জঙ্গী আচরন আরকেউ নয় আওয়ামী লীগ ই করে

0

তুষার মিয়া, লন্ডনঃ লন্ডনে সফররত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দিতে শুরু করেছেন। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রথম সারির কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

এর আগে বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে যাওয়া বিএনপির নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও তাবিথ আউয়াল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তাঁরা প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন। খালেদা জিয়া পশ্চিম লন্ডনের কিংসটনে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন। সেখানেই নেতা-কর্মীরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি, সেক্রেটারি ও সহসভাপতিরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি সম্প্রতি গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসীরা জঙ্গি নয়, “বাংলাদেশেও কোনো জঙ্গি নেই। আওয়ামী লীগের লোকেরাই জঙ্গি আচরণ করছে।”

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষাতে তাঁরা দলের চেয়ারপারসনকে যুক্তরাজ্য বিএনপির কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেছেন। খালেদা জিয়া তাঁদের বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমান ‘অবৈধ’ সরকার বাকশালীরূপে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আর সম্প্রতি গুমের ঘটনা বেড়ে গেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেছেন, গণমাধ্যম যাতে সরকারের সমালোচনা না করে এবং বিএনপির ইতিবাচক সংবাদ প্রচার না করে, সে জন্য সরকার নানাভাবে চাপ অব্যাহত রেখেছে। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও হরণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া সরকারের এই ধরনের নির্যাতনমূলক ঘটনাগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা সরকারগুলোর কাছে তুলে ধরার জন্য যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন। নেতা-কর্মীদের দেশটির মূল ধারার রাজনীতিতেও যুক্ত হওয়ার আরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে করে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। ২০১৬ সালের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।
এম এ মালেক বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই সাক্ষাতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও অর্থনীতিতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন ভূমিকারও প্রশংসা করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, উপদেষ্টা শাইস্তা চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল হামিদ, সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন, লুতফুর রহমান, মামুন চৌধুরী, শেখ শামসুদ্দিন শামীম, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।