গণতন্ত্র তখনই ফিরে আসবে, যখন দেশে একটা সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সকলের অংশ গ্রহনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

0

জিসাফো ডেস্কঃ‘‘ আমরা দেশে সকল দলের অংশ গ্রহনে নির্বাচন চাই এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বুঝতে পারবে, তাদের পায়ের নিচে মাটি আছে কিনা, জনগনের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা সেটা প্রমাণ হবে বলে জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।” তিনি, একাদশ নির্বাচন সুষ্ষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের মতামত না শুনার পরামর্শও দেন ।

শনিবার দলের নেতা-কর্মীদের এই ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই আহবান জানান।

তিনি বলেন, ‘‘ নির্বাচন কমিশনের কাছে আহবান করব, এই সরকার আপনাদের কাছে যা কিছু আবদার করবে, আপনারা তা বাস্তবায়ন করবেন না। আপনারা জনগনের মতামত নেবেন, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই যেটা সকলের মতামত দেবে, সেটার ভিত্তিতে আপনারা নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবেন।”

শনিবার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন, বেগম খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন

কে এম নুরুল হুদার নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললেও এই প্রথম বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচন কমিশনের প্রতি এরকম পরামর্শ দিলেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের সন্মানে খালেদা জিয়া এই ইফতার দেন। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

খালেদা জিয়া প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ‘করের বোঝা’ কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের দাম বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ‘‘ দেশের মানুষের প্রতিনিয়ত এতো সমস্যা, তার মধ্যে একটা বাজেট দিয়েছে, তাতে যেভাবে কর বসানো হয়েছে। এতে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। এই বাজেটের ফলে দুর্নীতি করার সুযোগ হয়েছে।”

শনিবার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন, বেগম খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন

‘‘ আবার বলছে যে, গ্যাসের দাম আবার বাড়বে। বুঝতে পারছেন, সরকার কী করতে চায়। এই সরকার হলো জনগন বিরোধী সরকার। তাদের সাথে জনগনের কোনো সম্পর্ক নাই। কারণ তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। সেজন্য জনগনের সমস্যা, জনগনের কষ্ট তাদের চোখে পড়ে না।”

খালেদা জিয়া সরকারকে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর আহবান জানান।

তার দেয়া ‘ভিশন ২০৩০’ এর কথা উল্লেখ করে তা বাস্তবায়ন হলে দেশে আগামীতে সমস্যা থাকবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

দেশের অর্থ পাঁচারের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘ যেভাবে টাকা পাঁচার হচ্ছে, সম্পদ পাঁচার হচ্ছে. দুর্নীতি হচ্ছে, তার সঙ্গে জড়িত সরকারের লোকজন। যারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে।”

সরকারের প্রতি আহবান রেখে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘ আমি বলব, এই রমজান মাসে জুলুম নির্যাতন বন্ধ করুন, অন্যায় বন্ধ করুন। দেশে গণতন্ত্রকে ফিরে আসার সুযোগ দিন।”

আজ শনিবার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন, বেগম খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন

‘‘ আমরা মনে করি, গণতন্ত্র তখনই ফিরে আসবে, যখন দেশে একটা সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সকলের অংশ গ্রহনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না উল্লেখ করে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান তিনি।

ইফতারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মীর মো. নাসির, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, এজেডএ জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শনিবার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন, বেগম খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন

জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে হারুনার রশীদ, উকিল আবদুস সাত্তার, শাহজাহান ওমর, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, আবদুল কাইয়ুম, ফজলুর রহমান, কবীর মুরাদ, সঞ্জীব চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, আতাউর রহমান ঢালী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, কামরুল ইসলাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জিএম ফজলুল হক, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, ক্রিড়া সম্পাদক আমিনুল হক, নাজিমউদ্দিন আলম, শাহ আবু জাফর, আবদুল হালিম ডোনার, মোরশেদ হাসান খান, অঙ্গসংগঠনের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, আনোয়ার হোসেইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাফেজ এম এ মালেক রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির (বিএনপি ) সদস্য এ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রমূখ নেতৃবৃন্দ ইফতারে অংশ নেন।