ছাত্রদল এবং শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান- ফিরে দেখা প্রেক্ষাপট ১৯৭৯

0

banner2

আজকে ছাত্রদলের বড় বড় নেতাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি এই সংগঠনের এত বড় নেতা বলতে পার ছাত্রদল গঠনের সময় শহীদ জিয়ার ভুমিকা কি ছিল? অথবা অন লাইনে বহুল প্রচারিত “প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন নাকি ভার্সিটিতে যান ১৯৭৮ সালের ২৬শে আক্টোবর তখন তাকে জুতা প্রদর্শন করে বা ইট মারে” এই ছবিটির মিথ্যাচারের কোন জবাব কেউ দিতে পার না তখন হত চকিত হয়ে যাই। ছাত্রদলের কর্মী তো ভাল নেতারাই এটা জানে না তবে তাদের কাছ থেকে উন্নত নৈতিকতা কিভাবে আশা করব? আমার এই লেখা আশা করি ছাত্রদলের কর্মীরা অন্তত পক্ষে তাদের নেতা কে নিয়ে কুৎসার জবাব দিতে এগিয়ে আসবে।

Nure-Alom makhan

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি আওয়ামীলীগের হাত ধরেই কলুষিত হয়। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দু’ ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় একপক্ষের নেতৃত্বে থাকেন নুরে আলম সিদ্দিকী ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী নেতৃবৃন্দের পক্ষ অবলম্বন করেন।

9_46428 Rob

অন্য দিকে ডাকসু ভিপি আ স ম আব্দুর রব এবং শাজাহান সিরাজ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নাম করে জাসদ কে সমর্থন করে। শুরু হয় দু পক্ষের মাঝে হানাহানি মারামারি গোলাগুলি। এক্ষেত্রে সরকারের মদদ পুষ্ট মুজিব বাদী ছাত্রলীগ প্রথম সন্ত্রাস সৃষ্টি করে।

kobid_6818179750b6d9a71fd7d5.74216195.jpg_xlarge

ছাত্রলীগের অভ্যান্তরীন কোন্দলে মহসিন হলের কোহিনুর সহ সাত ছাত্রনেতাকে ব্রাশ ফায়ারের মাধ্যমে হত্যা।

download (1)

১৯৭৩ সালে ডাকসু নির্বাচনে জাসদ ছাত্রলীগের নিশ্চিত বিজয় ঠেকানোর জন্য শেখ মনির নেতৃত্বে ব্যালট বাক্স লুট।

download (2)

১৯৭৩ সালে শহীদ মিনার চত্বরে নিস্পাপ ছাত্রীর সম্ভ্রমহানি, নিজের ইজ্জত বাচানোর জন্য সূর্যসেন হলের তিন তলা থেকে অর্ধ উলঙ্গ ছাত্রীর লাফ দিয়ে পড়ে আত্মহত্যা, রক্ষীবাহিনী কর্তৃক হাজার জাসদ ছাত্রলীগের কর্মী হত্যা, গুম করা এবং একই সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচারের রাজনীতি শুরু করে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ছাত্র রাজনীতির এহেন দৈন্য দশা দেখে গুমরে কেদে ওঠেন। তিনি ছাত্র নেতাদের সাথে বৈঠক করা শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২৬শে আক্টোবর ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক দের সাথে মত বিনিময়ের জন্য ক্যাম্পাসে আগমন করেন। এর কিছুদিন পূর্বে রোকেয়া হলের প্রোভোষ্ট হিসাবে নিয়োগ পান ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা রাজিয়া খান। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনাব নুরুল আমিনের পূত্র বধু। এই নিয়োগ মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন।

প্রেসিডেন্ট জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করার সাথে কিছু ছাত্র এবং ছাত্র নামধারী বহিরাগত জিয়ার বিরুদ্ধে বর্তমানে হাকিম চত্বরে উস্কানীমুলক স্লোগান দিচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া সাথে সাথে গাড়ী থেকে নেমে একা তাদের দিকে হাটা শুরু করেন। এ পর্যায়ে কিছু ছাত্র/ অছাত্র তাকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে। জিয়া কোন কিছু উপেক্ষা না করে নিজের দেহরক্ষীদের পেছনে ফেলে ওই সব গুন্ডাদের মাঝে একা ঢুকে পড়েন। এক পর্যায়ে জিয়ার শরীর কিছু অংশ নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে রক্ত ঝড়তে থাকে আর তাকে ঘিরে উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা স্লোগান দিতে থাকে। তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেন নি।

তিনি তাদের একজন স্নেহ ময় পিতার মত জিজ্ঞাস করলেন, “বাবারা তোমরা কি চাও? আমাকে বল। আমাকে অপমান করে স্লোগান দিলেই কিন্তু সমস্যার সমাধান হবে না। তোমরা তোমাদের সব দাবী গুলো আমার কাছে উত্থাপন কর আমি সব মেনে নেব।” কিন্তু সেই সব অছাত্র বা ছাত্র নাম ধারী গুন্ডারা সেদিকে কান দিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। ইত্যাবসারে প্রেসিডেন্টের ব্যাক্তিগত দেহরক্ষীরা তাদের অস্ত্র তাক করল ওই গুন্ডাদের গুলি করার জন্য। শহীদ জিয়ার ধমকে সব দেহরক্ষী অস্ত্র নামিয়ে মাথা নীচু করে দাড়িয়ে ছিল। সামান্য কয়েক টি অছাত্র সেদিন যে কাজ করেছিল তার জন্য বিশাল অংশের ছাত্ররা সেদিন চোখের পানি ফেলছিল। অভিমন্যুর মত জিয়া সব আঘাত নীরবে সহ্য করেছিলেন। ছাত্রদের সমস্ত অন্যায় আর অসন্মান কৃষ্ণের মত গরল পান করে বেদনায় নীলকন্ঠ হচ্ছিলেন। কিন্তু এ অন্যায় বেশি ক্ষন চলেনি।

DSC08525

ভার্সিটির বিভিন্ন অংশ থেকে চোখের পানি ফেলারত ছাত্র রা খন্ড খন্ড ভাবে প্রতিবাদের গর্জনে সাগরের ঢেউ এর মত জিয়ার দিকে ছুটে আসছিলো। রোকেয়া হল এর ছাত্রীরা সব থেকে নিকটে হওয়ায় তাদের পিতৃ প্রতিম জিয়াকে লক্ষ্য করে জোয়ারের পানির মত ধেয়ে এল। ঘিরে ফেলল তাদের ভরসার স্থল জিয়াকে। এর ই মধ্যে বানের পানির মত জিয়াকে ঘিরে ফেলে ঢাকা ভার্সিটির সাধারন ছাত্র রা। শহীদ জিয়ার সেই মুহুর্তে নিরাপত্তা বলয়ের প্রথম সার্কেল তৈরী হয় রোকেয়া হলের ছাত্রীদের নিয়ে তারপর ছাত্রদের সব শেষে জিয়ার ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীরা অনেকটা হতভম্ভ হয়ে পুরো সার্কেল ঘিরে রাখে অসহায়ের মত। পিতামহ ভীশ্মের মত কৌরব পান্ডবের যুদ্ধে মৃত্যুশয্যায় শায়িত দেবতাদের আশীর্বাদ প্রাপ্ত ভীস্মকে ঘিরে কৌরব পান্ডব দের সব মহারথীরা ছিল এই ঘটনায় সন্মান জানায় সমস্ত ভার্সিটী এক হয়ে জিয়াকে সেভাবে সন্মান জানাল।

ছাত্রছাত্রীরা মুহুর্তে জিয়ার সন্মানে স্লোগান দিয়ে আকাশ বাতাশ প্রকম্পিত করে ফেলে। মিছিল ধীরে টি এস সি র দিকে চলল। সেখানে রক্ত ঝরা অবস্থায় তিনি ছাত্র শিক্ষকদের এক বক্তৃতা দিলেন। শিক্ষকদের বললেন সম্পূর্ন পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুতত্ত্ব বিভাগের তরুন শিক্ষক ডঃ খন্দকার মোশারফ এক আবেগময় ভাষায় আজকের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং বিশ্ব বিদ্যালয়ের কিছু সমস্যা খোলামেলা সমালোচনা করেন, সেখানে কিছু কিছু জায়গায় তিনি জিয়াউর রহমানের সমালোচনাও করেন তার সামনে। জিয়াউর রহমান সে বক্তব্যর তখন এক নিষ্ঠ শ্রোতা।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতারা তখন ভয়ে উৎকন্ঠায় কাতর। যেভাবে মহামান্য প্রেসিডেন্ট কে তাদের চত্বরে অপমানিত করা হয়েছে তাতে কাকে কি মাশুল দিতে হয় সে হিসাবে আত্ম চিন্তায় ক্লীষ্ট। প্রেসিডেন্ট অপমানিত নির্ধিদ্ধায় এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু ওপর পড়বে। রোষের শিকার কাকে কিভাবে হতে হবে?

DSC08518

শুরু হল শহীদ জিয়ার ভাষন। সবাই অবাক হয়ে শুনল একজন তথাকথিত সামরিক শাষক যুদ্ধ ফেরত জেনারেল কি মোলায়েম গলায় কথা উঠল তথা কথিত রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেও যেটা কেউ কখনো শুনে নি। সবাই কে ভেদাভেদ ভুলে এক সাথে কাজ করতে বললেন। প্রতিবাদ রত ছাত্রদের সমস্যার কথা শোনার জন্য তাদের সুবিধামত সময়ে তার সাথে দেখা করতে বলেছেন। প্রাচ্যের গর্ব ঢাকা ভার্সিটিকে তাদের হারানো গৌরব ফিরে আনার জন্য ছাত্রদের পড়াশুনায় মন দিতে বললেন। হাফ ছেড়ে বাচল শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সহ ভিসি। ছাত্র ছাত্ররা অবাক বিস্ময়ে শুনল এক হ্যামিলনের বাশির সুর। হ্যা পারতেন তিনি ওই মুহুর্তে গুলি করে সব ছাত্রদের মেরে ফেলতে। এতে আইনের কোন সমস্যা হত না রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় গুলি করে যে কাউকে হত্যা করা আইন সিদ্ধ। পারতেন ভিসি সহ সবাইকে জেলে পুরতে। পারতেন আরো অনেক কিছু যা খুশী তা। প্রমান তো বর্তমান বাস্তবতা একটু কল্পনা করুন। পেয়ে গেলেন সারা বাংলাদেশের অগুনিত ছাত্র ছাত্রীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আনুগত্য।

DSC08526

ছাত্র নামধারীদের সেই সব গুন্ডাগুলোকে কিন্তু আমাদের গর্ব ঢাকা ভার্সিটি মেনে নেয় নি ১৯৭৮ সালের ৬ ই নভেম্ভর ক্যাম্পাসে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন ছাত্রনেতা কাজী আসাদুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন আ ক ম গোলাম হোসেন, হাবিবুল্লাহ হাবীব, এস এম কামাল, রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী এলায়েতুল্লাহ সহ আরো অনেক।

আওয়ামীলীগ শহীদ জিয়া ভার্সিটি গমন উপলক্ষ্যে যে কাহিনী বলে তা অর্ধসত্য ও নয়। সম্পূর্ন মিথ্যাচার। আমার কথার প্রমান সাপেক্ষে আমি আওয়ামী প্রচারিত ছবি ও এখানে দিলাম। আমার লেখাকে পারলে মিথ্যা প্রমান করুক। সে সময়ের পত্রিকা এবং বইপত্রের রেফারেন্স নিয়ে আমি চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায়।

student2

২৬শে অক্টোবর ১৯৭৮ সালের পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাধারন ছাত্র ছাত্রীরা যেচে পড়ে শহীদ জিয়ার সাথে আলাপ করতে আসল। তিনি ছাত্র ছাত্রীদের সাথে খোলা মনে তাদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলাপ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সাধারন ছাত্র ছাত্রী এবং অন্যান্য ছাত্র নেতৃবৃন্দ অনুভব করেন এভাবে অসংগঠিত ভাবে ছাত্র সমাজের উন্নয়ন করা যাবে না। তারা প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে একটি ছাত্র সংগঠন করার জন্য। দীর্ঘ দুই মাস আলাপ আলোচনার পর তিনি রাজী হলেন একটি ছাত্র সংগঠন করার জন্য।

এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৭৯ সালের ১ লা জানুয়ারী প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। প্রথমে তিনি সাবেক মন্ত্রী আ স ম মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাত্রদলের দায়িত্ব দিলেন সাথে সহযোগী হিসাবে এস এ বারী। ২৬শে নভেম্ভর ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভু তত্ত্বের তরুন শিক্ষক ডঃ খন্দকার মোশারফ হোসেন কে বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করেন। এই খন্দকার মোশারফ ই কিন্তু ২৬শে অক্টোবর ১৯৭৮ টিএসসিতে জিয়ার উপস্থিতিতে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বিশ্ব বিদ্যালয়ের সমস্যা এবং কিছু ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করেছিলেন।

সেসময় শুধু ডঃ মোশারফ ই নয় আরো অনেকে যারা জিয়ার বিরুদ্ধে সেদিন প্রকাশ্যে স্লোগান দিয়েছিলেন তারাও নব গঠিত ছাত্রদলে যোগ দেয় কারন আর কিছু নয় জিয়ার আন্তরিকতা, সাহস আর সরলতা ও দেশ প্রেমে মুগ্ধ হয়ে। ঢাকা ভার্সিটির শাখার প্রথম সভাপতির নাম নজরুল ইসলাম। প্রেসিডেন্ট জিয়া ছাত্রদের ডেকে বললেন গতানুগতিক রাজনীতি করলে হবে না দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তাদের খাল খনন কর্মসূচীর সাথে সম্পৃক্ত করলেন। সাধারন মানুষ তাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এক সাথে মাটি কাটা সেই মাটি টানায় অংস নিচ্ছে দেখে বিস্ময়ে অভিভুত। কিন্তু এর ফল হয়েছিল মারাত্মক। মানুষ জনের মাঝে প্রতিযোগিতা লেগে গেল কিভাবে দেশের কাজ করবে।

১৯৭৩ সালে মুজিববাদী ছাত্রলীগ কর্তৃক ব্যালট বাক্স লুট হবার পর ডাকসু নির্বাচন স্থগিত ছিল ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। খেয়াল করুন ১৯৭৯ সালে ছাত্রদল গঠিত হবার আগ পর্যন্ত কোন ছাত্র কার্যক্রম ছিল না ছাত্রলীগের গুন্ডা সুলভ আচরনের জন্য। ১৯৮০ সালে ডাকসু নির্বাচন ঘোষিত হল, ভার্সিটিতে তখন মুজিব বাদী ছাত্রলীগ এবং জাসদ ছাত্রলীগের দুর্দান্ত প্রতাপ। সবাই ভাবল যেভাবেই হোক জিয়া তার দলীয় ছাত্রদল কে জয়ী করিয়ে নেবে অতীতের রেওয়াজ অনুযায়ী। কিন্তু বাস্তবতা হল সম্পূর্ন ভিন্ন। ছাত্রদলের নেতাদের ডেকে তিনি বলে দিলেন সামান্যতম যেন অরাজকতা না হয়। সে সময় ঢাকা ভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ফজলুল হালিম স্যার কে নির্বাচনের দিন প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন করে জেনে নিচ্ছিলেন কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা? নির্বাচন কি সুষ্ঠু হচ্ছে?

ফলাফল ঘোষিত হল। ডাকসুতে ছাত্রদল একটি আসন ও পেল না। তবে জসিম উদ্দীন হলের ভিপি ও ১টি সদস্য পদ, রোকেয়া হলের জি এস সহ সব কটি পদ পেল। ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ হতাশ বিমর্ষ। এমন সময় রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ডাক এল প্রেসিডেন্ট ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ কে ডাকছে। নেতারা ভয়ে ভয়ে জিয়ার সামনে উপস্থিত হল। তিনি অত্যান্ত আনন্দিত ভাষায় ডাকসু সুষ্ঠু হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ দিলেন। ভয় কাটলেও নেতাদের মুখ থেকে বিমর্ষভাব কাটছে না, পিতৃসুলভ স্মিত হেসে উপস্থিত নেতাদের বললেন, “ ডাকসু তে ছাত্র দল একটা আসন ও পায় নি তাতে কি হয়েছে? হল সংসদে একটা ভিপি একটা জিএস পদ সহ ১০/১১ টি পোষ্ট তো পেয়েছে। কোন ছাত্রসংগঠন গঠনের এক বছরের মধ্যে হল সংসদে এত গুলো সিট পাওয়া কম কথা না। ছাত্রনেতৃবৃন্দ যেন সমস্ত সংকীর্নতা দূর করে সাধারন ছাত্রদের কল্যানে আত্মনিয়োগ করে।” ভাবুন একবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি এটা রাজনৈতিক রূপকথা বলে কি মনে হয় না?

এই সব না তিনি বলেন, “বিজয়ী ডাকসু এবং অন্যান্য সদস্যদের যেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ফুলের মালা দিয়ে বরন করে নেয়। প্রেসিডেন্ট জিয়ার নির্দেশে পরদিন ই ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বিজয়ীদের ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। জানি না কোন তথাকথিত সামরিক জান্তা বলে যে অবজ্ঞা প্রকাশ করে শাষকশ্রেনী তা কি বিরূপ অর্থে কিনা যদি বিরূপ অর্থে হয় তবে জেনারেল জিয়া দেখিয়ে দিয়ে গেছেন সামরিক বাহিনী থেকে এসে তথাকথিত নেতাদের থেকে অনেক বেশি অসামরিক মানুষদের ভালোবাসা যায়। সামরিক বাহিনীর মানুষ রাও গর্বের সাথে মানুষের ভালোবাসা পেতে পারে।

১৯৮১ সালে র ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল ডাকসুতে একটি সদস্য পদ, মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক, কবি জসিম উদ্দীন হল এবং রোকেয়া হলের ভিপি, জিএস সহ প্রায় সব কটি পদ সহ সাকুল্যে ২৮ টি পোষ্ট পায়। প্রেসিডেন্ট জিয়া ছাত্রদলের মেন্টর জিয়া সে খবর শুনে অনেক আনন্দিত হন। নির্বাচনের কয়েক দিন পর শেরে বাংলা নগরে পুরাতন গনভবনে বিজয়ী নেতৃবৃন্দকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। আই রিপিট, বিজয়ী নেতৃবৃন্দ বলতে শুধু ছাত্রদলের বিজয়ী নেতাদের কথা বলা হচ্ছে না। অন্যান্য সংগঠনেরও বিজয়ী মানে পুরো ডাকসুকে সংবর্ধনা দেয়া যেখানে প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রধান অতিথি ছিলেন।

তিনি সেদিন প্রধান অতিথির যে ভাষন দিয়েছিলেন তা ছাত্র সমাজের জন্য কালোত্তীর্ন বানী হিসাবে থাকবে। আগামী পর্বে শহীদ জিয়ার সেই ভাষন এখানে তুলে ধরার ইচ্ছা আছে।

সেদিন যারা ছাত্রদলের সাথে যুক্ত ছিলেন তারা কিন্তু এখনকার সদ্য নেতাদের মত এক দিনে নেতা হয় নি। দিনের পর দিন সাধারন ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষে তাদের কাজ করতে হয়েছে। না হলে সেই সময় ছিল সাধারন ছাত্র ছাত্রীদের মেধাবীদের জয় জয়কার। যোগ্যতা সম্পন্ন না হলে কেউ নেতা হতে পারত না। রুলিং পার্টির ছাত্রদল সে দলকে যেভাবে আগুনে পুড়িয়ে জিয়া খাটি সোনা করে দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিল আজকে কিভাবে দলের মধ্যে থেকে আগুনে পোড়া খাটি দেশ প্রেমিক নেতা তৈরী হচ্ছে? অন্য দিক থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কি সেভাবে নৈতিক অধিকার খাটিয়ে নতুন নেতা তৈরী হবার সুযোগ দিচ্ছে? জিয়ার আদর্শ আদর্শ বলে বর্তমান নেতারা মুখে ফেনা তুলে ফেলে। আমার কথা হল আদর্শ কি বইয়ের পাতায় লেখা থাকে? নাকি কোন দোকানে কিনতে পাওয়া যায়? নাকি টাকা দিলে বানিয়ে দেয়া যায়? আদর্শ বলতে আসলে কি বুজায় কেউ কি একটু বলে দেবেন?

student

“আমার ছেলেরা আমি তোমাদের অভুতপূর্ব বিজয়ে ভীষন আনন্দিত। আমি যে কতটা খুশী হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এক বৎসর পূর্বে আমি বলছিলাম যদি তোমরা সাধারন ছাত্রদের কল্যানে আত্মনিয়োগ করতে পার তবে সামনের বছর তোমরা ভাল করবে। আমার কথা কি ঠিক হয়েছে?” তিনি নিজেই বললেন “আমার কথা ১০০% ঠিক হয়েছে।” একটু থেমে আবার বললেন, “আমার প্রান প্রিয় ছেলেরা তোমরা যদি সাধারন ছাত্রদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পার, সাধারন ছাত্রদের মন জয় করতে পার তবে আমি নিশ্চিত আগামী ছাত্র সংসদে তোমরা আরো বেশী আসন পাবে হল সংসদে সর্বাধিক আসন পাবে।”

“আমি দিব্য দেখতে পাচ্ছি যে সেদিন আর বেশী দূরে নয় যেদিন ডাকসুতে তোমরা পূর্ন প্যানেলে বিজয়ী হবে। বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ সংগঠন হিসাবে ছাত্রদল আত্মপ্রকাশ করবে। সেদিন হয়ত আমি নাও থাকতে পারি আমার ছেলেরা। আমি যদি নাও থাকি তোমরা ছাত্রদল কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজ যারা ছাত্র তারাই আগামী দিনের নেতা, মন্ত্রী, বিচারক ও প্রশাসক। আমি চাই যে ছাত্রদলের ছেলেরাই আগামী দিনের রাজনীতি ও প্রশাসনের সর্বস্তরে নেতৃত্ব দেবে। তোমরাই হবে আগামী দিনের দেশের মুল চালিকা শক্তি। সুতারং তোমাদের সেভাবেই গড়ে উঠতে হবে। – শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম ”

দুরদ্রষ্টা প্রেসিডেন্ট জিয়ার সে ভবিষ্যত বানী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। এক বিন্দু এদিক ওদিক হয়নি। ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল এ জি এস, সমাজসেব সম্পাদক সহ ৫টি হল সংসদে মোট ৫৫ টি পদে জয় লাভ করে। আর মাত্র ৭/৮ বছরের ব্যাবধানে ছাত্রদল সব থেকে বড় ছাত্র সংগঠনে পরিনত হয়। ১৯৯০ সালের এক পরিসংখানে দেখা যায় ডাকসু, বাকসু, ইউকসু, বামেকসু, ঢামেকসু সহ বাংলাদেশের ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে ছাত্রদল পূর্ন প্যানেলে জয়ী হয়। ৩০৮টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ / কলেজে পূর্ন প্যানেলে জয়ী হয়। এটা একটা রেকর্ড। যা এক মাত্র ছাত্রদলেরই আছে।

প্রায়ই আমরা একটা কথা বলি, “জিয়ার আদর্শ চর্চা করি আমরা”। অথচ যারা এই কথা বলে তাদের কে একবার জিজ্ঞাস করে দেখতো জিয়ার আদর্শ কি? জিয়ার আদর্শ কোথায় পাব? আদর্শ হল সেই জিনিস যা অন্য কেউ করবে এবং সেই কর্মকে নিজের কাজের মাঝে ফুটিয়ে তোলা। তো যার আদর্শকে লালন করব তাকে নিয়ে আমাদের জানতে হবে অথচ এই ব্যাপারটাতেই আমাদের যত অনীহা। জিয়াউর রহমানের দর্শন, আদর্শ কোন দিন বাংলাদেশ জিন্দাবাদের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল না। ছিল অনেক গভীর। যে গভীরতা প্রশান্তি আনে আত্মপরিচয়ের সুলুক সন্ধানে।

৯০ দশকের ছাত্রদলের প্রকৃত আদর্শের দুই অবিসংবাদিত  সেনানী

তিনি ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, ভাষা জনগোষ্ঠী একই ভৌগলিক সীমার মাঝে জাতীয় পরিচয় যা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের কনসেপ্ট এর মধ্য দিয়ে পূর্নতা লাভ করিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত আত্ম আবিস্কারের এই নব প্রেরনা সেদিন ছাত্রদল নামক নবীন প্রানে প্রটোপ্লাজম সৃষ্টি হয়েছিল।

হলের মেঝেতে সাতজন ছাত্রের লাশ, মুহুর্তে ব্যালট বাক্স অন্তর্ধান, শহীদ মিনার চত্বরে নিস্পাপ ছাত্রীর সম্ভ্রম হানি, বিরোধী মতবাদ রক্ষীবাহিনীর বেয়োনেটের আগায়। সব অন্ধকার এক নিমিষে হারিয়ে যায় জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে সৃষ্ট ছাত্রদলের উজ্জ্বল আদর্শে বলীয়ান একঝাক তরুনের দীপ্ত কঠিন দেশ গড়ার শপথে।

কার্টসীঃ দ্যা জিয়া ডাইন্যাষ্টি পেইজ থেকে ক্যাপ্টেন নিমো

সম্পাদনাঃ ফাইজাল এস খান।