ছাত্র ধর্মঘটে মিছিল স্লোগানে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,সর্বস্তরের ছাত্র-শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ

0

মেডিক্যাল ও ডেন্টালভর্তি পরীক্ষাবাতিল করে পুনরায় গ্রহণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদেরসর্বোচ্চ শাস্তিসহ ৪ দফা দাবি আদায়ে সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট পালন করছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য ।অন্যদিকে সকল মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
মেডিক্যালে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আহ্বানে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ছাত্র ধর্মঘটে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন
দিয়েছেন শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদী মিছিল স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অঙ্গন। তাদের ভিন্ন দুটি দাবি হচ্ছে- লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে হবে ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের এ দাবিগুলোর প্রতি শতভাগ সমর্থন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী, তিনি বলেন, ছাত্রদের এ আন্দোলন তাদের
গণতান্ত্রিক অধিকার। তারা সেটি করতেই পারে। আর সুষ্ঠু সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করলে আমরা তাতে বাধা দেব না বরং তাদের সহযোগিতা করব।

12080972_1679104955642936_205659319_n

এদিকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় ঢাবি ক্যাম্পাসের দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যায়নি। কিছু শিক্ষার্থী ক্লাস
করতে আসলেও পরে আন্দোলনে সামিল হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে না আসায় বই- খাতা বা ব্যাগ হাতে খুব
বেশি শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। তবে ফাইনাল পরীক্ষাসমূহ ধর্মঘটের আওতামুক্তরয়েছে।
কলা অনুষদের এক শিক্ষক বলেন, প্রশ্ন ফাঁস একটি অভিশাপ।এটি গুরুতর অপরাধজনিত একটি
কাজ। যা একটি যোগ্য জাতিকে বঞ্চিত করে অযোগ্যদের দিয়ে দেশ পরিচালনার পথ তৈরিকরে দেয়। এটি দেশ ও জাতির জন্য খুবই হতাশাজনক।

ঢাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে একজন মেধাবী ছাত্র তার প্রাপ্য অধিকার থেকে সরাসরি বঞ্চিত হয়। এবার মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যে ফাঁস হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কেন সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।
আমদের এ ধর্মঘট যৌক্তিক এবং তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

12071854_1679105608976204_1771234353_n

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই না ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকুক। কিন্তু মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। এর জন্য ধর্মঘট নয় আরো বৃহৎ আন্দোলন হলেও তাতে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। অসৎ পথে একজন লোক ডাক্তার হয়ে দেশের কি সেবা করবে তা আমি বুঝতে পারছি না। আমি চাই সরকার অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নেবেন।

ছাত্রজোট ও ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক ইমরান হাবিব রুমন জানান, তাদের আন্দোলন শতভাগ সফল হয়েছে।
আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যেভাবে সমর্থন পেয়েছেন তা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি সরকার যেন মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করেন। আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে একটু ভাবেন।’