খালেদার জামিন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার

0

কেএম সবুজঃ শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফদের ছেড়ে দিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তোফায়েল আহমেদ জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেয়েছে। দেখুন শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সেনাপতি বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে বন্দি। শুধু জোসেফ নয়, আরো অনেককেই এভাবে মুক্তি দেয়া হয়েছে। জোসেফকে মুক্তি দিয়ে গোপনে বিদেশে পার করে দেয়া হয়েছে।
কী অদ্ভুত ব্যাপার? আজকে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে এটা একমাত্র সরকার প্রধানের কথামতোই হচ্ছে। কুমিল্লার মামলায় বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকতে পারেন না, এটা মিথ্যা-বানোয়াট মামলা, তিনি নির্দোষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত যা করছে তা শেখ হাসিনার কথা মতো ও নির্দেশেই করছে। আর কারো কোনো হাত নেই এখানে। শেখ হাসিনার অন্তরের জ্বালা-বিদ্বেষ মেটানোর জন্যই এগুলো করা হচ্ছে। তিনি চান দেশনেত্রীকে যতদিন পারা যায় কষ্ট দেবেন। কুমিল্লার দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের যে আদেশ হাইকোর্ট দিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ ২৪শে জুন পর্যন্ত তা স্থগিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানকে কেড়ে নিয়ে নিজের দখলে রেখেছেন। দেশে আইনের শাসনের বদলে শেখ হাসিনার নিষ্ঠুর শাসনের বাড়বাড়ন্ত চারদিকে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিচার বহির্ভূত হত্যার নামে মানুষ মেরে ফেলা হচ্ছে। ক্ষমতার কানেকশন মজবুত থাকায় কপাল জোরে গডফাদাররা বেঁচে যাচ্ছে। হত্যালীলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনির্দেশ পালনে খুবই তৎপর। পুলিশ শেখ হাসিনার লাঠিয়াল, জনপ্রশাসন নায়েব-গোমস্তা, নির্বাচন কমিশন একতরফা নির্বাচন ঘোষণার মাইক্রোফোন এবং শেখ হাসিনা বিচার বিভাগের একচ্ছত্র প্রভূতে পরিণত হয়েছেন। এমন অবস্থায় জনগণ, ন্যায়বিচার ও সুশাসন আওয়ামী সরকারের বিদ্রুপের পাত্রে পরিণত হয়েছে। আর সেজন্য চলছে বিরোধী দলের শেষ চিহ্ন মুছে দেয়ার মহা আয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনে স্বস্তি নেই, কেন বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের এত সমর্থন। মিথ্যা মামলায় অন্যায় সাজার অত্যাচারী নিষ্ঠুর বল প্রয়োগ করার পরেও বেগম খালেদা জিয়া এখনো অদম্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সব নিপীড়নকে সহ্য করছেন। সুচিকিৎসা না দিয়ে প্রতি মুহূর্তে তার মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে তার শারীরিক ব্যথা যন্ত্রণাকে আরও তীব্র করার জন্যই তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, গতকাল ইফতারের পরপরই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরীর চট্টগ্রামস্থ গুডহিল পৈতৃক নিবাসে একদল সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা আক্রমণ চালায়। সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপকভাবে গাড়ি ভাঙচুর, বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাব ভাঙচুর করে। এই হামলাটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু সাদেক মো. সায়েমের নেতৃত্বে চালানো হয়। এতে অংশ নেয় চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ, হাজী মো. মহসীন কলেজ ছাত্রলীগ ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী। এই হামলায় ২০টি ব্যক্তিগত গাড়ি ও নিরাপত্তা প্রহরীদের বাসাসহ মূল ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও তারা সেখানে দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এসময় বাসার চারদিকের সিসি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে সন্ত্রাসীরা। ছাত্রলীগ সভাপতি আবু সাদাত মো. সায়েম ঔদ্ধত্য সহকারে বলে, ২০১০ সালে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ওপর চট্টগ্রাম আদালতে আমরা হামলা চালিয়েছি। যারাই আওয়ামী লীগ ও আমাদের নেত্রীকে নিয়ে স্পর্ধা দেখাবে তাদেরকে সাইজ করা হবে। এই হচ্ছে আওয়ামী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যাডার বাহিনী। অপরাধীকে প্রশ্রয় দিয়ে সরকার সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বেআইনি পন্থায়। আওয়ামী চেতনায় রাঙানো পুলিশের সঙ্গে দলীয় অপরাধীদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জীবন, সহায়-সম্পদ সবকিছু বিপন্ন করার। তাই ক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তিদের আশকারা পেয়ে সায়েমরা এলাকায় এলাকায় মাফিয়া ডনে পরিণত হয়েছে।
আমি দলের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, গতকাল ঢাকার ৭৪, দিলকুশায় শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ সঙ্গে নিয়ে ‘দৈনিক দেশ জনতা’র অফিস উচ্ছেদ করে দিয়েছে। অথচ গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে অফিসের জন্য ভবনটি ভাড়া নেয়া ছিল এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধিত ছিল। অথচ নোটিশ ছাড়াই ম্যাজিস্ট্রেট পত্রিকাটি উচ্ছেদ করেছে। এটি শুধু বেআইনিই নয় বরং পত্রিকাটি বিরোধী দলের মালিকের হওয়ার কারণেই অবৈধ সরকারের পক্ষ থেকে এটি দখল করা হলো। এটি দেশব্যাপী বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জানমালের ওপর সরকারি হামলার আরেকটি বীভৎস দৃষ্টান্ত। এছাড়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালন উপলক্ষে গতকাল এবং আজ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনের বাধা প্রদান করেছে পুলিশ। এসময় খাদ্যসামগ্রীসহ জিনিসপত্র কেড়ে নেয়া হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি মহাসচিবের কয়েকটি অনুষ্ঠানসহ বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম খানের কয়েকটি অনুষ্ঠানেও হামলা করে বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল ওয়ারী, দয়াগঞ্জ এবং আজ এফডিসি’র গেটে জাসাস আয়োজিত কর্মসূচিটি পুলিশ জোরপূর্বক বাধা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় অধিকাংশ এলাকায় ৩০শে মে উপলক্ষে ইফতারসামগ্রী, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। পুুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মো. খাদেমুল ইসলাম খাদেমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ হাজারীবাগ থানা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আব্দুল আজিজের বাসভবনে গিয়ে তার বড় ভাই এবং বাসার সদস্যদের বলে এসেছে যে, তিন দিনের মধ্যে আব্দুল আজিজ থানায় সাক্ষাৎ করতে না এলে তাকে মেরে ফেলা হবে এবং বুলডোজার দিয়ে তার বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে। পাশাপাশি আব্দুল আজিজ যেন অবিলম্বে আওয়ামী লীগে যোগদান করে সেটির জন্যও হুমকি দেয়া হয়। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশের এধরণের হুংকার ও বেপরোয়া আচরণের নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি করছি।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন- ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।