসেবে এ সরকারেরও খবর আছে।বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। জনগণ সেটাকে স্বাগত জানিয়ে মেনে নিয়েছে। দু’একটি ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতারাও তা মেনে নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে দু’একটি দলের (জামায়াতে ইসলামী) কথা বলা হচ্ছে। কে কোথায় বসবে, বসবে না- এটা নিয়ে কথা-বার্তা হচ্ছে। এটি ছোটখাট ব্যাপার। জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে দেশনেত্রীর (খালেদা জিয়া) নেতৃত্বে এগুলো সমাধান করা হবে।

খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাকে সরকার বিপাকে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হউক, এ সরকার তা চায় না। কারণ, যদি বেগম জিয়া সফল হয় এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তো এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নাই। সেজন্য তারা জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে আন্তরিক নয়।

এই সরকার দিয়ে সন্ত্রাস দমন সম্ভব হবে না দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে দিলে এ দেশে সন্ত্রাস থাকবে না। কিন্তু সরকার তাদেরকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করছে। সেজন্যই দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে। তাছাড়া এই সরকারকে দিয়ে সন্ত্রাস দমন সম্ভব হবে না। কারণ, এরা জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়।

জনগণের ঐক্য হবে জানিয়ে হান্নান শাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এ সরকার স্ব-সম্মানে বিদায় নিলে ভালো। অন্যথায়, এরশাদের মতো গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিদায় করতে হলে, তার পরিণাম ভালো হবে না। এরশাদের বিদায়ের সময়ে তার কিছু চেলাচামুণ্ডা দেখা গেছে। কিন্তু এ সরকারের বিদায়ের সময়ে কোনো চেলাচামুণ্ডাও দেখা যাবে না।এসময় বিরোধীদলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর ওপর সরকারের জুলুম-নির্যাতন বন্ধসহ সব রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দাবি করেন বিএনপির এ নেতা।

আয়োজক সংগঠনের ফেলো অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে এবং সভাপতি মাহফুজ কবীরের সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন- জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, কৃষক দলনেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।