কুরিগ্রামে চাইলো ১০ টাকা কেজি চাউল খাইলো গুলি আহত ২

0

কুড়িগ্রাম রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি চালের জন্য ডিলারের বিরুদ্ধে মিছিল করেন কয়েকজন কার্ডধারী। এ মিছিলে গুলি ছুড়েছে ডিলারের অনুসারীরা। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া ওই এলাকার চেয়ারম্যানসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ডিলার তোতা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোদালকাটি ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের বরাদ্দ করা (ফেয়ার প্রাইজ) ১০ টাকা কেজি চাল না পেয়ে ইউপি সদস্য কামাল হোসেনের কাছে অভিযোগ করেন। ডিলার তোতা প্রামাণিকের কাছে বিষয়টি জানতে চান ওই ইউপি সদস্য। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার পর ডিলারের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই মিছিলে অতর্কিতভাবে শটগানের গুলি ছোড়া হয়। এতে উপজেলার চরসাজাই মণ্ডলপাড়া গ্রামের বিপ্লব (২৬) ও মণ্ডল (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আহত হন কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হ‌ুমায়ূন কবরীসহ (৫০) কয়েকজন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত কয়েকজন অভিযোগ করেন, দুপুরের দিকে চালের দাবিতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে কোদালকাঠি বাজারে আসেন। ডিলারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে। পরে ডিলার গুলি করেন।

চেয়ারম্যান হ‌ুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, ১০ টাকা কেজির চাল না দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তোতা প্রামাণিক ও তাঁর সহযোগীরা লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, ডিলার তোতা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তোতা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অবৈধ শাটারগান থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। ওই অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

রাজিবপুর উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে মোট কার্ড ধারী ১ হাজার ৪২০ জন। যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে, সে ওয়ার্ডে কার্ডধারীর সংখ্যা ২২৬।

ডিলার তোতা প্রামাণিকের দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছেন তিনি। মিছিল নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে লোকজন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে উসকানিতে এ ঘটনা ঘটেছে।
উৎস- প্রথমআলো