গাজীপুরে মেয়র মান্নানকে ফের গ্রেফতার করেছে পুলিশ

0

আলফাজ উদ্দিন,গাজীপুরঃ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মেয়র (বরখাস্ত) ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানকে জয়দেবপুর থানার নাশকতার আরো দু’টি মামলায় ফের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সোমবার গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মারুফ চৌধুরীর আদালতে শুনানি শেষে বিচারক তাকে গ্রেফতারের (শ্যোন এরেস্ট) আদেশ দেন।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমির হোসেন জানান, জয়দেবপুর থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা নাশকতার দু’টি মামলায় মেয়র (সাময়িক বরখাস্ত) অধ্যাপক এম এ মান্নানকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ চলাকালে গত ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই মাসের ১১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম বাইপাস সড়কের মেঘডুবি কলের বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অপর একটি ঘটনা ঘটে। ওই দু ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক দু’টি মামলা (নং-৪০ ও ৬৮) দায়ের করে পুলিশ। পরে ওই দু’মামলার তদন্তে অধ্যাপক এমএ মান্নানের ইন্দনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ওই ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে মামলা দু’টির তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই মামলা দু’টিতে তাকে গ্রেফতারের জন্য রোববার আবেদন করেন।

গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এসএম মারুফ চৌধুরী শুনানি শেষে ওই আবেদন মঞ্জুর করে অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতারের (শ্যোন এরেস্ট) আদেশ দেন।

এনিয়ে অধ্যাপক এম এ মান্নানকে মোট ২১টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

অধ্যাপক এম এ মান্নানের আইনজীবী মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্স জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে এ দু’মামলাসহ ২১টি মামলা রয়েছে। এ সব মামলার মধ্যে সর্ব শেষ গত ২৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নাশকতার দুইটি মামলায় অধ্যাপক এমএ মান্নানের জামিন আদেশ বহাল রাখেন। গত ৫ জানুয়ারি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র আদালতে পাঠানো হয়। ইতিপূর্বে তিনি আরো ১৭টি মামলার সবক’টিতে জামিনে থাকায় তার মুক্তিতে কোন বাধা ছিল না। ফের দুটি নাশকতার মামলায় তাকে শোন এরেস্ট দেখানোর ফলে তার মুক্তি আটকে গেল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বারিধারার ডিওএইচএস’র নিজ বাসা থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর থেকে তিনি আদালতের নির্দেশে বন্দি রয়েছেন। এ পর্যন্ত ২১টি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এসব মামলার প্রায় সবগুলোই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালকালে গাড়ী ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ, হত্যা, নাশকতা, বিস্ফোরক ও পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দানসহ বিভিন্ন আইনে দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে তিনি জয়দেবপুর থানায় ১৩টি, টঙ্গী মডেল থানায় ২টি, শ্রীপুর মডেল থানায় ২টি ও কালিয়াকৈর থানায় ২টিসহ মোট ১৯টি মামলার সবক’টিতেই ইতোমধ্যে জামিন পান। পুলিশ নতুন ভাবে জয়দেবপুর থানার আরো দুটি মামলায় ফের গ্রেফতার দেখানোয় তার বিরুদ্ধে এপর্যন্ত মোট ২১টি মামলা রজু হলো।

মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের অবর্তমানে গত ৮ মার্চ থেকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১৯ আগষ্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা) সহকারি সচিব এ.কে.এম আনিছুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০ নং আইন) এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) মোতাবেক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত নাশকতার মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।