চাঞ্চল্যকর তথ্য>> আ’লীগ নেতার গ্রাম্যবিচারের রায় বাস্তবায়ন করতেই যুবদল নেতাকে হত্যা

0

জিসাফো ডেস্কঃ এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার গ্রাম্য বিচারের রায় বাস্তবায়ন করতেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণাসরা গ্রামের যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান মিন্টুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যাকা-ের ১৯ দিন পর আকবর বিশ্বাস নামে এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পুলিশ মিন্টু হত্যার ক্লু ও মোটিভ জানতে সক্ষম হয়েছে।

আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ডিবি পুলিশের হাতে আটক যশোরের আন্দোলপোতা গ্রামের সিফাতুল্লাহর ছেলে আকবার বিশ্বাস বলেছেন, যুবদল নেতা মিন্টু ও তার ভাই টিপু বিশ্বাস সুবর্ণাসরা গ্রামের খোকন ঘোষ নামে এক ব্যক্তির দুই শত টাকা মুল্যের পাঁচ কেজি ওজনের একটি বাটখারা হারিয়ে ফেলেন। এই বাটখারা ফেরত চাওয়া নিয়ে বচসা হয় খোকন ঘোষের সঙ্গে। খোকন ঘোষ বিচার দেন কালীগঞ্জের বারোবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অশোক মজুমদারের কাছে। আর অশোক মজুমদার এই কথা শুনে নিজ বাড়ির পাশে বৈঠক বসিয়ে সিদ্ধান্ত দেন মিন্টুকে মেরে ফেলতে হবে। এরপরই গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে হত্যা করা হয় ঝিনাইদহের বারোবাজার ইউনিয়ন যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান মিন্টু বিশ্বাসকে।

এই হত্যা মিশনে এলাকার সোনা বাহিনীর প্রধান সোনা, ছাক্কার, খোকন ঘোষ ও অশোক মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন অংশ নেয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেক করা হয়।

আসামি আকবার বিশ্বাস আটকের পর গত ৭ জানুয়ারি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আকবার বিশ্বাস আরো দাবি করেছেন, মিন্টু সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক ছিল। তাছাড়া আকবার বিশ্বাসের কাছে মিন্টু ৫০ হাজার টাকা চাঁদাও দাবি করে। তিনি ১৭/১৮ হাজার টাকা দেন। এরপরও খুশি ছিল না মিন্টু। যে কারণে মিন্টুর প্রতি আকবার বিশ্বাসের আক্রোশ ছিল।

এরপর বাটখারা নিয়ে দ্বন্দ্বের পর বারোবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অশোক মজুমদার যখন মিন্টুকে মেরে ফেলার কথা বলেন তখন তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশ নেন।

এদিকে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করে বাড়ি ছেড়ে স্ব-পরিবারে বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ছোট ভাই টিপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তারা এখন তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। প্রায়ই মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে এলাকায় যেতে পারছেন না। বাকি আসামিরা ধরা না পড়া পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না বলে জানান টিপু বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণস্বারা গ্রামের মাঠে নিজ পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার সময় যুবদল নেতা মিন্টু খুন হন। মিন্টু বিশ্বাস বারোবাজার ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এই ঘটনায় মিন্টুর ছোট ভাই টিপু বিশ্বাস বাদি হয়ে ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি ১৮ জনকে আসামি করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কালীগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেন।