কেন আপনি বিএনপির সদস্য ফরমে নিবন্ধিত হবেন?

0

চলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদস্য নবায়ন ও প্রাথমিক সদস্য নিবন্ধন কার্যক্রম।গতবারের ৫০ লক্ষ টার্গেট থেকে এবার ১ কোটি নতুন সদস্যের টার্গেট নিয়ে কিছুদিন আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কেন বিএনপির সদস্য ফরম পুরন করে এই দলের নিবন্ধিত কর্মী হতে যাবো? হয়তো ভাবতে পারেন, শুনেছি হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে বিএনপি, তারেক জিয়া টাকার পাহাড় গড়েছিলেন, এতসব শুনার পরও কেন আমরা বিএনপির সদস্য ফরম পূরন করবো?এমন প্রশ্ন আপনার মনে জাগতেই পারে।

তাহলে আসুন একবার ভেবে দেখি, আসলেই কেন আমরা বিএনপির সদস্য ফরম পূরন করবো –

অনেকের অভিযোগ বিএনপির আমলে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে তাদের নেতা কর্মীরা, তারেক জিয়া বিদেশে বহু টাকার পাচার করে দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কিন্তু যারা এসব বলছেন তারা আজও সঠিক কোন প্রমান দেখাতে পারেন নি এ সকল অভিযোগের নিমিত্তে। তখন আপনি বলতেই পারেন, তাহলে যেসকল টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সেসবের ব্যপারে কি বলবেন? হ্যা সত্য, টাকা বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তবে সেটা বিএনপি কিংবা তারেক রহমানের টাকা নয়, যেই আওয়ামীলীগ দেশে হাজারো নাটকের জন্ম দিতে পারে সেই আওয়ামীলীগ যে এই টাকার ব্যপারে নাটক করেনি বিএনপি ও তারেক রহমানের ইমেজ ও রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করতে তার কি গ্যারান্টি দিবেন আপনি? তবে হ্যা এ কথা সত্য ক্ষমতায় থাকাকালীন সরকারী আমলারা কিছুনা কিছু হেরফের করেন তবে এতটা না যতটা এই হরিলুট সরকারের আমলে চলছে।

সদস্য হবার আগে অন্তত একবার হলেও আপনাকে দেখতে হবে দলটির গঠনতন্ত্রগুলো কি কি? দল বাছাই করার ক্ষেত্রে আমি অনুরোধ রাখবো প্রথমেই আপনি সবকটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র গুলা দেখে নিন। আশা ও বিশ্বাস সার্বিকভাবে সকল দিক থেকে চিন্তা করে দেখতে পাবেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে যেই সুন্দর দিকগুলা রয়েছে অন্য কোন দলের গঠনতন্ত্রে দেশ ও জনগনের উন্নয়নের জন্যে এতটা সুন্দর দিক নির্দেশনা রাখা হয়নি।

গত ৮ বছর ধরে দেশ আজ পর্যন্ত এক বিভীষিকাময় অবস্থায় রয়েছে, চলছে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক ক্রান্তিকাল, সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সব সেক্টরে সরকারী আমলারা ইভেন একজন ওয়ার্ড মেম্বারের দ্বারাও চলছে হরিলুটের রাজত্ব। ব্যাংক ডাকাতি, রিজার্ভ লুট, টাকা পাচার, উনয়নের নাম করে একের যায়গায় ১০ দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশকে তলা বিহীন ঝুড়ি উপহার দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

নেই কোন আইনের শাসন, নেই কোন নিরাপত্তা, জঙ্গী উপাধি দিয়ে একের পর এক বিরোধী তরুনদের মেরে ফেলা হচ্ছে। ক্ষমতাকে আকড়ে ধরার জন্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হচ্ছে বিরোধী মতের নেতা কর্মীদের। গুম ও খুন করা হচ্ছে বিরোধী মতের মাথা নাড়া দেওয়া নেতাদেরকে।

নেই কোন বাক স্বাধীনতা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে যিনি মাথা নাড়া দিয়ে দাড়াচ্ছেন তাকেই হয় গুম করা হচ্ছে নয়তো ৫৭ ধারার মামলা দিয়ে কারাগারে পুরে দেওয়া হচ্ছে। গত ৭ বছরে প্রায় ২ লক্ষ মামলা দেওয়া হয়েছে বিরোধী মতের জনগনের বিরুদ্ধে। গুম ও খুন করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার নেতা কর্মী ও সাধারন জনগন।

গুম, খুন থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না দেশের সাধারন জনগনও, আতংকে আজ নিজ ঘরেই অবস্থান করতে পারছেন না দেশের সাধারন মানুষ। রাতের আধারে গুমের ভয়ে বনে জংগলে অবস্থা করতে হচ্ছে সাধারন মানুষদের। গুম হওয়া সন্তানকে ফিরে পেতে আকুতিও জানাতে পারছেননা সন্তানহারা বাবা মায়েরা, সজোরে চিৎকার করে কাঁদতেও পারছেন না সরকারী বাহিনীর পেটুয়াদের জন্যে।

ছাত্রলীগের অত্যাচারে বর্তমানে সারা বাংলাদেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান করছে। টেণ্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, ধর্ষণ, ইভটিজিং সহ এহেন কোন খারাপ কর্ম বাকি নেই যা করছেনা ছাত্রলীগ। ক্ষমতার বলে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও মাদকের প্রভাব বিস্তার করে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গুলা করেছে রনক্ষেত্র। সাধারন ছাত্রছাত্রীরা এদের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারনে ক্যাম্পাসেও ঠিকমতো আসাযাওয়া করতে পারছেনা। ঘর থেকে তুলে এনে বাবার সামনে মেয়েকে ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষন করে মেরে ফেলছে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ এই সন্ত্রাসী সংঘটনের সন্ত্রাসীরা।

ধর্ম নিয়ে এই অবৈধ সরকারের অতিমাত্রার নাটকের কারনে দেশে আজ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের উপর নিজেরাই হামলা চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি জাগাতে মুসলমানদের উপর তার দ্বায় চাপিয়ে দিচ্ছে বর্তমান নাস্তিক সরকার। অন্যদিকে মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যালঘুদের দিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড করিয়ে মুসলমানদের প্রানে আঘাত দিয়ে দাঙ্গার সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

সবকিছু মিলিয়ে এই বাংলাদেশকে ৫৬০০০ বর্গমাইলের এক কারাগার বানিয়ে রেখেছে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা। আর এ থেকে রেহাই পেতে ও বাংলাদেশকে মুক্ত করতে চাই কঠোর অগনিত জনশক্তি ও কঠোর আন্দোলন।

এবার আসুন ভেবে দেখি, এই বিভীষিকাময় অবস্থান থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্তি পেতে কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে ?

আন্দোলনের কথা ভাবা মাত্রই আপনাকে সঠিক নেতৃত্ব নিয়ে ভাবতে হবে, সঠিক নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে দলবদ্ধ ভাবে এগুতে হবে। একা একা কখনোই আপনি এতো বড় যুদ্ধজয় করতে পারবেন না। যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আপনাকে কোন না কোন দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েই যুদ্ধ করতে হবে। যেহেতু আমাদের যুদ্ধটা হবে লুটপাট ও এই গুম খুনের অবৈধ সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা তাই প্রথমেই আমাদেরকে দেখতে হবে এই দেশে বর্তমানে শক্তিশালী দল কোনটি যারা জনগনকে সাথে নিয়ে এই ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারকে হটাতে সক্ষম।

আমাদের দেশে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ এই দুটি দলই হল প্রধান রাজনৈতিক দল। এই দুটি দলের মধ্যে আওয়ামীলীগ দেশের জনগনের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বর্তমানে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। বাকি রইলো একটি দল, বিএনপি। তাহলে যুদ্ধটা হবে গুম খুন ও লুটপাটের অবৈধ সরকার আওয়ামীলীগের সাথে জনগনের, আর জনগনকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিএনপি।

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বিএনপি ছাড়া আর কোন দলকি নেই? অথবা নতুন তৃতীয় দল নিয়ে কি আমরা এগুতে পারিনা?
” হ্যা দেশে আরো অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে কিন্তু তাদের সেই অবস্থান এখনো তৈরি হয়নি একটি অবৈধ ক্ষমতাসীন সরকারকে প্রতিহত করার। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে এমন কোন অবস্থানও নেই তৃতীয় কোন দল গঠন করার। এমন কিছু আভাষ পেলে গুমের সরকার পুরা দলটাকেই গুম করে ফেলবে, নিবন্ধনই দিবেনা নিশ্চিত থাকেন “।

এই দেশের জন্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান বিস্তারিত বলার প্রয়োজন মনে করিনা, উনার অবদান সম্পর্কে সকলেরই জানা। তিনি এই দেশের স্বাধীনতার ঘোষক। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ রাতে যখন বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা মৃত্যুর ভয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছিলেন তখন এই মেজর জিয়া দেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দেন, রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়ে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে এই দেশকে পাকিস্তান হানাদারদের হাত থেকে স্বাধীন করেছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপি এর আগেও এই দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে রক্ষা করেছিলো সাধারন জনগনকে সাথে নিয়ে, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এর আগে বহু আন্দোলন সফল হয়েছিলো। আর সে জন্যেই দলটি ও দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছেন জনগনের আস্থার প্রতীক।

তাহলে আমাদের হাতে অপশন একটাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ছত্রছায়ায় এসে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই দেশকে গুম খুন ও লুটপাটের সরকারের হাত থেকে রক্ষা করা। মুক্ত করা এই দেশকে ভারতীয় আগ্রাসনের হাত থেকে।

যদি উপরোল্লিখিত সকল পয়েন্টে আপনি একমত থেকে থাকেন, তবে সঠিক সময়ের মধ্যে আপনার নিকটস্থ বিএনপি কার্যালয় থেকে সদস্য ফরম সংগ্রহ করে আজই নিবন্ধিত হোন।

কথা দিচ্ছি, আপনাদেরকে নিয়ে আন্দোলন সফল করে বিএনপির ক্ষমতার চেয়ারে বসে যদি দেশবিরোধী কোন কার্যক্রম হাতে নেয় তবে সেদিন প্রতিবাদে আমিও আপনাদের সাথে স্লোগান তুলবো ইন শা আল্লাহ ।

এখন বিবেক, বুদ্ধি দিয়ে ভেবে দেখুন এই দেশকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে হলে একজন দেশপ্রেমী হিসেবে আপনার কি করা উচিত।

আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন নিবন্ধিত কর্মী, এবার আপনার পালা।

মেজর ডালিম এর ফেসবুক ওয়াল থেকে প্রাপ্ত

পোস্ট লিংকঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1377234935724689&id=100003145881626