চেতনার মানদণ্ডে আমার দেশপ্রেম ! : কাণ্ডারি অথর্ব

0

কেএফসির হিমশীতল বাতাসে বসে হাজার টাকা খরচ করে মুরগীর পোড়া পাখনা খাওয়ার মতো বিলাসীতা করা আমাকেই মানায়। যে মেয়েটা বাসে বাসে ঘুরে হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে এক টাকার লজেন্স বিক্রি করে ভাত খাওয়ার জন্য নীরবে কাঁদে; তার শরীরে লেগে থাকা ময়লার গন্ধ আমার কাছে বাটপারী বলে মনে হয়। কারণ আমি যে লাখ লাখ টাকা আয় করি তা আমার কাছে বাটপারী বলে মনে হয়না। কোটি কোটি বেকারের দেশে কাউকে চাকরী দিয়ে যদি লাখ টাকা কামিয়ে নেয়া যায়; তাহলে ক্ষতি কিসের। এই পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভাবে আজকাল কোন কিছু হয় নাকি আবার! আর টাকার বিনিময়ে যাকে চাকরী দিলাম তারতো কোন ক্ষতি করিনি বরং সেও দুটি পয়সা রোজগার করে সংসার চালাতে পারবে। তারওতো আমার মতো কেএফসিতে গিয়ে মুরগীর পোড়া পাখনা খাওয়ার শখ হয়। শুধু কি তাই দেশের মাথাপিছু আয়তো আমার কারণেই বাড়ছে। এইসব বাটপার ভিক্ষুকদের কথা ভেবে আমার কি লাভ? এসব হলো ভিক্ষুকদের নতুন কৌশল। কোথায় কাজ কর্ম করবে, তা না করে ভিক্ষা করার নতুন নতুন কৌশল বের করে। সব ধান্দাবাজ! ভাবছে এক টাকার লজেন্স এভাবে বিক্রি করলেই আমি তাকে ভাল মনে করব। তাছাড়া এর পেছনে রয়েছে লজেন্স কোম্পানির যোগসাজশ। এরা এদের লজেন্সের বিক্রির জন্যই এইসব মেয়েদের ব্যবহার করে। আরে লজেন্স বিক্রি না করে বেশ্যাগিরি করে খেলেও এরচেয়ে অনেক বেশি টাকা রোজগার করতে পারে। তা না করে করবে যতসব বাটপারী কাজ কর্ম।

আমি অনেক বড় মাপের একজন দেশপ্রেমিক। একুশে পদক বোগল দাবা করতে পেরে ভীষণ খুশি। আমার মতো দেশপ্রেমিক আর কতজন আছে এইদেশে? বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। দেশ ডিজিটাল হয়েছে এত আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের। আমার আইফোনে এখন পাউডার কোম্পানি থেকে এসএমএস আসে। কুইজের সঠিক উত্তর দিতে পারলে প্রথম তিনজনের মধ্যে আমিও একজন সৌভাগ্যবান হিসেবে নির্বাচিত হতে পারি ইচ্ছে করলেই। পুরস্কার হিসেবে এক সন্ধ্যায় শেরাটন হোটেলে দীপিকার সাথে ডিনার করার সুযোগ আমিও পেতে পারি। আমার ভাগ্য অনেক ভাল যে পাউডার আর মোবাইল কোম্পানিগুলো নায়িকা শাবনুরের সাথে ডিনার করার সুযোগ দেয়নি। দিলে কি বিশ্রী একটা ব্যাপার হতো ! আমার মতো একজন দেশপ্রেমিক শাবনুরের সাথে ডিনার করবে এটা কিছুতেই হতে পারেনা। এটা মেনে নেয়া অসম্ভব। হাজার হোক আমার একটা স্ট্যাটাস আছে। আমার দেশের কোন জিনিসটা ভাল হয় ! পড়াশোনার জন্য সামান্য বই যে দেশের ছাপাখানা ছাপাতে পারেনা সেই দেশের সিনেমার নায়িকারা আর কেমন হবে ? তার চেয়ে ভারত থেকে বই ছাপিয়ে আনাটাই আমার স্ট্যাটাসের সাথে যায়। যে আমি পরনের জাঙ্গিয়াটা পর্যন্ত ভারতের না হলে পরিনা; সে আমি কিভাবে শাবনুরের সাথে ডিনার করবো !

আমার দেশপ্রেমের চেতনা মারাত্মক !

যদি দেশকে সত্যিই ভালোবাসেন তবে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন আপনার অবস্থান কোথায়?

আমি একজন জাতীয়তাবাদী তাই হয়ত আমার লেখা ভালো লাগতে নাই পারে। হয়ত আমাকে দেশপ্রেমিক না ভেবে দল প্রেমিকও ভাবতে পারেন অনেকে। কিন্তু আপনারা যারা দেশপ্রেমিক, যারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবেন তাদের জন্য এই লেখা।

অনেকেই মনে করেন বি এন পি এবং আওয়ামীলীগ শুধুই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। তারা দেশের জন্য নয় বরং যা করে নিজেদের স্বার্থেই করে। তাই যদি হয় তাহলে আপনাদের ভূমিকা কি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ?

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় রয়েছে সেখানে আপনাদের ভোট ছিলো কত পার্সেন্ট ? যদি ভোট দিয়ে নাই থাকেন তাহলে দুটি বিষয় হতে পারে; এক. আপনারা চান নাই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকুক নতুবা দুই. একপাক্ষিক নির্বাচন মেনে নেন নাই। নতুবা মাত্র ৫% ভোট কি করে হয় ? যে কারণেই হোক যদি নিজেদের বাংলাদেশের দায়িত্বশীল একজন নাগরিক হিসেবে মনে করেন তবে ভোট দিয়ে আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করা থেকে বিরত থাকতে পারেন না কিছুতেই। আর সেই ভোটের অধিকার ফিরে পেতেই চলমান আন্দোলন।

এখন হয়ত বলবেন, যে আন্দোলন চলছে সেটা আপনাদের পছন্দ নয়। তাহলে আপনারা আপনাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে হলে যেভাবে আন্দোলন চলতে পারে তা করছেন না কেন ? উত্তর যদি হয় আপনারা চান না সেই অধিকার কিংবা চান আওয়ামীলীগই ক্ষমতায় থাকুক তাহলে বলতেই হয় আপনারা মোটেও নিরপেক্ষ দেশপ্রেমিক নন। ভোটের সময় ভোট না দিয়ে বিতর্কের জন্ম দেবেন আবার আন্দোলন এর সময় উল্টো রথে চলবেন; পুরোপুরি স্ববিরোধী কাজ এটা। আর এই যে, আওয়ামীলীগ শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য মানুষ হত্যা করছে; এটাকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন আপনারা যারা নিজেদের নিরপেক্ষ বলে মনে করেন? নাকি মানুষ হত্যাকে জায়েজ বলে মনে করেন? আওয়ামীলীগ যদি এতই ভালো দল হয় তবে কেন নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়া নিয়ে তাদের এত সমস্যা? এটা মেনে নিলেই দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে; তাই নয় কি! কিন্তু ভেবে দেখুন আওয়ামীলীগ কি করছে ? দেশকে যেন তারা সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

যাই হোক; রাজনৈতিক বিতর্ক না হয় বাদই দিলাম। আপনারা যারা নিরপেক্ষ দেশপ্রেমিক তাদের কাছে কিছু দিক তুলে ধরছি। দয়া করে ভেবে দেখবেন দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে ?

ভারতের তাবেদারী করেও ন্যায্য পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে; পরিণামে দেশের প্রায় সবগুলো নদী মরে যাচ্ছে। এই দায় কার ? অথচ কোলকাতার নায়ক এসে বলে যায় দুই বাংলা এক হোক। সিনেমা হলে শাকিব খানের সিনেমা না চললেও দেবের সিনেমা চলবে আর আমাদের চেতনায় থাকবে তখন শুধুই সানি লিওন। আমরা প্রভাবে ঘৃণা করলেও সানি লিওনের নাচানাচি দেখতে খুব পছন্দ করি। ভাই এ আমাদের কেমন চেতনা ?

যদি দীর্ঘ মানব পতাকা বানিয়ে আর জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনিজ বুকে নাম লেখানো দেশপ্রেম হয় তবে কুকুরের গায়ে যারা দেশের পতাকা পরায় তার বিরুদ্ধে রাজপথে না নামা কোন জাতীয় দেশপ্রেম ?

দেশীয় সংস্কৃতি আজ কোন পথে ? আপনি বাংলা সিনেমা দেখবেন না কারণ ওইগুলো রিক্সাওয়ালাদের জন্য; তা আপনারা যারা কোলকাতা কিংবা তামিল ছবির ভক্ত ওইগুলো কোন পদের একবার ভেবে দেখবেন। যারা বাংলা সিনেমা নিয়ে সমালোচনা করেন তারা কয়টা বাংলা সিনেমা দেখেন ভেবে দেখবেন। যদি মুনমুন আর ময়ূরীর নাভি দেখেই বলেন বাংলা সিনেমা অশ্লীল তাহলে কোলকাতা আর তামিল ছবির নায়িকাদের উরু দেখে কেন অশ্লীল মনে হবে না ? এমন দ্বিমুখী নীতি কেন ? যদি দ্বিমুখী নীতি নাই চান তাহলে এই দেশের হলে ভারতীয় সিনেমা চলবে সেটা কি করে মেনে নেন ? দেশের মা-বোনেরা ভারতীয় নাটক দেখে অভ্যস্ত যার ফল স্বরূপ দেশে পরকীয়ার নিষ্ঠুর বলি হচ্ছে মানুষ হরদম। এই দায় তবে কার ?

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভেবে দেখুন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

দেশের ছাপা শিল্পের বদলে নিম্নমানের ভারতীয় ছাপাখানায় বই ছাপানোর উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবুন ? ভাবুন দেশের ছাপা শিল্পের সাথে জড়িত মানুষগুলোর সম্পর্কে।

ভেবে দেখুন শেয়ার বাজার আর ব্যাংকগুলোর দৈন্যদশা সম্পর্কে। এই দায় কার ?

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসছে বার বার। কখনও ইসলামের পক্ষে আর কখনও বিপক্ষে। এই মুহূর্তে যাদের দেখা যাচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারাই আবার নাস্তিকতার পক্ষে মানববন্ধন করছে। কখনওবা হিন্দু ধর্মের প্রতি উস্কানী দেয়া হচ্ছে। একদিকে যেমন হিন্দুদের বাড়িঘর মন্দির পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে অন্যদিকে আবার সংসদ ভবনে পূজার আয়োজন করে আবার নিজেরাই এর বিরোধীতা করছে। ফলাফল স্বরূপ দেশ যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দিকে এগিয়ে। এই দায় তবে কার ?

আগে কোন শুভকাজে দোয়ার আয়োজন করা হতো এখন তার বদলে এসেছে বলি প্রথা। এইসব কিসের ইঙ্গিত বহন করে ? আমরা ধর্ম বিদ্বেষী নই কিন্তু আমাদের মাঝে খুব সুক্ষভাবেই এই বিদ্বেষ ধীরে ধীরে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

কেউ কেউ সুন্দরবনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনার বিপক্ষে। কেউ আবার পক্ষে। কিন্তু যখন শ্যালা নদীতে ফার্নেস ওয়েল পড়ে প্রমাণ করে দিলো যে আত্মঘাতী সিদ্ধ্যান্ত নেয়া হয়েছে তবু কেন আপনাদের নিরপেক্ষতা আওয়াজ তুলেনা ? এই দায় তবে কার ?

মুখে ফেলানী ফেলানী করে ফেনা তুলে ফেলেন কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন কেন এত সীমান্ত হত্যাকান্ড? কেন বিজিবি সীমান্তে অপারগ হলেও এরা গণতন্ত্রকামী মানুষের বুকে গুলী চালাতে দ্বিধা বোধ করেনা? কেন পীলখানার হত্যাকান্ড ঘটলো? আর কেনই বা বিডিআর এর কোমর ভেঙে বিজিবি গঠিত হলো ?

দেশের আইন-আদালত ও প্রশাসন যেভাবে একতরফা ভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে সেখানে একটি দলের নির্বাচনে অংশ না নেয়া এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য যে আন্দোলন সেটা নিশ্চয় অযৌক্তিক নয়। কিন্তু আপনাদের নিরপেক্ষতা তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয় যখন গণপিটুনির নাম করে ৫৬টা গুলীতে চারজন মানুষ মারা গেলে আপনারা চুপচাপ থাকেন অথচ কোন নাস্তিক মারা গেলে আপনারা উদ্বিগ্নে মরেন দেশ রসাতলে গেল ভেবে। এমন দ্বিমুখী নীতি কি সত্যি নিরপেক্ষতার পরিচয় বহন করে ?

আজকে যারা ভারত প্রীতি নিয়ে গভীর প্রেমে মজে আছেন তাদের মোহ যেদিন ভেঙে যাবে সেদিন হয়ত অনেক দেরী হয়ে যাবে। হয়ত সেদিন আপনারা চিৎকার করে কাঁদলেও আজকের দিনে যারা লাশ হচ্ছে তাদের হাজার চাইলেও আর পাশে পাবেন না। হয়ত আমাকে আপনারা বদ্ধ পাগল বলে গালি দিবেন কিন্তু আজ না হলে একদিন ঠিকই এই পাগলের কথাই মনে পড়বে। দেশ যে অন্ধকারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দোয়া করি সেই দিক থেকে ফিরে আসুক। নতুবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে কিছুতেই দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবেনা। বি এন পির এই আন্দোলনের কথা বাদ দিন কিন্তু একবার নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথাই নাহয় ভাবুন!

screenshot-www facebook com 2015-08-28 15-17-16

দেশের প্রতি এইটুকু ভালোবাসা থাকার জন্যই দরকার জাতীয়তাবাদের লাল ও সবুজের পতাকা হৃদয়ে ধারণ করা। যে জাতীয়তাবাদ শিক্ষা দেয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতির ভিন্নতা ভেদে সকলকে এক বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। আজ যদি হৃদয়ে এই চেতনা থাকতো সবার তাহলে দেশে এভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ মূলক ঘটনা কিছুতেই ঘটতে পারতো না। শহীদ জিয়া তাইতো মনে করতেন ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতি হতে পারেনা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ঐক্য ও সংহতির উপর গুরুত্ত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীন এই দেশের জন্য একটি সৃজনশীল এবং আলোকিত সুশৃঙ্খল জাতী গঠনই এর দর্শন। বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্যই জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত। শোষণ, অত্যাচার এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে জাতীয়তাবাদের ছায়ায় একত্রিত করাই জাতীয়তাবাদ। মানুষের সকল প্রকার নাগরিক এবং স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারই হলো প্রকৃত জাতীয়তাবাদ।

বস্তুত দৃশ্যমান সরকার ব্যবস্থার পেছনে চলমান কোন অদৃশ্য সরকারের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ পাওয়া যায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসা ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির মধ্যে এক ধরনের নাপাক জোট দ্রবীভূত থাকে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও নির্বাচন ও রাজনীতিতে বহিশক্তির প্রভাব বেশ জোড়াল ভাবেই বিদ্যমান। আপাত দৃষ্টিতে গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে বলে মনে হলেও এর পেছনে কাজ করে অদৃশ্য সরকার ব্যবস্থা। যা নিয়ন্ত্রিত হয় কেন্দ্রীয় ভাবে। বিশ্বায়নের নামে চলে এককভাবে এক অদৃশ্য শক্তির নিয়ন্ত্রন। এই ব্যবস্থায় অদৃশ্য সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ জনগণকে। এই পদ্ধতি এতটাই সূক্ষ্ম ভাবে কাজ করে যে অধিকাংশ মানুষ এর বহুদূরপ্রসারিত ক্ষতিকর প্রভাব দেখতে পায় না। অদৃশ্য সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ এর ফল ভোগ করছি আমরা।  অতএব, যদি দেশকে সত্যিই ভালোবাসেন তবে নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন আপনার অবস্থান কোথায়?

সবশেষে যদি আমাকে প্রশ্ন করেন যে, বি এন পি ক্ষমতায় আসলেই কি সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে ? তাহলে একটা কথাই বলবো আসুন আগে সবাই শহীদ জিয়ার প্রকৃত জাতীয়তাবাদের চেতনায় জেগে উঠি। পরিবর্তন আসবেই। এই দেশ নিয়ে আমরা যেভাবে গর্ব করতাম ঠিক তেমনি ভাবে বিশ্ব অবাকে তাকিয়ে দেখবে বাংলাদেশ কখনও মাথা নত করবার নয়।

বি : দ্র: এই লেখাটি ফেসবুকের কাণ্ডারি অথর্ব আইডির নোট থেকে কপিকৃত, এই লেখা সংক্রন্ত্র সমস্ত দায়দায়িত্ব একমাত্র লেখকের ।