জঙ্গিবাদ দমনে দরকার, সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার

0

জিসাফো ডেস্কঃ জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি কিংবা সমঝোতা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন উগ্রবাদ চলে যাবে ।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি এবং জঙ্গিবাদ দমনে করণীয়” শীর্ষক আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী গতকাল ভারত সফরে গেছেন। গণমাধ্যম বরাতে শুনতে পাচ্ছি সেখানে অনেক গুলো সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার জন্য দুটো সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। অথচ কি স্বাক্ষর করছেন আমরা তা জানি না। তবে এই কথা বলা দরকার, প্রতিরক্ষার জন্য যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করবেন তাকে সমঝোতা বলেন আর চুক্তি বলেন দুটো একই কথা অর্থ্যাৎ দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে কমিটমেন্ট। কাজেই আপনি এমন কিছু করবেন না যাতে করে আমাদের দেশের স্বার্থ হানি ঘটে। কারণ জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোনো ধরণের সমঝোতা বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।

সরকারের উদ্দেশে মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে দেশে কোনো গণতন্ত্র নাই, রাজনীতিও নাই। আর সেকারণেই দেশে জঙ্গিবাদের উৎত্থান। আমরা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যে কোনো ধরণের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। এবং আমরা সব সময় বলে এসেছি এটা যদি বৈশ্বয়িক কোনো সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন, সবাইকে আহ্বান জানান কিন্তু আমাদেরকে (বিএনপি) আহ্বান জানান না। তাই একটি কথা খুবেই স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছাড়া জঙ্গিবাদ বিষয়ে কোনো জাতীয় ঐক্য কখনো সম্ভবপর নয়। এটা তিনিও জানেন, দেশবাসীও জানেন। ফলে যদি এই জঙ্গিবাদ সত্যিকার অর্থে নির্মূল করতে চান তাহলে সরকারের উচিত হবে জঙ্গিবাদকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহিত করে সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গিবাদ উচ্ছেদের নামে নিরীহ মানুষ ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। এটা বন্ধ করুন।এর প্রতিক্রিয়া দেশের প্রতিটি মানুষের মনে বিষণভাবে দাগ কেটেছে। সেকারণে যারা আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি করি তাদের উচিত হবে এসমস্ত বিষয়গুলো সকলের কাছে তুলে ধরা।এবং দেশের মানুষকে এবিষয়ে আরো সর্তক করে তোলা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন জঙ্গিবাদ চলে যাবে। আর সেজন্য দরকার সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার। কারণ আমরা সবাই জানি ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশে কোন ধরণের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুটো জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বিএনপির নিবন্ধন প্রসঙ্গে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, অনেকে আজ বলে থাকে যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন চলে যাবে। কথা হচ্ছে নিবন্ধন থাকুক আর না থাকুক সেটা বিষয় নয়, বিএনপি মনে করে এই মুহুর্তে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন আর স্থায়ী পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। জাতীয় নির্বাচনে সরকারের পরিবর্তন হয়। আর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারের পরিবর্তন হয় না। আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সমঝোতা সংলাপের মাধ্যমে আলোচনা চাই, সমাধান চাই। দেশের মানুষ যাতে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পায়। তবে আওয়ামী লীগ যদি সমঝোতার পথ বন্ধ করে দেয় তাহলে বিএনপি, ২০দলীয় জোট এবং ১৬ কোটি মানুষের জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প থাকবে না।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, এনপিপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।