জনগণের ভোট লুট করে আবারও ক্ষমতায় আসবেন সে স্বপ্ন ভুলে যান;মির্জা ফখরুল ইসলাম

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে আদালতের বারান্দা বা কারাগারে রেখে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার চিন্তা আওয়ামী লীগকে ছাড়তে হবে।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গিয়ে একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে কারাগারে রেখে এ দেশে আর কোন একদলীয় নির্বাচন হবে না।’ আমাদেরকে আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করাবেন, কারাগারে বন্দি রাখবেন আর আপনারা মহা আনন্দে জনগণের ভোট লুঠ করে আবারও ক্ষমতায় আসবেন সে স্বপ্ন ভুলে যান।’-সরকারি দল আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিএনপি অবশ্যই নির্বাচন করবে। কিন্তু তা অবশ্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে। নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

ফখরুল বলেন, তিনি বলেন, ‘জনগণ আপনাদের (আওয়ামী লীগ)যন্ত্রণায় অতিষ্ট। তারা পরিবর্তন চায়। বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।’

দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সদস্য সংগ্রহ একদিকে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করবে অন্যদিকে সরকার পতনের পথকে ত্বরান্বিত করবে।’বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গত ৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে সরকার এসেছে, তারা দেশের জনগণকে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। দেশের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, গোটা দেশের মানুষ এখন বিএনপিকে ক্ষমতায় এবং খালেদা জিয়াকে ফের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই সরকার মানুষের জীবনকে দুঃসহ ও অসহনীয় করে তুলেছে। এদের (সরকারকে) সরিয়ে দেশের মানুষ অতীতে যারা মানুষের আস্থা অর্জন করেছিল সেই বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে দেখতে চায়।

ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে চায় জানিয়ে নিরপেক্ষ প্রেক্ষাপট তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

‘বিএনপি নির্বাচন চায়। তবে সেই নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে, যাতে করে সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং দেশের সকল মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায়। কারণ বিএনপিকে আদালতের বারান্দায় কিংবা জেলে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না।’

দেশের সিটি করপোরেশনের বিএনপি সমর্থিত মেয়রদের বরখাস্তের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার নির্বাচিত মেয়রদের কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে না। মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখছে। তবে এতে একটা কথা প্রমাণ করে এই অবৈধ সরকার (আওয়ামী লীগ) অনির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় এসেছে বলেই নির্বাচিত মানুষদের ভয় পায়।’

আওয়ামী লীগ ‘বন্দুক-পিস্তল’ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক বিষয় মোকাবিলা করে রাজনৈতিকভাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে এখন মিথ্যা মামলা, হামলা করে বিরোধী দলকে দূরে রাখতে চায়।’

সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে ‘অধিকার রক্ষার’ আন্দোলন বেগবান করার কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা বিএনপির রাজনীতি বিশ্বাস করে, যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি বিশ্বাস করে, খালেদা জিয়ার আপসহীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা বিশ্বাস করে এবং যারা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তারেক রহমানকে বিশ্বাস করে, তাদের সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিএনপিতে নিয়ে আসতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ) নেতা শামসুল হুদা, রমেশ দত্ত, তানভীর আহমেদ রবিন। সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।