কুষ্টিয়ায় মেডিকেল ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তুলে বিয়ের প্রস্তাব পুলিশের!

0

জিসাফো ডেস্কঃ কুষ্টিয়ায় মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এঘটনায় পর্নোগ্রাফি মামলা দায়ের করা হলে ট্রাফিক পুলিশের এক পরিদর্শককে জেল হাজতে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামি মোমিনুল ইসলামকে জেল হাজতে পাঠাতে নির্দেশ দেন।

কুষ্টিয়ার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক রতন শেখ জানান, আসামি মোমিনুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে আছেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ট্রাফিক পুলিশের টিআই-টু হিসেবে সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পাবনার গোপালপুর গ্রামের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের এক ছাত্রীর দূরসম্পর্কের চাচা মোমিনুল ইসলাম। ২০১২ সালে ওই ছাত্রী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় আসামি মোমিনুল ইসলাম কুষ্টিয়া ট্রাফিক পুলিশের টিআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পূর্বপরিচিত এবং দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে আসামি মোমিনুল প্রায়ই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে যাওয়া-আসা করতেন।

২০১২ সালের ৬ জুন আসামি মোমিনুল ওই ছাত্রীকে কুষ্টিয়া শহরের একটি আবাসিক হোটেল কাম রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে কোকের সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে অচেতন করে অশ্লীল ছবি তুলে রাখেন। পরবর্তীতে স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকেন মোমিনুল। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে ওই ছাত্রীর পাবনা বিদ্যুৎ বিভাগের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে বিয়ে হয়। এ খবর জানতে পেরে আসামি মোমিনুল ধারণকৃত এসব অশ্লীল ছবি মোবাইলে ওই ছাত্রীর বাবা-মা ও স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং স্বামীর বন্ধু-বান্ধবের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেন।

এ ঘটনায় ৪ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে তার স্বামী ডিভোর্স দেন। বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রী ১৯ এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষ আইনের ২০০৬-এর ৫৭/২ ধারায় আসামি মোমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ মামলায় আসামি মোমিনুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন।