গার্ডিয়ানে বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনার স্পষ্টতই সংবিধান লংঘন:যুক্তরাজ্য বিএনপি

0

জুল আফরোজ মজুমদার লন্ডন: ইসলামপন্থী উগ্রবাদের উত্থানে ব্রিটেনের বাঙালি প্রবাসীরা বাংলাদেশে ইন্ধন জোগাচ্ছে এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ানে যে সাক্ষাৎকার চাপা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার প্রেস ব্রিফিং করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে প্রবাসে বাংলাদেশীদের ঐতিহ্য ও গৌরবকে ব্রিটেনের মূলধারার মিডিয়ায় জঙ্গীবাদের দোহাই তুলে ধরে প্রবাসীদের হীন করেছেন শেখ হাসিনা। তারা প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাহারসহ প্রবাসীদের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। অন্যতায় যুক্তরাজ্যে শেখ হাসিনাকে প্রতিহত করার ঘোষনাদেন তারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসীরা জঙ্গীবাদের সাথে জড়িত হলে তার বোন শেখ রেহেনা ও টিউলিপ সিদ্দিক এমপি হচ্ছেন জঙ্গীবাদের প্রধান যোগানদাতা।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ এর পরিচালনায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্ডিয়ানে বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে স্পষ্টতই সংবিধান লংঘন করেছেন। তিনি দেশবাসীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রবাসীদের নিরাপদে বিদেশে থাকাকে চরম হুমকির মুখে ঢেলে দিচ্ছেন। তারা বলেন, শেখ হাসিনা বিদেশীদের কাছে জঙ্গীবাদের কথা বলে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন আর বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানরা শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা বিশ্বে সব ধরণের জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অবস্থান। বিএনপি চরমপন্থায় বিশ্বাস করে না। কিন্তু শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে চায়। এরই অংশ হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গার্ডিয়ান পত্রিকায় তার সাক্ষাৎকার চাপা হয়েছে।

বিএনপির নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকারের চরম ব্যর্থতার কারনেই ব্রিটিশ ভিসা সেকশন ঢাকা থেকে দিল্লীতে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যার ফলে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শতকরা ৮৫ভাগ ভিসা রিফিউজ হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ব্রিটিশ ভিসা সেকশন আবারো ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহবানা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এম লুতফুর রহমান, আক্তার হোসেন, প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ফেরদৌস আলম, তাজুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, ড. মুজিবুর রহমান, লন্ডন মহানগর বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ধর্মীয় মৌলবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে আরো জোরদার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ব্রিটিশ জিহাদিরা বাংলাদেশে উগ্রপন্থা উত্থানের নেপথ্যে কাজ করছে।

ঢাকার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামপন্থী উগ্রবাদের উত্থানে ব্রিটেনের বাঙালি প্রবাসীরা বাংলাদেশে ইন্ধন জোগাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের ধর্মপ্রাণ তরুণদের দীক্ষা দিচ্ছে, যারা আইসিসের প্রতি সমব্যথী।

ব্রিটেনের বাঙালি সম্প্রদায় থেকে আসা সদস্য সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তি ও জঙ্গি অর্থায়নের কারণে স্থানীয় লোকজনকে আন্তর্জাতিক জিহাদে অংশ নিতে উসকে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর ফলে সালাফি (সুন্নি) আন্দোলনে জড়িত বাংলাদেশিদের সংখ্যাও বাড়ছে।

শেখ হাসিনা ব্রিটেনের দৈনিক গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারের নিজের ভূমিতে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে। পূর্ব লন্ডনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। এটা সত্য। তারা অর্থ সংগ্রহ করছে, সেই অর্থ দেশে পাঠাচ্ছে।’

গত মাসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে দুজন ব্লগারকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।