গুলি চালান, যা কিছু হোক দায় দায়িত্ব আমার: ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ

0

জি সা ফো নিউজ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর পুলিশের গুলিবর্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে অপরাধ দমনে প্রয়োজনে সরাসরি গুলি ছুড়তে বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের প্রধান উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান। ডিআইজি নূরুজ্জামান ই বি এন পি নেতা কর্মী দের উপর গুলি চালানো ও তার দায় নেয়ার কথা বলেছিলেন গত আন্দোলনে এবং সেই নির্দেশনায় পুলিশ নির্বিচারে হত্যা করেছিল বি এন পি নেতা কর্মীদের।

উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান রোববার ফরিদপুরে এক সভায় পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “একটি কথা মনে রাখতে হবে- যারা জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলে কিংবা সরকারি সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা করে, তাদের প্রতিহত করতে যা যা করা দরকার সবই করবেন।

           “প্রয়োজন হলে সরাসরি গুলি করুন। দায়-দায়িত্ব সব আমি নেব।”

শুক্রবার কালিহাতীতে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর পুলিশের গুলিবর্ষণে মোট চারজন নিহত হন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

ডিআইজি নূরুজ্জামান শনিবার কালিহাতী গিয়ে গুলিবর্ষণকারী পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের নির্দেশও দিয়ে আসেন। এরপর তিন এসআই ও চার কনস্টেবলকে বরখাস্তও করা হয়।

এর একদিন বাদেই ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ প্রধান ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণে কমিউনিটি পুলিশিং ও আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় গুলির নির্দেশ দেন। গত ফেব্রুয়ারি তে ডিআইজি নূরুজ্জামান ই বি এন পি নেতা কর্মী দের উপর গুলি চালানো ও তার দায় নেয়ার কথা বলেছিলেন।

এবার ফরিদপুরে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজদের কোনো ধরনের ছাড় না দিতে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গুলির নির্দেশ দেন তিনি।

“জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। তাদের টাকায় আপনাদের অস্ত্র কেনা হয়। তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের,” বলেন নূরুজ্জামান।

বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা রয়েছে। একই অভিযোগ তুলে বিএনপি বরাবরই বলে আসছে, বিরোধী দল দমনে পুলিশকে ব্যবহার করছে সরকার।

ডিআইজি নূরুজ্জামান হেফাজতে ইসলামীর সন্ত্রাস ঠেকাতে পুলিশের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, “হেফাজত ঢাকা অবরোধের সময় ব্যাংক লুট  ও সচিবালয়ে নাশকতা করতে চেয়েছিল। পুলিশ সে অপতৎপরতা ব্যর্থ করে দেয়।”

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকর্তা নূরুজ্জামান আগের সরকারগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে সভায় বলেন, “আমি মুক্তিযোদ্ধা ও গোপালগঞ্জের লোক হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। যথা সময়ে আমাকে পদোন্নতি দিলে আমি এখন আইজি থাকতাম।”

ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিল হাসানের সভাপতিত্বে এই সভায় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির, গোপালগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জাহিদ হাসানও বক্তব্য রাখেন।

সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বোয়ালমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন মুসা মিয়া, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বাস রাসেল হোসেন সভায় উপস্থিত ছিলেন।