চেতনার মিটারে আমাদের রিডিং এখন শুধুই ভারত ভাগ্য বিধাতা : কাণ্ডারি অথর্ব

0

একটা সময় ছিলো যখন সামহোয়্যার ইন ব্লগে লেখালিখি করতাম। যদিও সেই লেখালিখির কারণে নিজেকে কখনও ব্লগার বলে মনে হয়নি। তারপরেও যদি ধরে নেই আমি একজন ব্লগার তবে বলতেই হয় সাবেক ব্লগার। কারণ ব্লগে লেখালিখি ছেড়ে দিয়েছি। এখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতেই ভালো লাগে। এখন স্বাধীনতার মাস চলছে। তা স্বাধীনতা নিয়ে একেবারেই কিছু না লিখলেই নয়। নতুবা লেখালিখির একটা ইজ্জত বলে কথা আছে না! ব্লগে যখন ছিলাম একটা সিরিজ লিখেছিলাম উত্তাল মার্চ নামে। লেখাগুলো ছিলো ইতিহাস থেকে চুরি করে লেখা। নিজেতো আর ইতিহাস বানিয়ে বানিয়ে লিখতে পারবোনা তাই চুরি করেই লিখেছিলাম। যাই হোক চুরি বিদ্যা বড় খারাপ বিদ্যা। তাই চুরি করে কিছু লেখালিখি ছেড়ে দিয়েছি। এখন লিখি নিজের ভাবনাগুলো নিয়ে। তাই স্বাধীনতা নিয়ে এই লেখাটা ইতিহাস ভিত্তিক না লিখে লিখছি নিজের একান্ত ভাবনা থেকেই। ভূমিকা শেষ এবার মূল লেখায় যাচ্ছি।

আমিও গ্রামের পোলা চুতমারানি গালি দিতে আমিও জানি

স্বাধীনতা নিয়ে লেখার শুরুতে গালি দিয়ে শুরু করাটা শোভনীয় নয়। কিন্তু আমার মতো একজন আবেগী মানুষের জন্য এরচেয়ে ভাল কিছু আর ভাবনায় আসছেনা। একটা ছোট গল্প বলি। গল্পের ছলে কিছু ধাঁধাঁর উত্তর না হয় আপনারা খুঁজে নেবেন।

একদা এক বনের রাজা ছিলো এক বাঘ। নিজের বনটাকে রক্ষার জন্য বেশ হুংকার গর্জন দিয়ে বনের অন্যান্য পশুদের নিয়ে বেশ জমিয়ে দিলো বনটাকে। বনের সব পশুরা তাদের প্রিয় বনটাকে রক্ষার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত হলো। কিন্তু শত্রুপক্ষ বনের রাজাকে শিকারের আগেই জালে বেঁধে ফেলল। কিন্তু অকুতোভয় বনের পশুরা বীরদর্পে তাদের যুদ্ধ চালিয়ে গেল। তাতে করে অনেক পশু প্রাণ দিলো। অনেক স্ত্রী পশু তাদের সম্ভ্রম হারালো। এদের এমন করুণ পরিণতি দেখে পাশের বন তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য রাজী হলো। এমনকি কিছু পাইক পেয়াদা পাঠিয়ে দিলো। এখানে কথা হচ্ছে ধরুন আপনার পাশের বাড়িতে আগুন লেগেছে এখন আপনি নিশ্চয় প্রতিবেশি হিসেবে ঘরে চুপ করে বসে থাকবেন না। আগুন নেভাতে যাবেন কিংবা পুড়ে যাওয়া বাড়ির মানুষদের আশ্রয় দেবেন। এটাই মানবিকতা। কিন্তু সেই সাহায্যের বদলে আপনি নিশ্চয় তার ঘরের সম্পদের উপর ভাগ চাইবেন না। যদি চান তবে আর আপনার মানবিকতার কোন মূল্য থাকেনা। যাই হোক বনের গল্পে আবার ফিরে আসি। বনের যুদ্ধ শেষ হলো। বনও রক্ষা পেল শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ঘটনা প্যাঁচ খেলো অন্য জায়গায়। বনের জন্য যে শিয়াল পন্ডিত অগ্রণী ভূমিকা পালন করলো, যে পশুদের আত্মত্যাগে বনটা রক্ষা পেল; তাদের স্থলে বনের মীমাংসা হলো পাশের বনের পাইক পেয়াদাদের কাছে। শুধু কী তাই শিয়াল পন্ডিত হারিয়ে গেল বনের ইতিহাস থেকে। এমন অনেক বীর পশুরাই বনের ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেল। যুদ্ধ শেষে মুক্তি পেয়ে ফিরে এলো বনের রাজা। এখন পুরো বনের অধিকার শুধু তার।

কি গল্পটা খুব পরিচিত লাগছে; তাইনা ? আসুন একটা ছবি দেখি। ছবিটা দেখে গল্পের ভেতর লুকিয়ে থাকা ধাঁধাঁর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।  

তারপর নানা ইতিহাস। শুরুতেই বলেছি এই লেখা কোন ইতিহাস ভিত্তিক লেখা নয়। তাই ইতিহাস না ঘেটে একান্তই আমার কিছু ভাবনা নিয়ে এগুচ্ছি।

দীর্ঘ বছরের পর আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতা এলো। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পদ্ধতিটাই হলো নির্বাচনের মাধ্যমে আসা। আর এই নির্বাচনে জয়ী হতে রাজনৈতিক দলগুলোকে চালাতে হয় তাদের নিজেদের পক্ষে প্রচার প্রচারণা। সেবার আওয়ামীলীগ দেশে পুনরায় ক্ষমতায় আসার জন্য তেমনই প্রচার প্রচারণা চালালো। তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিলো বিটিভিতে দেয়া শেখ হাসিনার এক ভাষণ। যেখানে তিনি বলেছিলেন যে;

দেশটা কি একটা পণ্য যে চাইলেই ভারতের কাছে বিক্রি করে দেয়া যাবে।

এভাবে ভারত জুজুর ভয় দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলকে দাবিয়ে রাখা যাবেনা। তাদের যেন ভোট দেয়া হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এখনও আওয়ামীলীগ সমর্থিতরা ঠিক এই কথাগুলোকেই দৈব বানীর মতো মান্য করে চলে। আমিও ভাবি আসলেইতো দেশ কি কোন পণ্য নাকি; যে চাইলেই বিক্রি করে দেয়া যাবে !

কিন্তু বিষয়টাকে যদি বিক্রির পর্যায় না নিয়ে একটু ভিন্ন ভাবে বোঝার চেষ্টা করি তাহলে হয়ত কোন সমাধানে আসা সম্ভব। অর্থনৈতিক এবং ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন কথা হলো এমন কিছু চাহিদা আছে যা মেটাতে প্রয়োজন কৌশল। অন্যায় আবদার মেটাতে হলে হয় দখলে যেতে হবে নতুবা কৌশল রপ্ত করতে হবে। যেহেতু দখলে যেতে পারছেনা বিশ্ব রাজনীতিতে হুমকীর মুখে পড়তে হবে বলে তাই কৌশল অবলম্বন করাটাই এখানে শ্রেয়। আর এই কৌশলটাই হলো বাংলাদেশকে দাসে পরিণত করা। এমন একজন প্রতিনিধি সেট করা যাকে দিয়ে সব কাজ সহজেই বাগিয়ে নেয়া সম্ভব। যেমন ইংরেজরা মীর জাফরকে ব্যবহার করে যুদ্ধ জয় করিয়ে নিয়েছিলো। যেমনটা ভারত সিকিমের জন্য লেন্দুপ দর্জিকে ব্যবহার করে করেছিলো ঠিক তেমনই অনেকটা।

আসুন দেখা যাক ভারত বাংলাদেশের দ্বারা অর্থনৈতিক ভাবে কোন কোন দিক দিয়ে লাভবান হচ্ছে। ভারতের মূল রাজস্ব আয়ের একটা বড় অংশ হলো তাদের সিনেমা এবং চ্যানেলগুলো। যার একটা বড় বাজার হলো বাংলাদেশ। শুধু কী তাই; মুসলমান অধ্যুষিত এই দেশে কোরবানির জন্য প্রচুর পরিমাণে গরুর প্রয়োজন হয় প্রতি বছর। যা কখনও চোরাই পথে আর কখনও ট্যাক্স দিয়ে সরকারী ভাবে ভারত থেকে আসে। পেঁয়াজ, ডাল, চিনি, সাবান, টুথ পেস্ট, অন্তর্বাস, হোন্ডা, গাড়ি, ওষুধ ইত্যাদি প্রায় সবকিছুরই জন্য বড় বাজার হলো একমাত্র বাংলাদেশ। কারণ পৃথিবীর আর কোথাও ভারতীয় সাবান কিংবা ওয়াশিং পাউডার চলেনা। একমাত্র বাংলাদেশেই এসব পণ্যের চাহিদা আছে। আর এইসব পণ্যের চাহিদা এই দেশে থাকার কারণ কি? এই দেশে কি এসব পণ্য উৎপাদিত হয় না? অবশ্যই হয়।

সুন্দরবনের শ্যালা নদীর ফার্নেস তৈল চিত্রকর্ম !!!  

কিন্তু সমস্যা হলো এই দেশের উৎপাদন মুখী সবগুলো সেক্টরকে পঙ্গু করে দেয়া হচ্ছে ধীরে ধীরে। আমরা এখন গর্ব করে আমাদেরই জামদানী শাড়ি কিংবা রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে আমাদের সম্পদ বলতে পারিনা। আমরা হারাতে বসেছি বিশ্বে আমাদের পোশাক শিল্পের বাজার। আমাদের পাট শিল্প, সিমেন্ট শিল্প ওষুধ শিল্প সব ধ্বংসের মুখে। এমনকি গৌরব উজ্জ্বল সিনেমা জগতটাও শেষ হওয়ার পথে। এখনতো আবার ভারতীয় সিনেমা চলছে অবাধে এই দেশের হলগুলোতে। যে সুন্দরবন নিয়ে আমরা গর্ব করি সেটাকেও ধ্বংস করার পায়তারা চলছে।

এত ব্যবসা দেয়ার পরেও কি থেমে আছে সীমান্তে নির্বিচারে বাংলাদেশের মানুষ হত্যা ?

এইত গেল অর্থনৈতিক লাভের দিক এবার ভৌগোলিক অবস্থানের দিকটায় আসা যাক।

নদীর ন্যায্য পানি নিয়ে সেই স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনরত। কিন্তু সমস্যার সমাধান কতটুকু হয়েছে ? কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং পানি না দিয়ে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমন্ত্রণে ওপার বাংলা থেকে মমতা তার শিল্পীদের নিয়ে এসে বলে যায় দুই বাংলা এক হওয়ার গল্প। এইখানে কি আমাদের চেতনায় দেশকে পণ্য বলে মনে হয়না ? দুই বাংলা এক হওয়ার মর্মটা আসলে কি হতে পারে? যাই হোক দুই বাংলা এক হোক কিংবা নাহোক ন্যায্য পানি বন্টন কিন্তু সেই স্বপ্নই রয়ে গেলো। আর যে দেশের সাথে নদীর পানির ন্যায্য পানি বন্টনই হয়না; সেই দেশের সাথে সমুদ্র বিজয় কি করে হয় আমার বোধগম্য হয়না বিষয়টা!

সে যাই হোক নদী নিয়ে প্রসঙ্গ আসাতে আমার একটা ছবির কথা খুব মনে পড়ে গেলো। দেখুন তো নীচের ছবিটা চেনা যায় কিনা ?

এই হলো সেই তিতাস নদী। যার উপর বাঁধ দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার নামক প্রদেশে বিদ্যুৎ এর জন্য মালামাল বহনে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একেতো আমাদের নদীর ধর্ষণ করা হয় তার উপর কোন শুল্ক নেয়া হয়না এই কাজে। আর এই সেই সেভেন সিস্টার যার স্বাধীনতা প্রাপ্ত হওয়া ভারতের কাছে হবে দুঃস্বপ্নের মতো। কিন্তু এই প্রদেশটা এমনই এক বেগতিক স্থানে রয়েছে যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন বাংলাদেশের মাটি। আর ভারতের মতো একটি দেশ নিশ্চয় আমাদের পায়ে ধরে সেই সুবিধা ভোগ করতে চাইবেনা। দখলও করতে পারবেনা। তাই যদি নিজস্ব প্রতিনিধি বসিয়ে কাজ সহজে বাগিয়ে নেয়া যায় তাহলে ক্ষতি কি!

এখন ভারতের এমন চরিত্রের প্রতি এতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলার নেপথ্যের কারণে আসি। অনেকেই বলবেন খেলাধুলা কিংবা সংস্কৃতির সাথে রাজনীতি না মেলাতে। কিন্তু ভারত এমন একটা দেশ যার সাথে রাজনীতি না মিলিয়ে অন্য কোন উপায় নেই। কারণ তারাই সবকিছুতে রাজনীতি মেশায়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে বেহায়াপনা আর নগ্নতা ছাড়া কিছুই নেই। যার ফলাফল খোদ তাদের দেশে ধর্ষণের পরিমাণ দিয়েই প্রমাণিত হয়। আর খেলাধুলার মধ্যে আছে এক ক্রিকেট। যারও নগ্নতার পরিচয় ভারত এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে।

ঢাকার মাঠে শিলার যৌবন দেখে যৌনতার সুরসুরিটা বেশ উপভোগ্য ছিলো; তাই নয় কি ? 

এতকিছুর পরেও ভারত তাদের এই ষড়যন্ত্রে শতভাগ সফল। তার প্রমাণ পাওয়া যায় কিছু মানুষের কথা শুনলে। ভারতের এমন কর্মকাণ্ডে নাকি এই দেশের কিছু মানুষ প্রশ্রয় পেয়ে গেছে ভারতের বিপক্ষে খুশিতে বোগল দাবা করে কথা বলতে। আর দুঃখটা লাগে যাদের কাছ থেকে এমন কথা শোনা যায় তারা নাকি এই দেশেরই নাগরিক। তারাই নাকি দেশ প্রেমিক। তাদের দেশপ্রেম হলো দেশের ছাপাখানার বারোটা বাজিয়ে ভারতের নিম্নমানের ছাপাখানায় গিয়ে বই ছাপিয়ে এনে ভারতের জিডিপিতে সাহায্য করার মাঝে। আজকে হয়ত অনেকেই ভারতের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষণিকের আবেগে খুব দেশপ্রেম দেখাবে। কিন্তু তারপর পুনরায় এদেশের হলে ভারতীয় সিনেমার মুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখাবে, আমাদের নোবেল বিজয়ী কে অপমানিত করে ভারতীয় নোবেল বিজয়ীকে নিয়ে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেবে, ভারতীয় চ্যানেলের প্রতি আসক্ত হয়ে থাকবে, ঢাকার মাঠে ভারতের খেলা হলে ভারতের পতাকা গায়ে জড়িয়ে উল্লাস করবে।

আজকে কেন দেশের অন্যতম প্রধান একটি রাজনৈতিক দল যাদের রয়েছে গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস, দেশের জনগণের ভোট বিহীন সরকার গঠনকৃত ক্ষমতাসীন দলের কাছে নির্যাতিত, নিপীড়িত ? এই কী তবে আমাদের স্বাধীনতা ?

তোমাদের বুকেতে যখন ভারতীয় সাহারা,

তখন কেমনে আশা করো আইসিসি দেবে পাহারা ?  

 

সোস : https://www.facebook.com/notes/414731112028877/

বি : দ্র: এই লেখাটি ফেসবুক প্রোপ্রাইল কাণ্ডারি অথর্ব এর নোট থেকে কপিকৃত। এই লেখার সমস্ত দায়দায়িত্ব একমাত্র লেখকের ।