ঘুষ দাও না হলে জমির মালিকানা ভুলে যাও

0

মৌলভীবাজার: ‘জমির কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে কী হবে। যতো টাকা বলেছি ততো টাকা দিতে হবে, এক টাকাও কম হবে না। আর টাকা দিতে না পারলে জমির মালিকানা ভুলে যাও।’

এভাবেই প্রকাশ্য ঘুষ দাবি করে জেলার কুলাউড়ায় ভূমি জরিপের ৩০ ধারা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা।

এদিকে, এক ভূমি মালিক ঘুষ দাবির সিডি রেকর্ডসহ প্রতিকার চেয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্টাই গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুল খালিকের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তরাধিকার সূত্রে কর্মধা মৌজার জেএল নং-৮৭, খতিয়ান নং-৭১৪, দাগ নং- ৭৯০৭ মোট ১০ শতক ভূমির মালিক তিনি। অপরদিকে, ওই জমি একই এলাকার বাসিন্দা প্রভাবশালী ছৈদ উল্লা মালিকানা দাবি করলে আব্দুল খালিক বাদী হয়ে ৩০ ধারায় আপত্তি দেন (আপত্তি নং ৩৯, জেএল নং ৭০)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুলাই শুনানির দিন তারিখ ধার্য করা হলে তা মীমাংসা না হওয়ায় সার্ভেয়ার কাশেমকে সরেজমিনে তদন্ত করতে দায়িত্ব দেয়া হয়।
বিধি মোতাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার তদন্তে যাওয়ার কথা থাকলেও সার্ভেয়ার আলী হোসেন, সার্ভেয়ার কাশেম ও ড্রাফ্টসম্যান কবির মিয়া গত ৭ আগস্ট ওই ভূমি তদন্তে যান। এলাকাবাসীর উপস্থিতে উভয়পক্ষের প্রয়োজনীয় কাগজ পর্যালোচনা করেন। তদন্তের এক পর্যায় আব্দুল খালিকের (৩০ ধারায় আপত্তিকারি বাদী) ছেলে দুদু মিয়াকে কুলাউড়া মাগুরাস্থ বাসায় গিয়ে দেখা করার কথা বলেন। ওই দিন তাদের কথামতো দুদু মিয়া কুলাউড়া বাসায় গিয়ে দেখা করলে সার্ভেয়ার আলী হোসেন ও কাশেমের উপস্থিতে প্রথমে ৪০ হাজার ও পরে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।

‘আমরা তিন জন যা লিখবো তাই কার্যকর হতে হবে।’ ( অর্থাৎ সার্ভেয়ার আলী হোসেন, কাশেম ও ড্রাফ্টসম্যান কবির) যার পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট দিবেন সেই জায়গার মালিক হবেন।

তবে দুদু মিয়া তাৎক্ষণিক ঘুষের টাকা দিতে না পারায় এবং টাকা দিতে না পারলে জায়গার মালিকানা ভুলে যেতে হবে বলেও হুমকি দেন। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার ঘুষ দাবি করেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয় সহকারী সেটেলম্যান্ট অফিসার এনায়েত-উর-রহমান মৌখিকভাবে ঘুষ দাবির বিষয়টি অবগত করলেও তার কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে এমনিতেই সেটেলম্যান্ট অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভূমি জটিলতা নিয়ে চলিত ৩০ ধারার বিচার কার্যক্রমে ঘুষ ছাড়া কোনো কথা বলেন না তারা। ঘুষ আদায়ের জন্য বিভিন্ন এলাকায় সেটেলম্যান্ট অফিসের রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। বিধিমোতাবেক কোনো বদর (দখল) তদন্তে একজন সার্ভেয়ার যাওয়ার কথা থাকলেও কুলাউড়ায় প্রতিটি ৩০ ধারার ৩ জন সার্ভেয়ার একসঙ্গে তদন্তে যান। একসঙ্গে তদন্তে যাওয়ার ফলে কেউ তাদের রিপোর্টের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। তাদের দাবিকৃত ঘুষের টাকা পরিশোধ না করলে ভুক্তভোগীকে জায়গার মালিকানা ভুলে যাওয়ার  হুমকি দেন।

ভূমি মালিক আব্দুল খালিক ঘুষ দাবির কথোপকথনের অডিও সিডিসহ কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসানকে দেয়া অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, জাতীয় সংসদ সদস্য মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) কুলাউড়া।

এ ব্যাপারে সার্ভেয়ার আলী হোসেনের মুঠোফোনে (০১৯৬১-০৭৪২২৩ নাম্বারে) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় শুনানি করা হবে। তাছাড়া প্রয়োজনে সেটেলম্যান্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হবে।