জন্মদিন মায়ের সান্নিধ‌্যে কাটালেন মীর্জা ফখরুল

0

জন্মদিনের বেশিরভাগ সময় ঘরে পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। অসুস্থ মা-কে হাসপাতাল থেকে বাসায় এনে নিয়েছেন তার সান্নিধ‌্যে।রাজধানীর উত্তরায় ফখরুলের ঘরে জন্মদিনের কোনো আয়োজন ছিল না। টেলিফোনে অনেকে তাকে শুভেচ্ছা জানান।রাতে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গেলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস‌্য নজরুল ইসলাম খানসহ নেতারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মহাসচিবকে। মহিলা দল একটি কেক কাটে ফখরুলকে নিয়ে।দলের ‘কঠিন সময়ে’ বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে আসা ফখরুল ১৯৪৭ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসা ফখরুল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

তেল-গ‌্যাস রক্ষা কমিটির আধাবেলা হরতালে বিএনপির সমর্থন থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে ফখরুল বাসা থেকে বের হননি বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।অন‌্যদিন সকালে তিনি অসুস্থ মা-কে দেখতে শাহবাগে বারডেম হাসপাতালে যেতেন। কিন্তু এদিন তিনি টেলিফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মহাসচিবের ব্যাক্তিগত সহকারী জনাব ইউনুস বলেন, “সকালে মায়ের সাথে কথা বলেন স্যার। মায়ের দোয়া নেন তিনি, খবর নেন উনার স্বাস্থ‌্যের।”ফখরুলের মা ৯০ বছর বয়সী ফাতিমা আমিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গত তিন সপ্তাহ ধরে। সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমিনের স্ত্রী তিনি।

হরতাল শেষে দুপুরের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে মা-কে উত্তরার বাসায় আনার ব‌্যবস্থা করেন ফখরুল।তার সহকারী জনাব ইউনুস জানান , মায়ের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান ফখরুলসহ পরিবারের সদস্যরা।

বীমা কর্মকর্তা রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে ফখরুলের সংসারে দুই মেয়ে।বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়, সেখানে তার কর্মস্থল। ছোট মেয়ে মির্জা শাফারুহ বাবা-মা্য়ের সঙ্গেই থাকেন। তিনি ধানমন্ডির সানিডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

শায়রুল কবির বলেন, “সকালে অস্টেলিয়ায় থেকে বড় মেয়ে স‌্যারকে (ফখরুল) টেলিফোন করেন। বাবাকে উইশ করেন তিনি।”মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বুধবার রাতেই গুলশান কার্যালয়ে মহাসচিব ফখরুলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ফখরুল ছাত্রজীবনে বাম আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) বিশ্ববিদ‌্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ‌্যালয় থেকে বেরিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন ফখরুল। ঢাকা কলেজ, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজসহ একাধিক কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেন তিনি।জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

’৮০ এর দশকে রাজনীতিতে নামা ফখরুল ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। প্রথমে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।২০১১ সাল থেকে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা এই নেতা গত বছর মার্চ মাসে দলের জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিবের পূর্ণ দায়িত্ব পান।