কোন অজুহাতে বিদেশী সেনাবাহিনীকে দেশপ্রমিক জনতা মেনে নিবে না

0

জিসাফো ডেস্কঃ  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অভিজ্ঞ লোক থাকা সত্ত্বেও গুলশানের রেস্টুরেন্টে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর ভারত থেকে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ আনার সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীতে হাজার হাজার বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ লোক রয়েছে। কিন্তু তারপরও বিদেশি লোকদের আনা হলো। কিন্তু কেন? এই কেন-এর জবাব তাদেরকে (ক্ষমতাসীনরা) অবশ্যই দিতে হবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন হান্নান শাহ। উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য ও নির্ভেজাল গণতন্ত্রের দাবিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।গুলশানের রেস্টুরেন্টে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হান্নান শাহ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে দেখলাম, গুলশান ঘটনার পর ভারত থেকে কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞ আসলেন। বলা হলো, তারা বিস্ফোরক দ্রব্যের বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের কোথাও এখন পর্যন্ত তথাকথিত দুষ্কৃতিকারী, সন্ত্রাসবাদী ও অন্যরা বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে বলে আমরা তো দেখি নাই। যদি পটকাকে তারা (সরকার) বিস্ফোরক মনে করেন, তাহলে আমার বলার কিছু নাই।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে আমার লজ্জা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কি বোমা নিস্ক্রিয় করা কিংবা উড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রশিক্ষিত লোকজন নাই? হাজার হাজার লোক আছে। আমাদের কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স আছে, সেখানে হাজার হাজার লোক আছে।

সেনাবাহিনীর সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, ‘গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় গুলি করা হলো পয়েন্ট টু টু রাইফেলস থেকে, মারা হলো হ্যান্ডগ্রেনেড, ব্যবহার করা হলো বন্দুক ইত্যাদি। আর ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসীরা দুইটা পিস্তল দিয়ে হামলা করলো। অথচ আমাদের দেশ ও ভারত এখানে বিস্ফোরকের সন্ধান পেল, কিন্তু প্রশ্ন, কোথায় পেলো? বিস্ফোরক দ্রব্যসংক্রান্ত কাজের জন্য লোক এসেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। এরা (সরকার) যেমন বোরকা পরে বাকশাল কায়েম করেছে, ঠিক তেমনি বোরকা পরে কিংবা অন্য কোনো ব্যানারে পরিকল্পনা করার জন্য অন্য কোনো লোক এসেছে বলে আমরা সন্দেহ করছি।

 বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সময় ভারত বললো, তারা সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত, তাদের টিম রেডি আছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোনো অজুহাতে যদি বিদেশি সেনাবাহিনী আমাদের দেশে প্রবেশ করে, তাহলে দেশপ্রেমিক জনগণ সেই বিদেশি সেনাদের এ দেশের মাটিতে থাকতে দেবে না। তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বাবলু, যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুর রহমান খান প্রমুখ।