চট্রগ্রামের ব্যাবসায়ী আসলাম চৌধুরীকে বলীর পাঠা বানিয়ে লাভ নেই । রেশমা নাটকও এর চেয়ে ভাল ছিল ।

0
কয়েকদিন ধরে “মোসাদ” “মোসাদ” শুনতে শুনতে কান আসলাম সাহেব রাজনীতি করেন কিন্তু গোয়েন্দাদেরফাঁদ বুঝেন নাই। ব্যাপারটা খুবই নোংরা তা বোঝা যায় কোন ওপেন অনুষ্ঠানের ছবি পোস্ট করে । গলায় মালা আর হাস্যজ্জল ছবি । যাহারা কখনই গোয়েন্দা কোর্স করেন নি কিম্বা সামরিক বাহিনিতেও ছিলেন না তারাও দেখি দারুন দারুন কনভিন্সিং ব্যাখ্যা দিচ্ছে । “র” আসলেই রটেনই রয়ে গেল ।
13178704_10209274469609050_6118419235678374003_n
এই খবরের সত্যতা তৈরির / বিশ্বস্ততার রিহারসেল শুরু হয় সপ্তাহ খানেক আগেই ।সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশী বেশ কয়েকজনকে সন্ত্রাসী সন্দেহে গ্রেফতার করে ।দেশের কিছু অনলাইন সংবাদ পত্র শুরু করে এর যাত্রা ০৫ই মে ২০১৬ ( http://goo.gl/ WmvsTT ) “হাসিনা সরকার উত্খাতে এবার ইসরাইলী গোয়েন্দা মোসাদ’র অর্থায়ন !”
বিগত ০৯ ই মে ইত্তেফাক (সরকারী পত্রিকা ) পুরো ডিটেইলস নিউজ দেয় । ( http://goo.gl/Z2j1dl ) “বাংলাদেশের দরজা ইসরাইলিদের জন্য খুলে দেয়া হবে ভারতে বৈঠক শেষে মেন্দি এন সাফাদি ” নাটকের মঞ্চায়নটা ভাল ছিল কিন্তু ফিনিশিংটা আদৌ ভাল হয় নি ।
কারন যেই অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে এতো আলোচনা সেই অনুষ্ঠানের আহবায়ক এই ষড়যন্ত্রের কিম্বা মোসাদ /মেন্দি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন । (http:// goo.gl/QuKzES )  “মেনদি সাফাদিকে গুপ্তচর বলায় ভারতে বিস্ময়” আসলাম সাহেব এতো বড় ষড়যন্ত্র করলো মার্চ মাসে কিন্তু দুইমাস পর ব্যাপক শব্দ? ব্যাপারটা এখন বেশ পরিষ্কার ।আসলাম সাহেবকে নিশ্চয়ই ব্ল্যাক মেইল করার এর চেয়ে ভালো এভিডেন্স ছিল না ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে । বি এন পি কে ইজ্রাইল বন্ধু বানানো আর সরকারেরমুসলিম বিদ্বেষী দের কিছুটা অনুকম্পা বা ভোট ব্যাংক বাড়ানো । 
হয়তো অনেক ধরনের লোভ /ভয় কিম্বাঅনাচারের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল আসলাম সাহেবকে গোয়েন্দা সংস্থাদের মাধ্যমে ।কিন্তু প্রকৃত জাতীয়বাদী হিসেবে হয়তো জানাতেন এই ছবি বা ফটো সেশন ছাড়া আর কিছু নাই ।তাই
নিজেকে বিলিয়ে দেন নি যেমনটি এখনো ধরা বিশ্ব বেহায়া হোমো । হোটেল রুমে নাকি কিসের এক্স এক্স এক্স ভিডিও আছে ?
শেষে শুধু বলতেই হয় … খুন গুম হত্যার সাথে বিরোধী নেতা নেত্রীদের চরিত্র হরন স্বৈরাচারের ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার ।তাই আপনারা যাহারা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করেন আর পদ পদবীতে আছেন তাহাঁরা নিজের বাপ
আওয়ামী/দাদা হলেও সেই সঙ্গ ত্যাগ করেন। ভারত কিম্বা আওয়ামী কাওকেই বিশ্বাস করা বোকামি
ছাড়া আর কিছুই না ।
ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক বিএনপির নয় বরংচ আওয়ামীলীগেরই বেশী ,ইসরায়েলের সাথে আওয়ামিদের যোগাযোগ
সেই বাংলাদেশ জন্ম হওয়ার আগ থেকেই। মুক্তি যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল ভারতের মাধ্যমে অস্ত্র পর্যন্ত দিয়েছিল
মুক্তিযোদ্ধাদের।
কিন্তু রাজনীতির মাঠে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সাথে মিলে ট্র্যাপ সাজিয়ে বিরোধী দলকে বেকায়দায় ফেলতে ও স্বৈরাচারীতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ দেখাতে চাচ্ছে তারা ইসরায়েলের সাথে কোনদিন কোন যোগাযোগ রাখে নি, ফিলিস্তানের মুসলমানদের সাথে কোন বেইমানি তারা করেনি।
আসুন একনজর দেখে নেই আওয়ামীদের ইসরায়েল এর সাথে যোগাযোগের প্রমানাদি

## ১৯৭২ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যার প্রমান ছবি – ১ , (লিঙ্ক – http://www.jta.org/1972/02/07/archive/israel-recognizes-bangladesh )
## ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রভিনশিয়াল সরকার প্রধান নজরুল ইসলাম আর পররাষ্ট্র মন্ত্রী মুশতাক আহমেদের অনুরোধে ইসরায়েল সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে
ভারতের মাধ্যমে ।
প্রমান – ছবি ২ (লিঙ্ক – https://rehmat1.com/2014/12/11/israel-recognized-bangladesh-even-before-its-c
reation/ )
বিঃ দ্রঃ – এখানে তাদের টাইপিং এ ১৯৭০ লিখা আছে ভুল বশত । ## ২০১৩ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপুমনি
বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইসরায়েল এর পেরেস এর সাথে আলোচনায় ! যেই আলোচনায় বিশ্বের ২৯ টি দেশ অংশ নিয়েছিলো (লিঙ্ক – http:// www.timesofisrael.com/peres-addresses-29-arab-and-muslim-foreign-ministers/ )
## এই অবৈধ সরকারের আমলেই ২০১৪ সালের এক জরীপে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যায়, কোন ধরনেরকূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক না থাকা সত্বেও ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২৫৭৭ ডলারমূল্যমানের পণ্যসামগ্রী ইসরায়েলে রপ্তানি করা হয়। লিঙ্ক – http://en.prothom-alo.c om/economy/news/51873/Bangladesh-exports-unknown-goods-to-Israel
ইসরায়েল একটি রাষ্ট্র আর বাংলাদেশ আরেকটি রাষ্ট্র হিসেবে তাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকতেই পারে কিন্তু
বর্তমান অবৈধ সরকার কোন ভাবেই মানতে চাইছেনা তারা ইসরায়েল এর সাথে যোগাযোগে ছিল । আর তাদেরকে এটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্যেই আজকের এই প্রমানাদি পোস্ট । এবার আসুন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জবাব – আওয়ামীলীগ হাজারো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে ইসরায়েল এর দোসর মোসাদেরসদস্য বানাতে । কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি রাজনীতিক মেনদি এন সাফাদি স্বীকার করেছেন যে ভারতে তার সঙ্গে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর দেখা হয়েছিল। কিন্তু সেই সঙ্গেই দাবি করেছেন তাদের মধ্যে কোনও গোপন বিষয়ে কথা হয়নি।
ইসরায়েল থেকে টেলিফোনে বিবিসি বাংলার শুভজ্যোতি ঘোষকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সেখানে সংখ্যালঘুদের অবস্থা এগুলো সবাই জানেন –আমরা দুজনে সে সব, নিয়েই কথা বলেছি, তাও সেটা একটা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে। আমরা বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছিলাম বা সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছিলামএর চেয়ে হাস্যকর কিছু হতেই পারে না।’ প্রমান লিঙ্ক – http:// www.bbc.com/bengali/ news/2016/05/160516_ bangladesh_israel_ mendi_safedi_bnp_india?ocid=socialflow_ facebook
এবার আসি শেষ কথায় , বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী যদি ইসরায়েল এর সাথে গভির সম্পর্ক রেখে কোন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতেন তবে তিনি কেনইবা ফুলের মালা গলায় দিয়ে সেটা আবার পাবলিসিটি করবেন ? এতো
গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ কি কেউ ফুলের মালা গলায় দিয়ে বরন করে নেয় ? মিটিং এর যাবতীয় তথ্যাদি কি ফ্ল্যাশ করতেন ইসরায়েলি রাজনীতিক মেনদি এন সাফাদি ? এটা সম্পূর্ণই একটা ষড়যন্ত্র বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্যে ।
দেশের পরিস্থিতি খারাপ করতে এই ট্র্যাপ তৈরি করা হয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর পরামর্শে । আর অদি আসলাম চৌধুরী জড়িত থেকেও থাকেন তবে এর দ্বায় পুরা বিএনপি কেন নিবে ? লতিফ সিদ্দিকি ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলাতে কি পুরা আওয়ামীলীগ এর দ্বায় নিয়েছিলো ? এরপর ও যদি আওয়ামীলীগ বলে আওয়ামীলীগ কখনোই
ইসরায়েল এর পক্ষে ছিলনা তবে আমি বলবো আওয়ামীলীগ হল জন্মসুত্রেই মিথ্যাবাদির দল ও পতিতাদের মতই
সত্যবাদী যারা নতুন নতুন নাগরদের বলে বেড়ায় সে ভার্জিন ।
সংগৃহীতঃ
জনাব ওয়াহিদ উন নবী
স্কোয়াড্রন লিডার (অবঃ)
মেজর ডালিম 
এর ফেসবুক ওয়াল থেকে।