চীন-তাইওয়ান বৈঠকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

0

ঢাকা: শনিবার দুপুরে সিঙ্গাপুরের এক বিলাসবহুল হোটেলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জেও। গত ছয় দশকের মধ্যে দুই দেশে নেতাদের মধ্যে এটিই হচ্ছে প্রথম বৈঠক।

এদিকে এ বৈঠকের বিরুদ্ধে শুক্রবার ও শনিবার রাজধানী তাইপেতে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির  বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার রাতে কিছু বিক্ষুব্ধ জনতা জোর করে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশেরও চেষ্টা চালায়। শনিবার সকালে বিমানবন্দরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এসময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার বেলা তিনটার দিকে সিঙ্গাপুরের এক বিলাসবহুল হোটেলে চীনা প্রেসিডেন্টর সঙ্গে করমর্দন করতে যাচ্ছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা। তারা সেখানে এক ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেবেন বলে এএফপি জানিয়েছে। তবে বৈঠকে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না এবং কোনো ধরনের সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেবেন না দুই নেতা।

১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধে পর দু দেশের নেতাদের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক। ওই যুদ্ধের ফলে চীনের কাছ থেকে বিচ্ছন্ন হয়ে যায় তাইওয়ান।

প্রেসিডেন্ট মায়ের সাত বছরের শাসনামলে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতি হয়েছে যার প্রভাবেই আজকের এই বৈঠক। যদিও দেশটির বিরোধী দল এই গোপন বৈঠককে ‘চক্রান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে এ বৈঠক তাইওয়ানের পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না

বৈঠকের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে রাজধানী তাইপের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে শতাধিক বিক্ষোভকারী। তারা ওই সুরক্ষিত ভবনটিতে জোর করে প্রবেশেরও চেষ্টা চালায়। তবে পুলিশি বাধার মুখে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে এ সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। শনিবার সকালেও বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বসে থাকতে দেখা গেছে।

ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশ নিতে শনিবার সকালে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে প্রেসিডেন্ট মাকে বহনকারী বিমানটি। এ সময় বিমানবন্দরের বাইরেও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট মায়ের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেয়। তারা তাকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবেও উল্লেখ করে। তারা চীনা প্রেসিডেন্ট শি এবং মা’র  ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সফরে প্রাক্কালে বিমানবন্দরে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মা বলেন,‘এই বৈঠকের মাধ্যমে তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হবে। তিনি এই বৈঠককে ‘নতুন প্লাটফর্ম’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন, যা দেশটির নতুন কোনো প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারবে।

আগামী জানুয়ারিতে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।