খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথের বাইরে কোনো পথ নেই: মওদুদ

0

কেএম সবুজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ হল রাজপথ। এর বাইরে কোন পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সবুজবাংলা টোয়েন্টিফোরডটকম এর আয়োজনে ‘ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাহী বিভাগের অধীনে কাজ করছে নিম্ন আদালত। খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা না আনা, তাঁকে জামিন দেয়া না দেয়া সব কিছু নির্ভর করছে সরকারের উপর। খালেদা জিয়ার জামিন হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
কিন্তু তার আগে সরকার নানা কৌশল অবলম্বন করছে জামিন বিলম্ব করার জন্য। তারপরও আমি বলতে চাই খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ হল রাজপথ। এর বাইরে কোন পথ নেই। তবে আইনী লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। আমরা চালিয়ে যাব। কিন্তু শুধু তার মাধ্যমে দেশনেত্রীর মুক্তি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এখন আমাদের একটাই কাজ। যেভাবে সম্ভব গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আমাদের তিনটি কর্মসূচি আমাদের সামনে থাকবে। প্রথমত- খালেদার মুক্তি। যতো শিগগিরই সম্ভব সেটা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত- সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি। যাতে করে একটা গণআন্দোলন সৃষ্টি করা যায়। সেই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছবো। তৃতীয়ত- তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু, আবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। তাহলেই এদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরে আসবে। আইনের শাসন ফিরে আসবে। তা না হলে গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করেন তাদের জন্য একটা বিরাট বিপর্যয় নেমে আসবে। এর জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনেরর আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে আমরা মনে করি না। তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করেছে। সরকারের তল্পী বাহক প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করছে। এটা দুরভীসন্ধিমূলক। কারণ আগামী নির্বাচনে সরকার পার্লামেন্ট না ভেঙে নির্বাচন করতে চায়।
ভারতকে যা দিয়েছি তা আজীবন মনে রাখবে এই বক্তব্যের সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, এর চেয়ে নিকৃষ্ট বক্তব্য আমাদের জন্য আর কিছু নেই। আপনি কি কি দিয়েছেন তা সবাই জানে। সেটা এভাবে বলার কিছু নেই। আমাদের জাতীয় স্বার্থ কোনদিন আপনি রক্ষা করতে পারেন নি। বলেছিলাম ভারত সফরে তিস্তার পানির ফয়সালা করতে না পারলে আপনার সফর ব্যর্থ। সেটা লুকানোর জন্য বলেছেন যা দিয়েছি আজীবন মনে রাখবে। আগামীতে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে জনগণ এর জবাব দেবে।
মাদক ব্যবসার সঙ্গে আপনার সরকারের লোকজন জড়িত। অথচ আপনারা ১৩৮ জন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করলেন। এর বিচার একদিন হবে। যারা আসল মাদকের হোতা। তাদের একজনকেও ধরতে পারেন নি। এমপি বদির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন তার বিরুদ্ধে অভিয়োগ আছে প্রমান নেই। তাহলে ৫৪ ধারা কার জন্য।
আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ভোটের মাধ্যমে কোনদিন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন করা সম্ভব নয়। আন্দোলনেরর মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান করে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এই সরকার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ গণঅভ্যুত্থান।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি নেতারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন। কিন্তু মাননীয় হতে হলে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে। এই সরকার তা নয়। এই মুহুর্তে বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব দরকার।
আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মমহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দীয় নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, লায়ন আলহাজ্ব এম এ রশিদ শাহ সম্রাট। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন- আবদুল্লাহিল মাসুদ, স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন- মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।